১০:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় ‘স্পেশাল ফোর্স’ পরিচয়ে ভয়ভীতি, অনুসন্ধানে সরকারি দুই কর্মচারীর উপস্থিতি নিয়ে চাঞ্চল্য

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়নের রাজাপুরে ‘স্পেশাল ফোর্স’ ও ডিবি পুলিশ পরিচয়ে একটি বাড়িতে গিয়ে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের অনুসন্ধানে ঘটনার সময় ওই বাড়িতে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী উপ-পরিদর্শক লিয়াকত আলী এবং চুয়াডাঙ্গা প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের টেকনিশিয়ান-১ রাজিবুল ইসলাম ওরফে খলিফার উপস্থিতির বিষয়টি সামনে এসেছে। তাঁদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মী হিসেবে পরিচিত লাল্টু ও জাফর ইকবালও ছিলেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার বিষয়ে আজ রোববার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজাপুর গ্রামের মাসুদ রানার ছেলে মো. আকাশ (২৭) বাদি হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গত ৩ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে ৪/৫ জন ব্যক্তি তাঁদের বাড়িতে আসেন। তাঁদের একজনের পরনে ডিবি পুলিশের পোশাক ও মুখে মাস্ক ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। ওই ব্যক্তিরা আকাশ ও তাঁর বাবা মাসুদ রানাকে খুঁজতে থাকেন। এ সময় তাঁর মা মনিরা খাতুন তাঁদের বাড়িতে না থাকার কথা জানালে ডিবি পরিচয়ধারীরা ছেলেকে রুস্তমের সঙ্গে কোনো ধরনের ঝামেলা না করার জন্য নিষেধ করতে বলেন এবং নিজেদের ‘স্পেশাল ফোর্স’ পরিচয় দিয়ে প্রতিবেশি রুস্তম তাঁদের ঢাকায় পাঠিয়েছেন বলে জানান। অভিযোগে আরও বলা হয়, মনিরা খাতুনকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে হাতে হ্যান্ডক্যাপ লাগিয়ে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার ভয় দেখানো হয়।

এরপর ওই ব্যক্তিরা আকাশের চাচাতো ভাই রাজনের বাড়িতেও গিয়ে তাঁকে খুঁজতে থাকেন এবং রুস্তমের সঙ্গে কোনো ধরনের ঝামেলা না করার জন্য সতর্ক করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় আকাশের মেজো চাচা আবু সাইদ তাঁদের পরিচয় জানতে চাইলে তাঁরা নিজেদের ‘স্পেশাল ফোর্স’ বলে পরিচয় দেন এবং রুস্তমের সঙ্গে ঝামেলা করলে মামলা দিয়ে ধরে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আকাশের দাবি, গ্রাম্য মসজিদ কমিটি নিয়ে প্রতিবেশি রুস্তমের সঙ্গে তাঁর বাবার পূর্ববিরোধ ছিল। সেই বিরোধের কারণেই রুস্তম এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে তাঁদের ধারণা।

অভিযোগের অনুসন্ধানে রেডিও চুয়াডাঙ্গার কাছে ঘটনার দিন ওই এলাকায় যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন চুয়াডাঙ্গা প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের টেকনিশিয়ান-১ রাজিবুল ইসলাম ওরফে খলিফা। তাঁর দাবি, চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার ও সদর থানার ওসিকে অবহিত করে ওই এলাকায় মাদক নির্মূল কমিটি গঠনের উদ্দেশ্যে তাঁরা গিয়েছিলেন। তাঁর বন্ধু রুস্তম তাঁকে মাসুদ রানাকে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে জানালে তিনি মাসুদ রানার বাড়িতে যান বলেও জানান। তবে রাজিবুল ইসলাম দাবি করেন, তাঁরা ডিবি পুলিশ পরিচয় দেননি এবং কাউকে কোনো ধরনের ভয়ভীতিও দেখাননি।

মাদক ব্যবসায়ীর তথ্য পাওয়ার পর সরাসরি তাঁর বাড়িতে গিয়ে তথ্য নেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত—এ প্রশ্নের জবাবে রাজিবুল ইসলাম বলেন, এ জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী উপ-পরিদর্শক লিয়াকত আলী এবং মানবধিকার কর্মীদের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়েছিলেন। তাঁর ভাষ্য, তাঁরাই জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। পরে মাসুদ রানা ও রুস্তমের মধ্যে পূর্ববিরোধের বিষয়টি জানতে পেরে তাঁরা সেখান থেকে চলে আসেন।

