০৪:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুলাই ২০২৪, ২ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মাত্রাতিরিক্ত চা পানে হতে পারে ক্যান্সার

মাত্রাতিরিক্ত চা পান অজান্তেই আপনার শরীরে বড় ধরনের ক্ষতি করছে। কোষ্ঠকাঠিন্য, হৃদরোগ এমনকি প্রস্টেট ক্যান্সার বা মূত্রথলির ক্যান্সারের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে অতিরিক্ত চা পানে।

এক কাপ চা সারাদিনের ক্লান্তি দূর করে। আবার এই চা অতিরিক্ত খাওয়া কিন্তু শরীরের জন্য ক্ষতিকর। আমরা অনেকেই জানি না যে, অতিরিক্ত গরম চা খাওয়ার অভ্যাস ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।

এ তথ্য জানিয়েছেন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ (এমসিএইচ সার্জিক্যাল অনকোলজিস্ট) ডা. শুভদীপ চক্রবর্তী।

ডা. চক্রবর্তী বলেন, গরম চা খাদ্যনালিতে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। আর শুধু গরম চা বা কফি নয়, যে কোনো ধরনের পানীয় অতিরিক্ত গরম অবস্থায় পান করলে তা আমাদের খাদ্যনালির অভ্যন্তরের আস্তরণের মারাত্মক ক্ষতি করে। ফলে খাদ্যনালির কোষগুলো ক্রমাগতভাবে নতুন করে জন্মানোর প্রয়োজন হয়।

১. চায়ের মধ্যে থাকা ক্যাফেইন একদিকে যেমন চাঙা করে তোলে, তেমনই অতিরিক্ত চা খেলে বাড়ে উৎকণ্ঠা, উদ্বেগ আর শারীরিক অস্থিরতা।

২. রাত ৮টার পর চা না খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা। এতে করে ব্যাঘাত ঘটতে পারে ঘুমে।

৩. চায়ে থাকা থিওফাইলিন নামের রাসায়নিক পরিপাকের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বাধা দান করে। তাই বেশি চা খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। বদহজমও হতে পারে।

৪. অনেকে ডাক্তারই গর্ভাবস্থায় চা বা কফি বেশি না খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কারণ, চায়ে থাকা ক্যাফেইন গর্ভস্থ শিশুর জন্য ক্ষতিকারক হিসেবে ধরা হয়। খুব ইচ্ছে বা চায়ের নেশা থাকলে দিনে ১ বার চা বা কফি খাওয়া চলতে পারে।

৫. হার্টের সমস্যা থাকলে যতটা সম্ভব কম চা খাওয়াই ভালো।

৬. অনেকেই আবার দাবি করে থাকেন যে, অতিরিক্ত মাত্রায় চা খেলে পুরুষদের প্রস্টেট ক্যান্সার বা মূত্রথলির ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়।

ড. চক্রবর্তী জানান, শুধু ইরানেই নয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের দেশগুলিতে বেশির ভাগ মানুষের অভ্যাস ৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি গরম চা পান করা।

তার মতে, ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম উষ্ণ চা খাওয়াটাই স্বাস্থ্যের পক্ষে উপযুক্ত। এই চেয়ে বেশি গরম চা খেলে বাড়বে ক্যান্সারের ঝুঁকি। তাই চা কফি খাওয়ার আগে খেয়াল রাখবেন যেন অতিরিক্ত গরম না হয়।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

অনির্দিষ্টকালের জন্য দেশের সব স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা

মাত্রাতিরিক্ত চা পানে হতে পারে ক্যান্সার

প্রকাশের সময় : ১১:৫৩:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪

মাত্রাতিরিক্ত চা পান অজান্তেই আপনার শরীরে বড় ধরনের ক্ষতি করছে। কোষ্ঠকাঠিন্য, হৃদরোগ এমনকি প্রস্টেট ক্যান্সার বা মূত্রথলির ক্যান্সারের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে অতিরিক্ত চা পানে।

এক কাপ চা সারাদিনের ক্লান্তি দূর করে। আবার এই চা অতিরিক্ত খাওয়া কিন্তু শরীরের জন্য ক্ষতিকর। আমরা অনেকেই জানি না যে, অতিরিক্ত গরম চা খাওয়ার অভ্যাস ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।

এ তথ্য জানিয়েছেন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ (এমসিএইচ সার্জিক্যাল অনকোলজিস্ট) ডা. শুভদীপ চক্রবর্তী।

ডা. চক্রবর্তী বলেন, গরম চা খাদ্যনালিতে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। আর শুধু গরম চা বা কফি নয়, যে কোনো ধরনের পানীয় অতিরিক্ত গরম অবস্থায় পান করলে তা আমাদের খাদ্যনালির অভ্যন্তরের আস্তরণের মারাত্মক ক্ষতি করে। ফলে খাদ্যনালির কোষগুলো ক্রমাগতভাবে নতুন করে জন্মানোর প্রয়োজন হয়।

১. চায়ের মধ্যে থাকা ক্যাফেইন একদিকে যেমন চাঙা করে তোলে, তেমনই অতিরিক্ত চা খেলে বাড়ে উৎকণ্ঠা, উদ্বেগ আর শারীরিক অস্থিরতা।

২. রাত ৮টার পর চা না খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা। এতে করে ব্যাঘাত ঘটতে পারে ঘুমে।

৩. চায়ে থাকা থিওফাইলিন নামের রাসায়নিক পরিপাকের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বাধা দান করে। তাই বেশি চা খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। বদহজমও হতে পারে।

৪. অনেকে ডাক্তারই গর্ভাবস্থায় চা বা কফি বেশি না খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কারণ, চায়ে থাকা ক্যাফেইন গর্ভস্থ শিশুর জন্য ক্ষতিকারক হিসেবে ধরা হয়। খুব ইচ্ছে বা চায়ের নেশা থাকলে দিনে ১ বার চা বা কফি খাওয়া চলতে পারে।

৫. হার্টের সমস্যা থাকলে যতটা সম্ভব কম চা খাওয়াই ভালো।

৬. অনেকেই আবার দাবি করে থাকেন যে, অতিরিক্ত মাত্রায় চা খেলে পুরুষদের প্রস্টেট ক্যান্সার বা মূত্রথলির ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়।

ড. চক্রবর্তী জানান, শুধু ইরানেই নয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের দেশগুলিতে বেশির ভাগ মানুষের অভ্যাস ৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি গরম চা পান করা।

তার মতে, ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম উষ্ণ চা খাওয়াটাই স্বাস্থ্যের পক্ষে উপযুক্ত। এই চেয়ে বেশি গরম চা খেলে বাড়বে ক্যান্সারের ঝুঁকি। তাই চা কফি খাওয়ার আগে খেয়াল রাখবেন যেন অতিরিক্ত গরম না হয়।