০৫:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক রাতেই ৯টি গরু চুরি, দিশেহারা কৃষকরা

Ada. Munna Telecom1

একই গ্রাম থেকে ‍রাতের আধারে চার কৃষকের ৯টি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার পর থেকেই এলাকায় কৃষকদের মাঝে চোর আতঙ্ক বিরাজ করছে।

শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার সুন্দরপুর-দুর্গাপুর ইউনিয়নের কমলাপুর গ্রামে এমন ঘটনা ঘটে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কমলাপুর গ্রামের সোবহান বিশ্বাসের ছেলে কৃষক বাবর আলী বিশ্বাসের ২টি সিংদী শাহীয়াল জাতের লাল রঙের গাভী ও একটি বকনা বাছুর মোট ৩টি গরু গোয়াল ঘর থেকে চুরি হয়ে গেছে। যার বাজার মূল্য আনুমানিক ৪ লাখ টাকা।

আরও পড়ুন

একই বাড়ির মধ্যে বাবর আলী বিশ্বাসের বড় ছেলে মুজিবুর রহমানের একটি জার্সি জাতের গাভী ও একটি বকনা বাছুর এবং একটি ষাঁড় মোট ৩টি গরু গোয়াল ঘর থেকে চুরি হয়ে গেছে। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৫ লাখ টাকা।

এছাড়া প্রতিবেশী সোবহান মাস্টারের ছেলে মিলন মিয়ার গোয়াল থেকে একটি দেশি গাভী, যার আনুমানিক মূল্য ৮০ হাজার টাকা এবং মোহাম্মদ মন্নুর গোয়াল থেকে একটি বড় ফ্রিজিয়ান জাতের গাভী ও একটি ষাঁড় গরু একই সময় চুরি করে নিয়ে যায় চোরেরা। যার বাজারমূল্য আনুমানিক ২ লাখ টাকা। গ্রামটিতে ক্ষতিগ্রস্ত সবাই কৃষক।

ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগী খামারি বাবর আলী বিশ্বাস বলেন, প্রতিদিনের ন্যায় শনিবার রাতে গোয়ালে গরুর খাবার দিয়ে ঘুমাতে যাই। রোববার ভোরে ঘুম থেকে উঠে গোয়াল ঘরে গিয়ে দেখি আমার ৩টি গরুর একটিও নেই। খোঁজাখুঁজি শুরু করলে কিছুক্ষণ পর জানতে পারি আমার ছেলে মজিবরের গোয়াল থেকেও তিনটা গরু, প্রতিবেশী মিলন ও মন্নুর গোয়াল থেকে তিনটি গরু নিয়ে গেছে চোরেরা। ধারণা করছি রাত আনুমানিক ৩টার সময় চোরেরা গোয়াল ঘর থেকে গরুগুলো চুরি করে পিকআপ কিংবা ট্রাকে করে উঠিয়ে নিয়ে চলে গেছে। আমরা খেটে খাওয়া মানুষ। অভাবের সংসারে গরুগুলোই আমাদের সম্বল ছিল। তাও আজ চুরি হয়ে গেল। এই ক্ষতি কিভাবে পুষিয়ে উঠব তা ভাবতে পারছি না।

সুন্দারপুর-দূর্গাপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড মো. হানিফ মিয়া বলেন, গ্রাম থেকে ৯টি গরু চুরি হয়েছে। এরপর আমি ওই কৃষকদের বাড়িতে যাই। সেখান গিয়ে জানতে পারি, রাতে সবাই ঘুমিয়ে ছিল এরই মধ্যে একই বাড়ি থেকে ৬টি গরু এবং প্রতিবেশির বাড়ি থেকে ৩টি গরু চুরি হয়েছে। তবে চোরেরা এই গরুগুলো বড় গাড়িতে করে গ্রাম থেকে নিয়ে গেছে। আমাদের দাবি চুরি যেই করুক না কেন, তদন্ত করে দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতাই আনতে হবে।

কালীগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রেজাউল করিম বলেন, কমলাপুর গ্রামে আমাদের ক্ষুদ্র খামারিদের ৯টা গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। যা খুবই দুঃখজনক। একজন ক্ষুদ্র খামারি হিসেবে তাদের জন্য অনেক ক্ষতি হয়েছে।

কালিগঞ্জ থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবু আজিফ বলেন, গরু চুরির ঘটনা শুনে আমি নিজে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের বাড়িতে গিয়েছিলাম। তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। খামারিদের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তদন্তপূর্বক চোরচক্রের সদস্যদেরকে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

জীবননগরের পিংকি হ ত্যা মামলার আসামি নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার

