০৮:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে অসুস্থ হয়ে হাজতির মৃত্যু, পরিবার বলছে অস্বাভাবিক

চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে অসুস্থ হয়ে মিলন হোসেন (৩০) নামের এক হাজতির মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ভোর পৌনে ৫টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পরিবার বলছে, এটি কোনোভাবেই স্বাভাবিক মৃত্যু নয়।

মিলন হোসেন চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার চিৎলা গ্রামের হাসপাতালপাড়ার বাসিন্দা বিল্লাল মালিতার ছেলে।

এর আগে, গত ২৮ আগস্ট সকালে দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রফেসর আবুল হাশেমের ওপর হামলার ঘটনায় প্রধান আসামি ছিলেন তিনি। হামলায় হাশেমের দাঁত ভেঙে যায়, মাথা ও মুখে গুরুতর আঘাত পান। সেই মামলায় আত্মসমর্পণ করলে আদালত গত ৪ সেপ্টেম্বর তাকে কারাগারে পাঠায়।

কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, রোববার রাতের শেষ প্রহরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন মিলন। রাত ৩টা ৪০ মিনিটে তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়৷ পরে পৌনে ৫ টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছ। জেলা কারাগারের ভারপ্রাপ্ত জেলার ফখর উদ্দিন জানান, প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকরা ধারণা করছেন, হার্ট অ্যাটাকেই তার মৃত্যু হয়েছে। তবে প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

কিন্তু মিলন হোসেনের চাচাতো ভাই রিকাত মালিতার দাবি, গত ৪ সেপ্টেম্বর মিলন সুস্থ অবস্থায় আদালতে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। রিমান্ডে দেননি বিজ্ঞ আদালত। তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।

পরিবারের প্রশ্ন—“একজন সুস্থ মানুষ হঠাৎ মারা যায় কিভাবে?” তারা বলছেন, এ মৃত্যু স্বাভাবিক নয়, সুষ্ঠু তদন্ত ছাড়া সত্য জানা যাবে না।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. ওয়াহিদ মাহমুদ রবিনও নিশ্চিত করেছেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায়ই মৃত্যু হয়েছে মিলনের। তিনি বলেন, ময়নাতদন্ত ছাড়া সঠিক কারণ বলা সম্ভব নয়।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

শনিবার থেকে বেকারি পণ্যের দাম বাড়ছে , কমতে পারে পরিমাণও

চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে অসুস্থ হয়ে হাজতির মৃত্যু, পরিবার বলছে অস্বাভাবিক

প্রকাশের সময় : ০১:০১:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে অসুস্থ হয়ে মিলন হোসেন (৩০) নামের এক হাজতির মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ভোর পৌনে ৫টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পরিবার বলছে, এটি কোনোভাবেই স্বাভাবিক মৃত্যু নয়।

মিলন হোসেন চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার চিৎলা গ্রামের হাসপাতালপাড়ার বাসিন্দা বিল্লাল মালিতার ছেলে।

এর আগে, গত ২৮ আগস্ট সকালে দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রফেসর আবুল হাশেমের ওপর হামলার ঘটনায় প্রধান আসামি ছিলেন তিনি। হামলায় হাশেমের দাঁত ভেঙে যায়, মাথা ও মুখে গুরুতর আঘাত পান। সেই মামলায় আত্মসমর্পণ করলে আদালত গত ৪ সেপ্টেম্বর তাকে কারাগারে পাঠায়।

কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, রোববার রাতের শেষ প্রহরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন মিলন। রাত ৩টা ৪০ মিনিটে তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়৷ পরে পৌনে ৫ টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছ। জেলা কারাগারের ভারপ্রাপ্ত জেলার ফখর উদ্দিন জানান, প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকরা ধারণা করছেন, হার্ট অ্যাটাকেই তার মৃত্যু হয়েছে। তবে প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

কিন্তু মিলন হোসেনের চাচাতো ভাই রিকাত মালিতার দাবি, গত ৪ সেপ্টেম্বর মিলন সুস্থ অবস্থায় আদালতে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। রিমান্ডে দেননি বিজ্ঞ আদালত। তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।

পরিবারের প্রশ্ন—“একজন সুস্থ মানুষ হঠাৎ মারা যায় কিভাবে?” তারা বলছেন, এ মৃত্যু স্বাভাবিক নয়, সুষ্ঠু তদন্ত ছাড়া সত্য জানা যাবে না।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. ওয়াহিদ মাহমুদ রবিনও নিশ্চিত করেছেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায়ই মৃত্যু হয়েছে মিলনের। তিনি বলেন, ময়নাতদন্ত ছাড়া সঠিক কারণ বলা সম্ভব নয়।