০২:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এডিজি

‘এগুলো ক্রাইম, আমি প্রশ্ন করলে আপনি বিপদে পড়ে যাবেন’

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে এসে রোগীদের খাবার সরবরাহ ও প্যাথলজি বিভাগের কার্যক্রমে বিভিন্ন অনিয়ম এবং ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান। একই সঙ্গে হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনে আরও কঠোর হওয়ার পাশাপাশি অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে নির্ধারিত সময়ের আগেই আকস্মিকভাবে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে উপস্থিত হন এডিজি অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে হাসপাতালটি পরিদর্শনের কথা ছিল। তবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মিটিং থাকার কারণে তাঁকে ঢাকায় যেতে হবে। এ কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই বুধবার রাতে তিনি হাসপাতালে চলে আসেন।

এডিজির আকস্মিক আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়তে দেখা যায়। হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানও চালানো হয়।

পরিদর্শনের শুরুতে এডিজি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, আইসিইউ, জরুরি বিভাগ ও ওষুধ সংরক্ষণ কক্ষ ঘুরে দেখেন। চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে চিকিৎসাসেবার মান, চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি এবং খাবার সরবরাহের বিষয়ে খোঁজখবর নেন। রোগীরা যথাযথ খাবার পাচ্ছেন কি না, চিকিৎসকেরা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন কি না—এসব বিষয়ও তিনি রোগীদের কাছ থেকেই জানতে চান।

পরিদর্শনের সময় রোগীদের খাবার সরবরাহে বেশ কিছু অনিয়মের বিষয় তাঁর নজরে আসে। খাবার সরবরাহকারী ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে রোগীদের খাবার দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়েও তিনি জানতে পারেন।

এ সময় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ফারহানা ওয়াহিদ তানিকে উদ্দেশ করে এডিজি বলেন, ঠিকাদারের অনিয়মের বিষয়ে জিজ্ঞেস করার পরও আপনি হেসে উড়িয়ে দিলেন, এখন আপনার হাসি কোথায় গেলো? আপনাকে আরএমও রাখা হয়েছে তো এসব অনিয়ম ধরার জন্য। আপনি ঠিকাদারদের অনিয়মগুলো ধরে আমাদের দেন। আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।

পরে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাসকে রোগীদের খাবারে মাছ-মাংসের পরিমাণ কম দেওয়াসহ অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে নিয়মিত নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

এডিজি বলেন, আপনাদের এখানে ঠিকাদাররা ওজনে মাংসে কম দিচ্ছে। এ বিষয়ে আপনারা কালকেই ব্যবস্থা নেবেন। এমন চলতে থাকলে আপনিই বিপদে পড়বেন। নিয়ম অনুযায়ী সব কাজ করবেন। আপনি কালকেই ব্যবস্থা নিয়ে জানাবেন, আসলেই ওজনে কম দেয় কি না তারা।

এ সময় রোগীদের খাবার সরবরাহে নির্ধারিত নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ এবং ঠিকাদারদের কার্যক্রম কঠোরভাবে তদারকির ওপর গুরুত্বারোপ করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

এরপর হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগ পরিদর্শনে যান অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান। সেখানে বিভিন্ন খাতাপত্র ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পর্যালোচনা করতে গিয়ে বেশ কিছু অনিয়ম তাঁর নজরে আসে। একই সঙ্গে প্যাথলজি বিভাগে পরীক্ষা করাতে আসা রোগীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এ সময় তিনি বলেন, জেলার একটি হাসপাতালে মাত্র ৩৯টা প্যাথলজি হয়, এটা করার তো দরকারই নেই। প্যাথলজি পরীক্ষা কম হওয়ায় হাসপাতালের সরকারি ব্যয়ের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন এডিজি। তাঁর মত, সামান্যসংখ্যক রোগীর জন্য হাসপাতালে ব্যয় না করে সরকারি অর্থে বাইরের ক্লিনিকগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্যাথলজি পরীক্ষা করানো যেতে পারে। এতে সাশ্রয় হওয়া অর্থ রোগীদের পথ্য ও ওষুধ কেনার কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, এই সামান্য কয়টা রোগীর জন্য হাসপাতালে খরচ না করে সরকারি খরচে বাইরে ক্লিনিকদের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের প্যাথলজি করা হোক। আর বাকি টাকা দিয়ে আমরা রোগীদের পথ্য-ওষুধ কিনব।

