চুয়াডাঙ্গার দর্শনা পৌর এলাকার মুজিবনগর সড়কের পাশে দর্শনা প্রেসক্লাবের বিপরীতে অবস্থিত একটি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে। জমির মালিক পক্ষের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভাড়াভিত্তিক ব্যবহৃত জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে গেলে এক পক্ষের প্রতিনিধির ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট জমিতে দীর্ঘদিন ধরে একটি ইলেকট্রিক দোকান ও একটি চায়ের দোকান ভাড়াভিত্তিক পরিচালিত হয়ে আসছে। জমির মালিক নাহিদ কবীরের দাবি, প্রায় দুই বছর ধরে নাসির উদ্দিন ও তার ছেলেরা জমিটির একটি অংশ দখলের চেষ্টা করে আসছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৪ মার্চ দুপুরে নাসির উদ্দিন, তার ছেলে শাহরিয়ার কবীর অঙ্কুর এবং তাদের সহযোগীরা টিন ও বাঁশ দিয়ে ঘর নির্মাণের চেষ্টা করলে নাহিদ কবীর বাধা দেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে গত ৯ জুন সকালে পুনরায় ইট, বালি ও সিমেন্ট এনে স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে দর্শনা পৌরসভার এক কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে কাজ বন্ধ রাখা হয়। পরদিন ১০ জুন নির্মাণাধীন দেয়ালের কয়েকটি ইট খুলে রাখা অবস্থায় দেখা যায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষ একে অপরকে দায়ী করছে।
নাহিদ কবীর দাবি করেন, তার নামে খারিজকৃত ৬ দশমিক ৩০ শতক জমির বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। তিনি বলেন, ২০২১ সালে তৎকালীন পৌর মেয়রের উপস্থিতিতে সার্ভেয়ার দিয়ে জমি পরিমাপ করে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতাও হয়েছিল। তার অভিযোগ, নাসির উদ্দিনের অংশ মাত্র ০ দশমিক ২৬ শতক হলেও রাস্তার সামনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি দর্শনা পৌরসভায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলেও জানান।
এ বিষয়ে দর্শনা থানার এসআই আরিফুল ইসলাম অবগত রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে দর্শনা পৌরসভার পক্ষ থেকে মোঃ হারুন ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের ভিত্তিতে আপাতত দোকানেের ইটগাথা কার্যক্রম বন্ধ করেন এবং তিনি বলেন বিষয়টি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে নাসির উদ্দিনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ছেলে শাহরিয়ার কবীর অঙ্কুর ফোন রিসিভ করেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সরাসরি অভিযোগের জবাব না দিয়ে প্রতিবেদকের প্রশ্নের ধরন নিয়ে আপত্তি তোলেন।
তিনি বলেন, “আপনি কি আমাকে এ ধরনের প্রশ্ন করার অথরিটি রাখেন? আপনি কি আমাকে সাংবাদিকতা শেখাচ্ছেন?”
একপর্যায়ে তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিবেদক এক পক্ষের বক্তব্যকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি বলেন, “আপনি তার পক্ষ নিয়ে কথা বলছেন। এটা সাংবাদিকতা নয়।”
পরবর্তীতে তিনি আরও বলেন, “আপনার কি এই প্রশ্ন করার অধিকার আছে? আপনি কি এর অথরিটি? আপনি তো থানা-পুলিশ নন, আদালতও নন। আপনি কি বিচার করতে এসেছেন?”
শাহরিয়ার কবীর অঙ্কুর আরও বলেন, “আপনার কাছে কেউ অভিযোগ করলেই কি সেটি সত্য হয়ে যায়? কোনো ভুক্তভোগী অভিযোগ করতে পারে না—এটাই কি সাংবাদিকতা?”
কথোপকথনের এক পর্যায়ে তিনি সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তিনি জমি-সংক্রান্ত বিষয়ে লিখিত বক্তব্য দেওয়ার ইচ্ছার কথাও জানান।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কোনো ব্যক্তি নিজেকে ক্ষতিগ্রস্ত বা ভুক্তভোগী মনে করলে তিনি সংবাদমাধ্যমের কাছে অভিযোগ, তথ্য বা বক্তব্য উপস্থাপন করতে পারেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই, উভয় পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনার মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করাই পেশাদার সাংবাদিকতার স্বীকৃত নীতি।
এলাকাবাসী ও সচেতন মহল মনে করছেন, দীর্ঘদিনের এ জমি-সংক্রান্ত বিরোধ নিরসনে উভয় পক্ষের কাগজপত্র যাচাই করে দর্শনা পৌরসভা, প্রশাসন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান জরুরি। অন্যথায় বিরোধ আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা।
এএইচ
দর্শনা অফিস 





