তবে রাজিবুল ইসলামের দাবি অনুযায়ী এসপি ও সদর থানার ওসিকে বিষয়টি অবহিত করার কথা থাকলেও ঘটনার পর চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি প্রতিবেদককে জানান, এ ধরনের কোনো মাদক নির্মূল কমিটির বিষয়ে তাঁকে কেউ অবহিত করেননি। ফলে সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পরিচালিত কথিত উদ্যোগটির আনুষ্ঠানিকতা ও সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এদিকে, বক্তব্য নেওয়ার কিছুক্ষণ পর রাজিবুল ইসলাম ওরফে খলিফা প্রতিবেদককে ফোন করেন। ওই কথোপকথনে তিনি পুলিশ সুপারের নাম উল্লেখ করে বলেন, এসপি স্যার আমাকে কল দিয়েছিলেন। জিজ্ঞাসা করছে কোন সাংবাদিক তোমাকে বিরক্ত করছে। আমি নাম বলেনি…একই সঙ্গে থানায় সাধারণ ডায়েরি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ কথোপকথনের কল রেকর্ড প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী উপ-পরিদর্শক লিয়াকত আলী বলেন, রাজিবুল ইসলাম তাঁকে একজন মাদক ব্যবসায়ীর বিষয়ে তথ্য নেওয়ার কথা বলেছিলেন। সে কারণে তিনিও তাঁদের সঙ্গে যান। তবে পরে তিনি বুঝতে পারেন, বিষয়টি অন্য ঘটনা। তাঁর দাবি, তিনি মাসুদ রানার পরিবারের কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করেননি; মানবধিকার কর্মী জাফর জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। তাঁরাও কেউ ডিবি পুলিশ পরিচয় দেননি বলে দাবি করেন তিনি।

তবে মাদক ব্যবসায়ীর তথ্য নিতে সেই ব্যক্তির বাড়িতেই গিয়ে তথ্য সংগ্রহের যৌক্তিকতা এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অন্য কোনো সদস্য সেখানে কেন ছিলেন না—এমন প্রশ্নের জবাবে লিয়াকত আলী সন্তোষজনক কোনো উত্তর দিতে পারেননি।

ভুক্তভোগী মাসুদ রানা বলেন, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। তাঁর অভিযোগ, তাঁর বাড়িতে গিয়ে তাঁর স্ত্রীকে ঢাকা থেকে আসা ‘স্পেশাল ফোর্স’ ও ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমি চেয়ারম্যান নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। আর আমি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এটা হাস্যকর। প্রশাসনের তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন হবে।

অভিযোগের বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার পরিদর্শক (ওসি) মারুফ রহমান রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, “এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।”

চুয়াডাঙ্গা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মনিরুজ্জামান বলেন, “মানবাধিকার সংস্থার সঙ্গে আমাদের কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই। আর এএসআই লিয়াকত আলী গতকাল আমাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। তবে সেখানে যাওয়ার আগে আমাকে অবহিত করা উচিত ছিল। ভুক্তভোগী আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখব।”

চুয়াডাঙ্গা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, “বড় ধরনের কোনো অভিযান হলে আমাকে অবহিত করা হয়। ছোটখাটো অভিযান হলে সাধারণত পরিদর্শককে জানানো হয়। তবে এ অভিযোগের বিষয়টি আমার জানা নেই। এএসআই লিয়াকত আলী যদি কোনো মাদক ব্যবসায়ীর তথ্য সংগ্রহের জন্য সরাসরি তাঁর বাড়িতে যান, তাহলে ওই ব্যক্তি সতর্ক হয়ে যেতে পারেন বলে আমি মনে করি। তবে থানায় করা অভিযোগের বিষয়েও আমার জানা নেই। আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে আগামীকাল বিস্তারিত জানাতে পারব।”

এ বিষয়ে জানতে চুয়াডাঙ্গা মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের সরকারি নম্বরে কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় ‘স্পেশাল ফোর্স’ পরিচয়ে ভয়ভীতি, অনুসন্ধানে সরকারি দুই কর্মচারীর উপস্থিতি নিয়ে চাঞ্চল্য

