চুয়াডাঙ্গায় পৃথক ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্বামী-স্ত্রীসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলার সদর ও দামুড়হুদা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ইজিবাইক চার্জ দিতে গিয়ে একজন, গরুর ঘাস কাটার বৈদ্যুতিক মেশিনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্বামী-স্ত্রী এবং মোটর চুরির সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া গ্রামের চকপাড়ায় মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে নিজ বাড়িতে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চার্জ দেওয়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন নাসির উদ্দীন (৪০)। তিনি ওই গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে এবং পেশায় ইজিবাইকচালক। প্রতিবেশী নয়ন জানান, অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত নাসিরকে তিনি ও পরিবারের সদস্যরা দ্রুত চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে ইসিজিসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আল বেলাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শাপলা খাতুন জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার দুপুর ৩টার দিকে দামুড়হুদা উপজেলার নতিপোতা ইউনিয়নের কালিয়াবকরী গ্রামে বৈদ্যুতিক মেশিনে গরুর ঘাস কাটার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন কৃষক লিটন আলী। তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তাঁর স্ত্রী লিপা খাতুনও। পরে স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা দুজনকে মৃত অবস্থায় পেয়েছি। দুজনের শরীরের আলামত পাওয়া গেছে যা প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে দামুড়হুদা উপজেলার লোকনাথপুরে বাড়ির বৈদ্যুতিক মোটর চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শফিকুল ইসলাম ওরফে বরু (৪৮) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। সোমবার দিবাগত রাত ১টা থেকে ভোর ৫টার মধ্যে যেকোনো সময় লোকনাথপুর গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। তিনি দর্শনা পৌর এলাকার শান্তিপাড়ার মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোটর চুরির উদ্দেশ্যে কেরামত আলীর বাড়িতে প্রবেশ করেন শফিকুল। একপর্যায়ে কলপাড়ে থাকা মোটরের বৈদ্যুতিক সংযোগের তার কাটার সময় তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এতে তাঁর শরীরের কয়েকটি অংশ পুড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। ভোরে বাড়ির এক নারী তাকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
দামুড়হুদা মডেল থানার কর্তব্যরত ডিউটি অফিসার বিষয়টি নিশ্চিত করে রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, দামুড়হুদা উপজেলায় পৃথকস্থানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্বামী-স্ত্রী সহ ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এএইচ
নিজস্ব প্রতিবেদক 












