চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ বলেছেন, জেলা পরিষদের বিভিন্ন সড়কের পাশে অব্যবহৃত জমি ব্যবহার করে আধুনিক মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যেই এসব প্রকল্পের দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে। এছাড়া নিচের বাজার এলাকায় জেলা পরিষদের প্রায় তিন বিঘা জমির ওপর বহুতল মার্কেট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে জেলা পরিষদের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব ও বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতির আয়োজনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন শরীফুজ্জামান শরীফ। এসময় জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই নবনিযুক্ত জেলা পরিষদ প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। পরে তাঁর হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ।
চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি চুয়াডাঙ্গা জেলা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক হুসাইন মালিক। পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন দৈনিক সংগ্রামের জেলা প্রতিনিধি আলমগীর হোসেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জেলা পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব লাভ শরীফুজ্জামান শরীফের ব্যক্তিগত অর্জনের পাশাপাশি চুয়াডাঙ্গা জেলার জন্যও গর্বের বিষয়। তাঁর অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক দক্ষতার মাধ্যমে জেলা পরিষদের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও জনমুখী হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে জেলার উন্নয়ন এবং চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান বক্তারা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, “চুয়াডাঙ্গার মানুষের জন্য কাজ করার যে সুযোগ দল আমাকে দিয়েছে, তার জন্য আমি জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে এবং ব্যক্তিগতভাবে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”
তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া চুয়াডাঙ্গার উন্নয়নে কার্যকরভাবে কাজ করা সম্ভব নয়। উন্নয়নের প্রতিটি পদক্ষেপে সাংবাদিকদের গঠনমূলক ভূমিকা প্রয়োজন।”
জেলা পরিষদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদ বর্তমানে দেশের সর্বনিম্ন গ্রেডের জেলা পরিষদগুলোর একটি হওয়ায় এখানকার রাজস্ব আয় সীমিত। তবে জেলা পরিষদের প্রায় ৯৩০ একর জমি রয়েছে, যা সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে কাজে লাগানো গেলে রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা সম্ভব।
তিনি বলেন, অতীতে এসব সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়নি। জেলা পরিষদের ঐতিহ্যবাহী ডাকবাংলো দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় অতিথিদের আবাসন হিসেবে ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে তার কার্যকারিতা অনেকটাই কমে গেছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট স্থান পরিদর্শন করে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক সময়ের সমীকরণের প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপন বলেন, “আজ আমরা যে মানুষটিকে সংবর্ধনা জানাতে একত্রিত হয়েছি, তাঁর সম্পর্কে একটাই কথা বলা যায়— ‘তোমার পরিচয় এই বলে খ্যাত হোক, তুমি আমাদেরই লোক।’ শরীফুজ্জামান শরীফ আমাদেরই একজন, তিনি চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সম্মানিত সদস্য।”
তিনি বলেন, শরীফুজ্জামান শরীফের এই দায়িত্বপ্রাপ্তি চুয়াডাঙ্গার জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা। তাঁর নেতৃত্বে জেলার উন্নয়ন কার্যক্রম আরও বেগবান হবে এবং চুয়াডাঙ্গা বড় বড় জেলার সঙ্গে সমানতালে এগিয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।
নাজমুল হক স্বপন আরও বলেন, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব জেলার অন্যতম আইকনিক প্রতিষ্ঠান। এখানকার সাংবাদিকরা প্রতিনিয়ত জেলার সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়নের চিত্র দেশবাসীর সামনে তুলে ধরছেন। তাই প্রেসক্লাবের উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এসময় তিনি চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের বিদ্যমান তিনতলা ভবনকে চারতলায় উন্নীত করার প্রস্তাবও জেলা পরিষদ প্রশাসকের কাছে তুলে ধরেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সিদ্দিকুর রহমান, দৈনিক আজকের চুয়াডাঙ্গা পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক বিপুল আশরাফ, দৈনিক আজকের খাসখবর পত্রিকার প্রধান সম্পাদক রাজিব হাসান কচি, দৈনিক পশ্চিমাঞ্চল পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক আজাদ মালিতা, দৈনিক মাথাভাঙ্গা পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক সরদার আলামিন, প্রেসক্লাব সদস্য মফিজুর রহমান জোয়ার্দার, মিজানুর রহমান, এম এম আলাউদ্দিন, অ্যাডভোকেট আব্দুর রউফ, অ্যাডভোকেট আহসানসহ আরও অনেকে।
অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসকের প্রতি সাংবাদিক সমাজের শুভকামনা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটায়।
এএইচ
নিজস্ব প্রতিবেদক 






