প্যাথলজি বিভাগের বিভিন্ন খাতাপত্র পর্যালোচনার সময়ও অসংগতি দেখতে পান তিনি। খাতায় বিভিন্ন তথ্য লেখা থাকলেও সংশ্লিষ্টদের স্বাক্ষর না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে এডিজি বলেন, আপনারা খাতায় যা লিখেছেন, এগুলো বানিয়ে লিখেছেন ঠান্ডা মাথায়। কোনো স্বাক্ষর নেই।

প্যাথলজি বিভাগের কার্যক্রম এবং আয় বাড়ানোর ক্ষেত্রে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান। হাসপাতালের অটোমেশন কার্যক্রম সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের পরিস্থিতি চলতে থাকবে কি না, তাও জানতে চান তিনি। এরপর আমি যে প্রশ্নগুলো করবো আপনি বিপদে পড়ে যাবেন বলে প্যাথলথি বিভাগের প্রধানকে উদ্দেশ্য করে বলেন তিনি।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাসকে উদ্দেশ করে এডিজি বলেন, আপনাদের অটোমেশন না হওয়া অবধি কি এমনটাই চলতে থাকবে—৩০ থেকে ৩৯টি প্যাথলজি? রেভিনিউ বাড়াতে কি কোনো ব্যবস্থা নেবেন না আপনারা?

প্যাথলজি বিভাগের কার্যক্রমে অনিয়ম এবং দায়িত্ব পালনে ঘাটতি নিয়ে কঠোর অবস্থান প্রকাশ করে তিনি বলেন, আপনি যা করছেন, এগুলো ক্রাইম। আর এর জন্য দায়ী আপনিই।

পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন, রোগীদের সেবা নিশ্চিত করা এবং বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন এডিজি অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান।

হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে এডিজি অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান বলেন, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে কবে আমরা পূর্ণ জনবল দিতে পারব, তা এখনই বলা মুশকিল। কারণ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের বর্তমান অবস্থা অনেকটা হ-য-ব-র-ল। এখানে শয্যা, লোকবল ও খাদ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে।

তিনি জানান, সরকার খুব শিগগিরই সারাদেশে ৫ হাজার চিকিৎসক এবং ৪৫ হাজার তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ দেবে। ইতোমধ্যে ৬৪টি জেলার মধ্যে ২৮টি জেলায় নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে চুয়াডাঙ্গাতেও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের কার্যক্রম এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এডিজি আরও বলেন, আমরা নিয়মিত হাসপাতালগুলো পরিদর্শন করি, যাতে চিকিৎসাসেবার মান আরও উন্নত করা যায় এবং রোগীরা যথাযথ চিকিৎসাসেবা নিয়ে সুস্থভাবে বাড়ি ফিরতে পারেন। স্বাস্থ্য বিভাগে আমরা যারা দায়িত্বে আছি, তারা যদি স্ব স্ব অবস্থান থেকে নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করি, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসাসেবার মানের উন্নয়ন সম্ভব।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এডিজির পিএস শুভ, চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দীন আহমেদ, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস, সদর হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি) ডা. মো. এহসানুল হক তন্ময়, সহযোগী অধ্যাপক (গাইনি) ডা. আকলিমা খাতুন, সিনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থো-সার্জারি) ডা. আব্দুর রহমান, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ফারহানা ওয়াহিদ, মেডিকেল অফিসার শাপলা খাতুন, জুনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু) ডা. মো. আসাদুর রহমান মালিকসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