চুয়াডাঙ্গায় ‘স্পেশাল ফোর্স’ পরিচয়ে ভয়ভীতি, অনুসন্ধানে সরকারি দুই কর্মচারীর উপস্থিতি নিয়ে চাঞ্চল্য

প্রকাশের সময় : ০৯:০৩:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়নের রাজাপুরে ‘স্পেশাল ফোর্স’ ও ডিবি পুলিশ পরিচয়ে একটি বাড়িতে গিয়ে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের অনুসন্ধানে ঘটনার সময় ওই বাড়িতে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী উপ-পরিদর্শক লিয়াকত আলী এবং চুয়াডাঙ্গা প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের টেকনিশিয়ান-১ রাজিবুল ইসলাম ওরফে খলিফার উপস্থিতির বিষয়টি সামনে এসেছে। তাঁদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মী হিসেবে পরিচিত লাল্টু ও জাফর ইকবালও ছিলেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার বিষয়ে আজ রোববার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজাপুর গ্রামের মাসুদ রানার ছেলে মো. আকাশ (২৭) বাদি হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গত ৩ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে ৪/৫ জন ব্যক্তি তাঁদের বাড়িতে আসেন। তাঁদের একজনের পরনে ডিবি পুলিশের পোশাক ও মুখে মাস্ক ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। ওই ব্যক্তিরা আকাশ ও তাঁর বাবা মাসুদ রানাকে খুঁজতে থাকেন। এ সময় তাঁর মা মনিরা খাতুন তাঁদের বাড়িতে না থাকার কথা জানালে ডিবি পরিচয়ধারীরা ছেলেকে রুস্তমের সঙ্গে কোনো ধরনের ঝামেলা না করার জন্য নিষেধ করতে বলেন এবং নিজেদের ‘স্পেশাল ফোর্স’ পরিচয় দিয়ে প্রতিবেশি রুস্তম তাঁদের ঢাকায় পাঠিয়েছেন বলে জানান। অভিযোগে আরও বলা হয়, মনিরা খাতুনকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে হাতে হ্যান্ডক্যাপ লাগিয়ে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার ভয় দেখানো হয়।

এরপর ওই ব্যক্তিরা আকাশের চাচাতো ভাই রাজনের বাড়িতেও গিয়ে তাঁকে খুঁজতে থাকেন এবং রুস্তমের সঙ্গে কোনো ধরনের ঝামেলা না করার জন্য সতর্ক করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় আকাশের মেজো চাচা আবু সাইদ তাঁদের পরিচয় জানতে চাইলে তাঁরা নিজেদের ‘স্পেশাল ফোর্স’ বলে পরিচয় দেন এবং রুস্তমের সঙ্গে ঝামেলা করলে মামলা দিয়ে ধরে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আকাশের দাবি, গ্রাম্য মসজিদ কমিটি নিয়ে প্রতিবেশি রুস্তমের সঙ্গে তাঁর বাবার পূর্ববিরোধ ছিল। সেই বিরোধের কারণেই রুস্তম এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে তাঁদের ধারণা।

অভিযোগের অনুসন্ধানে রেডিও চুয়াডাঙ্গার কাছে ঘটনার দিন ওই এলাকায় যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন চুয়াডাঙ্গা প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের টেকনিশিয়ান-১ রাজিবুল ইসলাম ওরফে খলিফা। তাঁর দাবি, চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার ও সদর থানার ওসিকে অবহিত করে ওই এলাকায় মাদক নির্মূল কমিটি গঠনের উদ্দেশ্যে তাঁরা গিয়েছিলেন। তাঁর বন্ধু রুস্তম তাঁকে মাসুদ রানাকে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে জানালে তিনি মাসুদ রানার বাড়িতে যান বলেও জানান। তবে রাজিবুল ইসলাম দাবি করেন, তাঁরা ডিবি পুলিশ পরিচয় দেননি এবং কাউকে কোনো ধরনের ভয়ভীতিও দেখাননি।

