০৪:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দামুড়হুদায় ফজলুর রহমানকে কুপিয়ে জখম, অবস্থা আশংকাজনক

Ada. Munna Telecom1

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদার পীরপুরকুল্লাহে ফজলুর রহমান (৬৫) এক বৃদ্ধকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখমের ঘটনা ঘটেছে। তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) রেফার্ড করেন।

আজ শুক্রবার (২২ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে পীরপুরকুল্লাহ গ্রামের মানিকতলা মোড়ে আতিয়ারের চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পরই অভিযুক্ত শাকিল আহমেদ ( ২৭) পলাতক রয়েছেন।

আহত ফজলুর রহমান দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের পীরপুরকুল্লাহ গ্রামের মৃত. আব্দুল আজিজের ছেলে। এবং অভিযুক্ত শাকিল একই এলাকার নাসির উদ্দিনের ছেলে।

এদিকে, পুলিশ ও স্থানীয়রা বলছেন, শাকিল ও ফজলুর রহমান দুজন প্রতিবেশি হলেও তাদের মধ্যে নানা-নাতীর সম্পর্ক। দুজনের মধ্যে কি নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে তার কেউই হিসেব মেলাতে পারছেন না।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মাহবুর রহমান বলেন, বিকেলে ফজলুর রহমান চা পান করছিলেন। এ সময় কিছু বুঝে উঠার আগেই শাকিল এসে হাসুয়া দিয়ে ফজলুর রহমানকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের জানামতে দুজনের মধ্যে খুবই ভাল সম্পর্ক। তাদের মধ্যে কোন বিরোধ নেই। তবে হঠাৎ কি কারণে কুপিয়ে জখম করল কেউ কিছুই বলতে পারছেন না। এমনকি অনেকেই বিশ্বাস করছেন না শাকিল এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। হয়তো অভ্যন্তরে কিছু থাকতে পারে, যা পুলিশের তদন্তে রহস্য বের হয়ে আসবে।

আহত ফয়লুর রহমানের চাচাতো ভাই আমিরুল ইসলাম বলেন, বিকেলে ফজলুর রহমান, আমিসহ একাধিক ব্যক্তি গ্রামের মোড়ের একটি চায়ের দোকানে চা পান করছিলাম। এ সময় হঠাৎ হাসুয়া দিয়ে মুহুর্তেই ফজলুরের পিছন থেকে ১৫ সেকেন্ডের মধ্যে প্রায় ১০টি কোপ মেরেছে শাকিল। পরে ফজলুর রহমান মাটিতে লুটিয়ে পড়লে শাকিল পালিয়ে যায়। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করি।

জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শাপলা খাতুন বলেন, ঘাড়, হাত-পা সহ শরীরে একাধিকস্থানে ধারাল অস্ত্রের আঘাতে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে এবং সেগুলো বেশ গুরুতর। আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেছি। তবে রোগীর স্বজনরা ফজলুর রহমানকে সন্ধার আগেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উদ্দেশ্যে সদর হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন।

এ বিষয়ে দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) হুমায়ুন কবীর বলেন, শুনেছি, তারা দুজন সম্পর্ক নানা-নাতীর। তাদের মধ্যে কি নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে তা এখনো জানা যায়নি। আমরা অভিযুক্ত শাকিলকে আটকে অভিযান চালাচ্ছি। আটকের পরই প্রকৃত ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় ইউপি সদস্যের বাড়িতে লুকানো ছিল ১০০০ লিটার ডিজেল: ১৫ দিনের কারাদণ্ড

দামুড়হুদায় ফজলুর রহমানকে কুপিয়ে জখম, অবস্থা আশংকাজনক

প্রকাশের সময় : ০৬:৩২:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ অগাস্ট ২০২৫

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদার পীরপুরকুল্লাহে ফজলুর রহমান (৬৫) এক বৃদ্ধকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখমের ঘটনা ঘটেছে। তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) রেফার্ড করেন।

আজ শুক্রবার (২২ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে পীরপুরকুল্লাহ গ্রামের মানিকতলা মোড়ে আতিয়ারের চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পরই অভিযুক্ত শাকিল আহমেদ ( ২৭) পলাতক রয়েছেন।

আহত ফজলুর রহমান দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের পীরপুরকুল্লাহ গ্রামের মৃত. আব্দুল আজিজের ছেলে। এবং অভিযুক্ত শাকিল একই এলাকার নাসির উদ্দিনের ছেলে।

এদিকে, পুলিশ ও স্থানীয়রা বলছেন, শাকিল ও ফজলুর রহমান দুজন প্রতিবেশি হলেও তাদের মধ্যে নানা-নাতীর সম্পর্ক। দুজনের মধ্যে কি নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে তার কেউই হিসেব মেলাতে পারছেন না।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মাহবুর রহমান বলেন, বিকেলে ফজলুর রহমান চা পান করছিলেন। এ সময় কিছু বুঝে উঠার আগেই শাকিল এসে হাসুয়া দিয়ে ফজলুর রহমানকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের জানামতে দুজনের মধ্যে খুবই ভাল সম্পর্ক। তাদের মধ্যে কোন বিরোধ নেই। তবে হঠাৎ কি কারণে কুপিয়ে জখম করল কেউ কিছুই বলতে পারছেন না। এমনকি অনেকেই বিশ্বাস করছেন না শাকিল এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। হয়তো অভ্যন্তরে কিছু থাকতে পারে, যা পুলিশের তদন্তে রহস্য বের হয়ে আসবে।

আহত ফয়লুর রহমানের চাচাতো ভাই আমিরুল ইসলাম বলেন, বিকেলে ফজলুর রহমান, আমিসহ একাধিক ব্যক্তি গ্রামের মোড়ের একটি চায়ের দোকানে চা পান করছিলাম। এ সময় হঠাৎ হাসুয়া দিয়ে মুহুর্তেই ফজলুরের পিছন থেকে ১৫ সেকেন্ডের মধ্যে প্রায় ১০টি কোপ মেরেছে শাকিল। পরে ফজলুর রহমান মাটিতে লুটিয়ে পড়লে শাকিল পালিয়ে যায়। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করি।

জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শাপলা খাতুন বলেন, ঘাড়, হাত-পা সহ শরীরে একাধিকস্থানে ধারাল অস্ত্রের আঘাতে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে এবং সেগুলো বেশ গুরুতর। আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেছি। তবে রোগীর স্বজনরা ফজলুর রহমানকে সন্ধার আগেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উদ্দেশ্যে সদর হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন।

এ বিষয়ে দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) হুমায়ুন কবীর বলেন, শুনেছি, তারা দুজন সম্পর্ক নানা-নাতীর। তাদের মধ্যে কি নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে তা এখনো জানা যায়নি। আমরা অভিযুক্ত শাকিলকে আটকে অভিযান চালাচ্ছি। আটকের পরই প্রকৃত ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন হবে।