শনিবার থেকে বেকারি পণ্যের দাম বাড়ছে , কমতে পারে পরিমাণও

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এডিজি

‘এগুলো ক্রাইম, আমি প্রশ্ন করলে আপনি বিপদে পড়ে যাবেন’

প্রকাশের সময় : ০১:১৩:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে এসে রোগীদের খাবার সরবরাহ ও প্যাথলজি বিভাগের কার্যক্রমে বিভিন্ন অনিয়ম এবং ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান। একই সঙ্গে হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনে আরও কঠোর হওয়ার পাশাপাশি অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে নির্ধারিত সময়ের আগেই আকস্মিকভাবে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে উপস্থিত হন এডিজি অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে হাসপাতালটি পরিদর্শনের কথা ছিল। তবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মিটিং থাকার কারণে তাঁকে ঢাকায় যেতে হবে। এ কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই বুধবার রাতে তিনি হাসপাতালে চলে আসেন।

এডিজির আকস্মিক আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়তে দেখা যায়। হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানও চালানো হয়।

পরিদর্শনের শুরুতে এডিজি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, আইসিইউ, জরুরি বিভাগ ও ওষুধ সংরক্ষণ কক্ষ ঘুরে দেখেন। চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে চিকিৎসাসেবার মান, চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি এবং খাবার সরবরাহের বিষয়ে খোঁজখবর নেন। রোগীরা যথাযথ খাবার পাচ্ছেন কি না, চিকিৎসকেরা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন কি না—এসব বিষয়ও তিনি রোগীদের কাছ থেকেই জানতে চান।

পরিদর্শনের সময় রোগীদের খাবার সরবরাহে বেশ কিছু অনিয়মের বিষয় তাঁর নজরে আসে। খাবার সরবরাহকারী ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে রোগীদের খাবার দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়েও তিনি জানতে পারেন।

এ সময় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ফারহানা ওয়াহিদ তানিকে উদ্দেশ করে এডিজি বলেন, ঠিকাদারের অনিয়মের বিষয়ে জিজ্ঞেস করার পরও আপনি হেসে উড়িয়ে দিলেন, এখন আপনার হাসি কোথায় গেলো? আপনাকে আরএমও রাখা হয়েছে তো এসব অনিয়ম ধরার জন্য। আপনি ঠিকাদারদের অনিয়মগুলো ধরে আমাদের দেন। আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।

পরে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাসকে রোগীদের খাবারে মাছ-মাংসের পরিমাণ কম দেওয়াসহ অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে নিয়মিত নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

এডিজি বলেন, আপনাদের এখানে ঠিকাদাররা ওজনে মাংসে কম দিচ্ছে। এ বিষয়ে আপনারা কালকেই ব্যবস্থা নেবেন। এমন চলতে থাকলে আপনিই বিপদে পড়বেন। নিয়ম অনুযায়ী সব কাজ করবেন। আপনি কালকেই ব্যবস্থা নিয়ে জানাবেন, আসলেই ওজনে কম দেয় কি না তারা।

এ সময় রোগীদের খাবার সরবরাহে নির্ধারিত নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ এবং ঠিকাদারদের কার্যক্রম কঠোরভাবে তদারকির ওপর গুরুত্বারোপ করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

এরপর হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগ পরিদর্শনে যান অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান। সেখানে বিভিন্ন খাতাপত্র ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পর্যালোচনা করতে গিয়ে বেশ কিছু অনিয়ম তাঁর নজরে আসে। একই সঙ্গে প্যাথলজি বিভাগে পরীক্ষা করাতে আসা রোগীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এ সময় তিনি বলেন, জেলার একটি হাসপাতালে মাত্র ৩৯টা প্যাথলজি হয়, এটা করার তো দরকারই নেই। প্যাথলজি পরীক্ষা কম হওয়ায় হাসপাতালের সরকারি ব্যয়ের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন এডিজি। তাঁর মত, সামান্যসংখ্যক রোগীর জন্য হাসপাতালে ব্যয় না করে সরকারি অর্থে বাইরের ক্লিনিকগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্যাথলজি পরীক্ষা করানো যেতে পারে। এতে সাশ্রয় হওয়া অর্থ রোগীদের পথ্য ও ওষুধ কেনার কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, এই সামান্য কয়টা রোগীর জন্য হাসপাতালে খরচ না করে সরকারি খরচে বাইরে ক্লিনিকদের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের প্যাথলজি করা হোক। আর বাকি টাকা দিয়ে আমরা রোগীদের পথ্য-ওষুধ কিনব।