মাদক ব্যবসায়ীর তথ্য পাওয়ার পর সরাসরি তাঁর বাড়িতে গিয়ে তথ্য নেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত—এ প্রশ্নের জবাবে রাজিবুল ইসলাম বলেন, এ জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী উপ-পরিদর্শক লিয়াকত আলী এবং মানবধিকার কর্মীদের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়েছিলেন। তাঁর ভাষ্য, তাঁরাই জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। পরে মাসুদ রানা ও রুস্তমের মধ্যে পূর্ববিরোধের বিষয়টি জানতে পেরে তাঁরা সেখান থেকে চলে আসেন।

তবে রাজিবুল ইসলামের দাবি অনুযায়ী এসপি ও সদর থানার ওসিকে বিষয়টি অবহিত করার কথা থাকলেও ঘটনার পর চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি প্রতিবেদককে জানান, এ ধরনের কোনো মাদক নির্মূল কমিটির বিষয়ে তাঁকে কেউ অবহিত করেননি। ফলে সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পরিচালিত কথিত উদ্যোগটির আনুষ্ঠানিকতা ও সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এদিকে, বক্তব্য নেওয়ার কিছুক্ষণ পর রাজিবুল ইসলাম ওরফে খলিফা প্রতিবেদককে ফোন করেন। ওই কথোপকথনে তিনি পুলিশ সুপারের নাম উল্লেখ করে বলেন, এসপি স্যার আমাকে কল দিয়েছিলেন। জিজ্ঞাসা করছে কোন সাংবাদিক তোমাকে বিরক্ত করছে। আমি নাম বলেনি…একই সঙ্গে থানায় সাধারণ ডায়েরি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ কথোপকথনের কল রেকর্ড প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী উপ-পরিদর্শক লিয়াকত আলী বলেন, রাজিবুল ইসলাম তাঁকে একজন মাদক ব্যবসায়ীর বিষয়ে তথ্য নেওয়ার কথা বলেছিলেন। সে কারণে তিনিও তাঁদের সঙ্গে যান। তবে পরে তিনি বুঝতে পারেন, বিষয়টি অন্য ঘটনা। তাঁর দাবি, তিনি মাসুদ রানার পরিবারের কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করেননি; মানবধিকার কর্মী জাফর জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। তাঁরাও কেউ ডিবি পুলিশ পরিচয় দেননি বলে দাবি করেন তিনি।

তবে মাদক ব্যবসায়ীর তথ্য নিতে সেই ব্যক্তির বাড়িতেই গিয়ে তথ্য সংগ্রহের যৌক্তিকতা এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অন্য কোনো সদস্য সেখানে কেন ছিলেন না—এমন প্রশ্নের জবাবে লিয়াকত আলী সন্তোষজনক কোনো উত্তর দিতে পারেননি।

ভুক্তভোগী মাসুদ রানা বলেন, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। তাঁর অভিযোগ, তাঁর বাড়িতে গিয়ে তাঁর স্ত্রীকে ঢাকা থেকে আসা ‘স্পেশাল ফোর্স’ ও ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমি চেয়ারম্যান নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। আর আমি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এটা হাস্যকর। প্রশাসনের তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন হবে।

অভিযোগের বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার পরিদর্শক (ওসি) মারুফ রহমান রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, “এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।”

চুয়াডাঙ্গা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মনিরুজ্জামান বলেন, “মানবাধিকার সংস্থার সঙ্গে আমাদের কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই। আর এএসআই লিয়াকত আলী গতকাল আমাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। তবে সেখানে যাওয়ার আগে আমাকে অবহিত করা উচিত ছিল। ভুক্তভোগী আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখব।”

চুয়াডাঙ্গা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, “বড় ধরনের কোনো অভিযান হলে আমাকে অবহিত করা হয়। ছোটখাটো অভিযান হলে সাধারণত পরিদর্শককে জানানো হয়। তবে এ অভিযোগের বিষয়টি আমার জানা নেই। এএসআই লিয়াকত আলী যদি কোনো মাদক ব্যবসায়ীর তথ্য সংগ্রহের জন্য সরাসরি তাঁর বাড়িতে যান, তাহলে ওই ব্যক্তি সতর্ক হয়ে যেতে পারেন বলে আমি মনে করি। তবে থানায় করা অভিযোগের বিষয়েও আমার জানা নেই। আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে আগামীকাল বিস্তারিত জানাতে পারব।”

এ বিষয়ে জানতে চুয়াডাঙ্গা মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের সরকারি নম্বরে কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।