চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ববিতা খাতুন পিংকি হত্যা মামলার একমাত্র এজাহারভুক্ত আসামি মো. রাজনকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর বুধবার (১৭ জুন) ভোর রাতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত রাজন জীবননগর উপজেলার ডুমুরিয়া (দক্ষিণপাড়া) গ্রামের মৃত ইউনুস মণ্ডলের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ এপ্রিল ভোররাতের দিকে জীবননগর উপজেলার ডুমুরিয়া (দক্ষিণপাড়া) এলাকায় ববিতা খাতুন পিংকি (২৭) নামে এক নারীকে ধারালো দা দিয়ে তলপেটে গুরুতর জখম করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তার মৃত্যুকালীন জবানবন্দি গ্রহণ করেন। ওই জবানবন্দিতে ববিতা খাতুন পিংকি হামলাকারী হিসেবে মো. রাজনের নাম উল্লেখ করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯ এপ্রিল রাত সাড়ে ১২টার দিকে তিনি মারা যান।
ঘটনার পর থেকেই মামলার একমাত্র এজাহারভুক্ত আসামি রাজন পলাতক ছিলেন। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আসছিল।
চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সোলায়মান শেখের তত্ত্বাবধানে এসআই পবিত্র কুমার সঙ্গীয় ফোর্সসহ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার রাত ৩টার দিকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
দীর্ঘ দুই মাসেরও বেশি সময় পর হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার হওয়ায় নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। মামলার পরবর্তী আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এএইচ
জীবননগর অফিস 