প্যাথলজি বিভাগের বিভিন্ন খাতাপত্র পর্যালোচনার সময়ও অসংগতি দেখতে পান তিনি। খাতায় বিভিন্ন তথ্য লেখা থাকলেও সংশ্লিষ্টদের স্বাক্ষর না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে এডিজি বলেন, আপনারা খাতায় যা লিখেছেন, এগুলো বানিয়ে লিখেছেন ঠান্ডা মাথায়। কোনো স্বাক্ষর নেই।

প্যাথলজি বিভাগের কার্যক্রম এবং আয় বাড়ানোর ক্ষেত্রে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান। হাসপাতালের অটোমেশন কার্যক্রম সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের পরিস্থিতি চলতে থাকবে কি না, তাও জানতে চান তিনি। এরপর আমি যে প্রশ্নগুলো করবো আপনি বিপদে পড়ে যাবেন বলে প্যাথলথি বিভাগের প্রধানকে উদ্দেশ্য করে বলেন তিনি।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাসকে উদ্দেশ করে এডিজি বলেন, আপনাদের অটোমেশন না হওয়া অবধি কি এমনটাই চলতে থাকবে—৩০ থেকে ৩৯টি প্যাথলজি? রেভিনিউ বাড়াতে কি কোনো ব্যবস্থা নেবেন না আপনারা?

প্যাথলজি বিভাগের কার্যক্রমে অনিয়ম এবং দায়িত্ব পালনে ঘাটতি নিয়ে কঠোর অবস্থান প্রকাশ করে তিনি বলেন, আপনি যা করছেন, এগুলো ক্রাইম। আর এর জন্য দায়ী আপনিই।

পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন, রোগীদের সেবা নিশ্চিত করা এবং বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন এডিজি অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান।

হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে এডিজি অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান বলেন, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে কবে আমরা পূর্ণ জনবল দিতে পারব, তা এখনই বলা মুশকিল। কারণ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের বর্তমান অবস্থা অনেকটা হ-য-ব-র-ল। এখানে শয্যা, লোকবল ও খাদ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে।

তিনি জানান, সরকার খুব শিগগিরই সারাদেশে ৫ হাজার চিকিৎসক এবং ৪৫ হাজার তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ দেবে। ইতোমধ্যে ৬৪টি জেলার মধ্যে ২৮টি জেলায় নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে চুয়াডাঙ্গাতেও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের কার্যক্রম এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এডিজি আরও বলেন, আমরা নিয়মিত হাসপাতালগুলো পরিদর্শন করি, যাতে চিকিৎসাসেবার মান আরও উন্নত করা যায় এবং রোগীরা যথাযথ চিকিৎসাসেবা নিয়ে সুস্থভাবে বাড়ি ফিরতে পারেন। স্বাস্থ্য বিভাগে আমরা যারা দায়িত্বে আছি, তারা যদি স্ব স্ব অবস্থান থেকে নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করি, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসাসেবার মানের উন্নয়ন সম্ভব।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এডিজির পিএস শুভ, চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দীন আহমেদ, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস, সদর হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি) ডা. মো. এহসানুল হক তন্ময়, সহযোগী অধ্যাপক (গাইনি) ডা. আকলিমা খাতুন, সিনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থো-সার্জারি) ডা. আব্দুর রহমান, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ফারহানা ওয়াহিদ, মেডিকেল অফিসার শাপলা খাতুন, জুনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু) ডা. মো. আসাদুর রহমান মালিকসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।