এক রাতেই ৯টি গরু চুরি, দিশেহারা কৃষকরা

প্রকাশের সময় : ০৩:১৩:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪

একই গ্রাম থেকে ‍রাতের আধারে চার কৃষকের ৯টি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার পর থেকেই এলাকায় কৃষকদের মাঝে চোর আতঙ্ক বিরাজ করছে।

শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার সুন্দরপুর-দুর্গাপুর ইউনিয়নের কমলাপুর গ্রামে এমন ঘটনা ঘটে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কমলাপুর গ্রামের সোবহান বিশ্বাসের ছেলে কৃষক বাবর আলী বিশ্বাসের ২টি সিংদী শাহীয়াল জাতের লাল রঙের গাভী ও একটি বকনা বাছুর মোট ৩টি গরু গোয়াল ঘর থেকে চুরি হয়ে গেছে। যার বাজার মূল্য আনুমানিক ৪ লাখ টাকা।

আরও পড়ুন

একই বাড়ির মধ্যে বাবর আলী বিশ্বাসের বড় ছেলে মুজিবুর রহমানের একটি জার্সি জাতের গাভী ও একটি বকনা বাছুর এবং একটি ষাঁড় মোট ৩টি গরু গোয়াল ঘর থেকে চুরি হয়ে গেছে। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৫ লাখ টাকা।

এছাড়া প্রতিবেশী সোবহান মাস্টারের ছেলে মিলন মিয়ার গোয়াল থেকে একটি দেশি গাভী, যার আনুমানিক মূল্য ৮০ হাজার টাকা এবং মোহাম্মদ মন্নুর গোয়াল থেকে একটি বড় ফ্রিজিয়ান জাতের গাভী ও একটি ষাঁড় গরু একই সময় চুরি করে নিয়ে যায় চোরেরা। যার বাজারমূল্য আনুমানিক ২ লাখ টাকা। গ্রামটিতে ক্ষতিগ্রস্ত সবাই কৃষক।

ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগী খামারি বাবর আলী বিশ্বাস বলেন, প্রতিদিনের ন্যায় শনিবার রাতে গোয়ালে গরুর খাবার দিয়ে ঘুমাতে যাই। রোববার ভোরে ঘুম থেকে উঠে গোয়াল ঘরে গিয়ে দেখি আমার ৩টি গরুর একটিও নেই। খোঁজাখুঁজি শুরু করলে কিছুক্ষণ পর জানতে পারি আমার ছেলে মজিবরের গোয়াল থেকেও তিনটা গরু, প্রতিবেশী মিলন ও মন্নুর গোয়াল থেকে তিনটি গরু নিয়ে গেছে চোরেরা। ধারণা করছি রাত আনুমানিক ৩টার সময় চোরেরা গোয়াল ঘর থেকে গরুগুলো চুরি করে পিকআপ কিংবা ট্রাকে করে উঠিয়ে নিয়ে চলে গেছে। আমরা খেটে খাওয়া মানুষ। অভাবের সংসারে গরুগুলোই আমাদের সম্বল ছিল। তাও আজ চুরি হয়ে গেল। এই ক্ষতি কিভাবে পুষিয়ে উঠব তা ভাবতে পারছি না।

সুন্দারপুর-দূর্গাপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড মো. হানিফ মিয়া বলেন, গ্রাম থেকে ৯টি গরু চুরি হয়েছে। এরপর আমি ওই কৃষকদের বাড়িতে যাই। সেখান গিয়ে জানতে পারি, রাতে সবাই ঘুমিয়ে ছিল এরই মধ্যে একই বাড়ি থেকে ৬টি গরু এবং প্রতিবেশির বাড়ি থেকে ৩টি গরু চুরি হয়েছে। তবে চোরেরা এই গরুগুলো বড় গাড়িতে করে গ্রাম থেকে নিয়ে গেছে। আমাদের দাবি চুরি যেই করুক না কেন, তদন্ত করে দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতাই আনতে হবে।

কালীগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রেজাউল করিম বলেন, কমলাপুর গ্রামে আমাদের ক্ষুদ্র খামারিদের ৯টা গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। যা খুবই দুঃখজনক। একজন ক্ষুদ্র খামারি হিসেবে তাদের জন্য অনেক ক্ষতি হয়েছে।

কালিগঞ্জ থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবু আজিফ বলেন, গরু চুরির ঘটনা শুনে আমি নিজে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের বাড়িতে গিয়েছিলাম। তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। খামারিদের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তদন্তপূর্বক চোরচক্রের সদস্যদেরকে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।