চোখের জলে প্রিয় শিক্ষক মাহজেবীন ওরফে চন্দনাকে বিদায় জানালেন চুয়াডাঙ্গার বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) সীমান্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শতশত শিক্ষার্থী, স্বজনরা।
শনিবার (৩১) সকাল সাড়ে ১০টায় চুয়াডাঙ্গা শহরের জান্নাতুল মওলা জামে মসজিদে জানাজার নামায শেষে কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। জানাযার নামাযে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী, সহকর্মী, অভিভাবক, প্রতিবেশী, বন্ধু ও স্বজনসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের ঢল নামে।
এর আগে শুক্রবার (৩০ মে) বিকেল ৪টার দিকে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে মোছা. মাহজেবীনের বয়স হয়েছিল ৫৪ বছর। গভীর রাতে চুয়াডাঙ্গা শহরের গুলশানপাড়ায় তার নিজ বাড়িতে নেয়া হয় মরদেহ। রাতভর গুলশানপাড়ার বাড়িতে ছিল কান্নার মাতম। ভোর থেকেই প্রিয় শিক্ষিকাকে এক নজর দেখতে ভিড় করেন সীমান্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীসহ আশপাশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
আরও পড়ুন
চুয়াডাঙ্গার সীমান্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহজেবীন মারা গেছেন
প্রয়াত মাহজেবিন চন্দনা চুয়াডাঙ্গা পৌর শহরের গুলশানপাড়ার বাসিন্দা ও চুয়াডাঙ্গা জেলা স্যানেটারি ইন্সপেক্টর ফারুক হোসেনের স্ত্রী। মাহজেবিন চন্দনা দামুড়হুদার জয়রামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রয়াত প্রধান শিক্ষক মৃত. মহিউদ্দীন ও চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সুপরিচিত শিক্ষক তোতা আপার মেয়ে।
শিক্ষিকার বাড়িতে দেখা যায় কেউ দাঁড়িয়ে, কেউ মাটিতে বসে চোখের জল ফেলে বলেছেন- ‘ম্যাডাম আর কখনও ক্লাসে আসবেন না, এটা ভাবতেই পারছি না’
শিক্ষিকার একজন সাবেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদের জীবনে তার অবদান কেউ পূরণ করতে পারবে না। তিনি ছিলেন আদর্শের প্রতিচ্ছবি। তার প্রয়াণ আমাদের জন্য গভীর ক্ষতের সমান।’
শিক্ষার্থীরা আরোও বলেন, ‘তিনি শুধু একজন শিক্ষক নন, ছিলেন আমাদের পথপ্রদর্শক ও অভিভাবক। তার মৃত্যুতে শুধু সীমান্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয় নয়, চুয়াডাঙ্গা জেলার শিক্ষা অঙ্গন হারাল এক নিবেদিত প্রাণ।’ গতকাল সকালে তার জানাজা ও দাফন কারে্য মানুষের ঢল নামে। অংশ নেন চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির পরিচালন অধিনায়ক কর্নেল নাজমুল হাসান, জেলা সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন আহম্মেদ, জেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকবৃন্দ, অভিভাবক, প্রতিবেশী, বন্ধু ও স্বজনসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ।
মোছা. মাহজেবীনের ভাই মাহমুদ বনী বলেন, আমার বোন ৩৩ বছর যাবত সীমান্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। প্রায় ১৫ দিন আগে আমার বোনের পায়ে ছোট একটি ফুসকুড়ি হলে চুয়াডাঙ্গার বর্ডার গার্ড হাসপাতাল থেকে অপারেশন করা হয়। পরবর্তীতে সেখানে ইনফেকশন হয়।
তিনি আরও বলেন, গত বৃহস্পতিবার (২৯ মে) উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পপুলার হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা শেষে সুস্থ ছিলেন। এছাড়া তিনি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন। গত শুক্রবার বিকেলে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট অনুভব করেন। পরে দ্রুত ঢাকার শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষনা করেন। আমার বোন সুস্থ ছিলেন, হঠাৎই তিনি মারা গেলেন।
প্রধান শিক্ষক মোছা: মাহজেবীন এলাকাসহ স্থানীয়ভাবে বেশ জনপ্রিয়, শ্রদ্ধাভাজন ও সবার প্রিয় ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্বামী, ২ পুত্র, ভাই-বোনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। বড় ছেলে মো: মাযহারুল ইসলাম শ্রীকোল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক ছোট ছেলে নাম: মো: সাইফ আল সাবহা বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
শিক্ষক মাহজেবীনের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকার বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ গভীর শোক, শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।
রেডিও চুয়াডাঙ্গা ডেস্ক 






















