০৭:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আলমডাঙ্গায় তিনজনকে গাছে বেঁধে দুটি মোটরসাইকেলসহ মিলাদের খিচুড়ি ছিনতাই

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে দুই শিশুসহ তিনজনকে গাছের সঙ্গে বেঁধে তাণ্ডব চালিয়েছে মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি মোটরসাইকেল, নগদ টাকা, মুঠোফোন ও মিলাদ মাহফিলের জন্য নেওয়া তিন প্যাকেট খিচুড়ি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) রাতে আলমডাঙ্গা উপজেলার ফরিদপুর-গড়চাপড়া সড়কের ঘোড়ামারা ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ফরিদপুর গ্রামের বাসিন্দা বিপ্লব হোসেন জানান, সোমবার রাতে মোটরসাইকেলযোগে তিনি গড়চাপড়া গ্রামের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে ফরিদপুর-গড়চাপড়া মাঠের ঘোড়ামারা ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে ছয়জন মুখোশধারী ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁর পথরোধ করেন। এরপর অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, প্রায় দুই হাজার টাকা ও একটি মুঠোফোন ছিনিয়ে নেন তাঁরা। পরে তাঁকে পাশের একটি মেহগনি বাগানে নিয়ে গামছা দিয়ে হাত-পা বেঁধে গাছের সঙ্গে আটকে রাখা হয়। এ সময় একজন দুর্বৃত্ত সেখানে পাহারায় ছিল বলে জানান তিনি।

অপর ভুক্তভোগী গড়চাপড়া গ্রামের শুকুর আলী জানান, পারকুলা এলাকায় একটি মিলাদ মাহফিল শেষে রাত আনুমানিক ৯টার দিকে দুই শিশুসন্তান সজিব ও রাজীবকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। ঘোড়ামারা ব্রিজের কাছে পৌঁছালে কয়েকজন দেশীয় অস্ত্রধারী তাঁদের পথরোধ করে। এরপর অস্ত্রের মুখে তাঁর মোটরসাইকেল, সঙ্গে থাকা ৫০ টাকা এবং মিলাদ মাহফিল থেকে পাওয়া তিন প্যাকেট খিচুড়ি নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

শুকুর আলী বলেন, দুর্বৃত্তরা মালামাল নিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর দুই সন্তান কান্নাকাটি শুরু করলে তাদের মারধর করা হয়। পরে তাঁকেসহ দুই শিশুকে একটি মেহগনি বাগানে নিয়ে গামছা দিয়ে বেঁধে রাখা হয়।

তিনি জানান, প্রায় ১০ মিনিট পর পাহারায় থাকা দুর্বৃত্ত কিছুটা দূরে সরে গেলে সুযোগ বুঝে তিনি হাত-পায়ের বাঁধন খুলে ফেলেন। এরপর দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে গিয়ে গ্রামবাসীকে ঘটনাটি জানান। পরে কৌশলে বাঁধন খুলে পালিয়ে যান বিপ্লব হোসেনও।

ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রাতের সড়কে পথচারীদের নিরাপত্তা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ওই ঘটনায় আইনগত বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জীবননগরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

আলমডাঙ্গায় তিনজনকে গাছে বেঁধে দুটি মোটরসাইকেলসহ মিলাদের খিচুড়ি ছিনতাই

প্রকাশের সময় : ০৬:২৬:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে দুই শিশুসহ তিনজনকে গাছের সঙ্গে বেঁধে তাণ্ডব চালিয়েছে মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি মোটরসাইকেল, নগদ টাকা, মুঠোফোন ও মিলাদ মাহফিলের জন্য নেওয়া তিন প্যাকেট খিচুড়ি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) রাতে আলমডাঙ্গা উপজেলার ফরিদপুর-গড়চাপড়া সড়কের ঘোড়ামারা ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ফরিদপুর গ্রামের বাসিন্দা বিপ্লব হোসেন জানান, সোমবার রাতে মোটরসাইকেলযোগে তিনি গড়চাপড়া গ্রামের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে ফরিদপুর-গড়চাপড়া মাঠের ঘোড়ামারা ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে ছয়জন মুখোশধারী ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁর পথরোধ করেন। এরপর অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, প্রায় দুই হাজার টাকা ও একটি মুঠোফোন ছিনিয়ে নেন তাঁরা। পরে তাঁকে পাশের একটি মেহগনি বাগানে নিয়ে গামছা দিয়ে হাত-পা বেঁধে গাছের সঙ্গে আটকে রাখা হয়। এ সময় একজন দুর্বৃত্ত সেখানে পাহারায় ছিল বলে জানান তিনি।

অপর ভুক্তভোগী গড়চাপড়া গ্রামের শুকুর আলী জানান, পারকুলা এলাকায় একটি মিলাদ মাহফিল শেষে রাত আনুমানিক ৯টার দিকে দুই শিশুসন্তান সজিব ও রাজীবকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। ঘোড়ামারা ব্রিজের কাছে পৌঁছালে কয়েকজন দেশীয় অস্ত্রধারী তাঁদের পথরোধ করে। এরপর অস্ত্রের মুখে তাঁর মোটরসাইকেল, সঙ্গে থাকা ৫০ টাকা এবং মিলাদ মাহফিল থেকে পাওয়া তিন প্যাকেট খিচুড়ি নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

শুকুর আলী বলেন, দুর্বৃত্তরা মালামাল নিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর দুই সন্তান কান্নাকাটি শুরু করলে তাদের মারধর করা হয়। পরে তাঁকেসহ দুই শিশুকে একটি মেহগনি বাগানে নিয়ে গামছা দিয়ে বেঁধে রাখা হয়।

তিনি জানান, প্রায় ১০ মিনিট পর পাহারায় থাকা দুর্বৃত্ত কিছুটা দূরে সরে গেলে সুযোগ বুঝে তিনি হাত-পায়ের বাঁধন খুলে ফেলেন। এরপর দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে গিয়ে গ্রামবাসীকে ঘটনাটি জানান। পরে কৌশলে বাঁধন খুলে পালিয়ে যান বিপ্লব হোসেনও।

ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রাতের সড়কে পথচারীদের নিরাপত্তা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ওই ঘটনায় আইনগত বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’