০২:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঝুপড়ি ঘরে একাকী জীবন, শতবর্ষী সেই আব্দুল বারীর পাশে চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রশাসক

গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর চুয়াডাঙ্গার মোমিনপুর ইউনিয়নের শতবর্ষী অসহায় আব্দুল বারীর পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে আসছেন বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। এরই ধারাবাহিকতায় এবার তার বাড়িতে গিয়ে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়েছে চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদ।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আব্দুল বারীর হাতে নগদ ৫ হাজার টাকা ও খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মোমিনপুর ইউনিয়নের কবিখালী মসজিদপাড়া এলাকার সড়কের পাশে পরের জমিতে ঝুপড়ি ঘর বানিয়ে একাই বসবাস করেন আব্দুল বারী। বয়সের ভারে শরীর নুয়ে পড়েছে, কিন্তু জীবন থেমে থাকেনি। জীবিকার তাগিদে এখনো সাইকেলের প্যাডেল ঘুরিয়ে কাজের সন্ধানে ছুটতে হয় তাকে। কখনো কড়াই-সাড়ার কাজ, আবার কখনো ছোটখাটো শ্রম দিয়ে যা আয় করেন, তা দিয়েই চাল-ডাল কিনে নিজ হাতে রান্না করে খাবার জোগাড় করেন তিনি।

বুধবার (০৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আব্দুল বারীর এই অসহায় জীবনযাপনের খোঁজ নিতে তার বাড়িতে ছুটে যান চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান শরীফ। এ সময় তার হাতে নগদ ৫ হাজার টাকা তুলে দেওয়ার পাশাপাশি খাদ্যসামগ্রীও প্রদান করা হয়।

সাক্ষাৎকালে জেলা পরিষদ প্রশাসক শরিফুজ্জামান শরীফ আব্দুল বারীর জীবনযাপন, প্রয়োজন ও বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। ভবিষ্যতে কোনো ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হলে যোগাযোগ করার জন্য তাকে আশ্বস্ত করেন তিনি। একই সঙ্গে শারীরিক অসুস্থতা কিংবা প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও তার পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুকুল কুমার মৈত্র, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, মোমিনপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আসাদুল, মোমিনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শিখনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও এলাকাবাসী।

আব্দুল বারী নিজের বয়স ১১৫ বছর বলে দাবি করলেও জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার জন্ম ১৯২১ সালে। সে হিসাবে বর্তমানে তার বয়স ১০৫ বছর।

জীবনের এত দীর্ঘ পথ পেরিয়েও নিজের বলতে নেই কোনো জমি কিংবা নিরাপদ বসতঘর। অন্যের জমিতে তৈরি একটি ঝুপড়ি ঘরই এখন তার একমাত্র আশ্রয়। জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও তাকে নিজের খাবারের সংস্থান করতে ছুটতে হচ্ছে কাজের সন্ধানে।

সম্প্রতি আব্দুল বারীর এমন অসহায় জীবনযাপনের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি সাধারণ মানুষের নজরে আসে। এরপর গণমাধ্যমে তার দুরবস্থার চিত্র উঠে আসায় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান তার পাশে দাঁড়াতে শুরু করেন।

স্থানীয়রা জানান, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আব্দুল বারীর মতো একজন অসহায় শতবর্ষী মানুষের পাশে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এগিয়ে আসায় তিনি কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন। তবে তার জন্য এখন সবচেয়ে জরুরি হয়ে উঠেছে একটি নিরাপদ ঘর, নিয়মিত খাবার এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

শনিবার থেকে বেকারি পণ্যের দাম বাড়ছে , কমতে পারে পরিমাণও

ঝুপড়ি ঘরে একাকী জীবন, শতবর্ষী সেই আব্দুল বারীর পাশে চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রশাসক

প্রকাশের সময় : ০১:৩৭:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর চুয়াডাঙ্গার মোমিনপুর ইউনিয়নের শতবর্ষী অসহায় আব্দুল বারীর পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে আসছেন বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। এরই ধারাবাহিকতায় এবার তার বাড়িতে গিয়ে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়েছে চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদ।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আব্দুল বারীর হাতে নগদ ৫ হাজার টাকা ও খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মোমিনপুর ইউনিয়নের কবিখালী মসজিদপাড়া এলাকার সড়কের পাশে পরের জমিতে ঝুপড়ি ঘর বানিয়ে একাই বসবাস করেন আব্দুল বারী। বয়সের ভারে শরীর নুয়ে পড়েছে, কিন্তু জীবন থেমে থাকেনি। জীবিকার তাগিদে এখনো সাইকেলের প্যাডেল ঘুরিয়ে কাজের সন্ধানে ছুটতে হয় তাকে। কখনো কড়াই-সাড়ার কাজ, আবার কখনো ছোটখাটো শ্রম দিয়ে যা আয় করেন, তা দিয়েই চাল-ডাল কিনে নিজ হাতে রান্না করে খাবার জোগাড় করেন তিনি।

বুধবার (০৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আব্দুল বারীর এই অসহায় জীবনযাপনের খোঁজ নিতে তার বাড়িতে ছুটে যান চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান শরীফ। এ সময় তার হাতে নগদ ৫ হাজার টাকা তুলে দেওয়ার পাশাপাশি খাদ্যসামগ্রীও প্রদান করা হয়।

সাক্ষাৎকালে জেলা পরিষদ প্রশাসক শরিফুজ্জামান শরীফ আব্দুল বারীর জীবনযাপন, প্রয়োজন ও বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। ভবিষ্যতে কোনো ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হলে যোগাযোগ করার জন্য তাকে আশ্বস্ত করেন তিনি। একই সঙ্গে শারীরিক অসুস্থতা কিংবা প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও তার পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুকুল কুমার মৈত্র, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, মোমিনপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আসাদুল, মোমিনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শিখনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও এলাকাবাসী।

আব্দুল বারী নিজের বয়স ১১৫ বছর বলে দাবি করলেও জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার জন্ম ১৯২১ সালে। সে হিসাবে বর্তমানে তার বয়স ১০৫ বছর।

জীবনের এত দীর্ঘ পথ পেরিয়েও নিজের বলতে নেই কোনো জমি কিংবা নিরাপদ বসতঘর। অন্যের জমিতে তৈরি একটি ঝুপড়ি ঘরই এখন তার একমাত্র আশ্রয়। জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও তাকে নিজের খাবারের সংস্থান করতে ছুটতে হচ্ছে কাজের সন্ধানে।

সম্প্রতি আব্দুল বারীর এমন অসহায় জীবনযাপনের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি সাধারণ মানুষের নজরে আসে। এরপর গণমাধ্যমে তার দুরবস্থার চিত্র উঠে আসায় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান তার পাশে দাঁড়াতে শুরু করেন।

স্থানীয়রা জানান, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আব্দুল বারীর মতো একজন অসহায় শতবর্ষী মানুষের পাশে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এগিয়ে আসায় তিনি কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন। তবে তার জন্য এখন সবচেয়ে জরুরি হয়ে উঠেছে একটি নিরাপদ ঘর, নিয়মিত খাবার এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা।