১০:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জীবননগর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে আহত বাংলাদেশির কাছ থেকে ৩ কেজি সোনা উদ্ধারের দাবি

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে আহত বাংলাদেশি মনিরুল ইসলামের কাছ থেকে প্রায় ৩ কেজি সোনা উদ্ধারের দাবি উঠেছে। উদ্ধার করা সোনার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৬ কোটি টাকা বলে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি ভারতের একটি হাসপাতালে পুলিশি পাহারায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সীমান্ত এলাকার একাধিক বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে স্থানীয় দৈনিক মাথাভাঙ্গা এ তথ্য জানিয়েছে।

পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে জীবননগর উপজেলার মেদিনিপুর এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণগঞ্জ থানার টুঙ্গি সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই দিন হরিহরনগর গ্রামের লিয়াকত ইসলামের ছেলে মনিরুল ইসলামসহ সাতজনের একটি দল ডিঙি নৌকায় নদীপথে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল সোনা পাচার। কাঁটাতারের বেড়ার কাছাকাছি এলাকায় দলটির গতিবিধি টুঙ্গি ক্যাম্পের টহলরত বিএসএফ সদস্যদের নজরে এলে তাঁরা থামার নির্দেশ দেন। তবে সেই নির্দেশ অমান্য করে দলটি এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে বিএসএফ সদস্যরা শূন্যে গুলি ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেন।

এতে মনিরুলের ডান পায়ে গুলি লাগে এবং পিঠে রাবার বুলেটের আঘাত লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি ঘটনাস্থলে পড়ে গেলে বিএসএফ সদস্যরা তাঁকে আটক করে ভারতের অভ্যন্তরে টুঙ্গি ক্যাম্পে নিয়ে যান। পরে তাঁর শরীর তল্লাশি করে প্রায় ৩ কেজি সোনা জব্দ করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, ঘটনার সময় অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে মনিরুলের সঙ্গে থাকা অপর ছয়জন সাঁতরে ও খালের পানিতে ঝাঁপ দিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসেন বলে স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে পত্রিকাটি। তাঁদের পরিচয়ও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁরা হলেন একই গ্রামের কামাল উদ্দিনের ছেলে রাশেদ (৩২), তৈয়ব আলীর ছেলে আনিছ (৩৫), বগের ছেলে সোহান (২৫), কিনার উদ্দিনের ছেলে শাওন (২৬), মৃত বদরুদ্দিনের ছেলে মিন্টু (৩৮) এবং মতেহার হোসেনের ছেলে মশিয়ার (৪০)।

আহত মনিরুলকে উদ্ধার করে ভারতের কৃষ্ণনগর শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে পুলিশি পাহারায় সেখানে তাঁর চিকিৎসা চলছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে দৈনিক মাথাভাঙ্গা আরও জানিয়েছে, কালীপুজোর আগে সীমান্ত এলাকায় সংঘটিত এ ঘটনায় একটি বড় সোনা পাচারের পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া সোনা কোথা থেকে আনা হয়েছিল এবং এর পেছনে আরও কোনো বড় পাচারচক্র কিংবা প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সুত্র : দৈনিক মাথাভাঙ্গা

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

আলমডাঙ্গায় লাইসেন্স ছাড়াই অবৈধভাবে সারের ব্যবসা : ৪৪০ বস্তা পাচারের পর এবারও মিনারুলের ৫০ বস্তা সার জব্দ

জীবননগর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে আহত বাংলাদেশির কাছ থেকে ৩ কেজি সোনা উদ্ধারের দাবি

প্রকাশের সময় : ০১:১৩:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে আহত বাংলাদেশি মনিরুল ইসলামের কাছ থেকে প্রায় ৩ কেজি সোনা উদ্ধারের দাবি উঠেছে। উদ্ধার করা সোনার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৬ কোটি টাকা বলে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি ভারতের একটি হাসপাতালে পুলিশি পাহারায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সীমান্ত এলাকার একাধিক বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে স্থানীয় দৈনিক মাথাভাঙ্গা এ তথ্য জানিয়েছে।

পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে জীবননগর উপজেলার মেদিনিপুর এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণগঞ্জ থানার টুঙ্গি সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই দিন হরিহরনগর গ্রামের লিয়াকত ইসলামের ছেলে মনিরুল ইসলামসহ সাতজনের একটি দল ডিঙি নৌকায় নদীপথে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল সোনা পাচার। কাঁটাতারের বেড়ার কাছাকাছি এলাকায় দলটির গতিবিধি টুঙ্গি ক্যাম্পের টহলরত বিএসএফ সদস্যদের নজরে এলে তাঁরা থামার নির্দেশ দেন। তবে সেই নির্দেশ অমান্য করে দলটি এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে বিএসএফ সদস্যরা শূন্যে গুলি ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেন।

এতে মনিরুলের ডান পায়ে গুলি লাগে এবং পিঠে রাবার বুলেটের আঘাত লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি ঘটনাস্থলে পড়ে গেলে বিএসএফ সদস্যরা তাঁকে আটক করে ভারতের অভ্যন্তরে টুঙ্গি ক্যাম্পে নিয়ে যান। পরে তাঁর শরীর তল্লাশি করে প্রায় ৩ কেজি সোনা জব্দ করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, ঘটনার সময় অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে মনিরুলের সঙ্গে থাকা অপর ছয়জন সাঁতরে ও খালের পানিতে ঝাঁপ দিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসেন বলে স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে পত্রিকাটি। তাঁদের পরিচয়ও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁরা হলেন একই গ্রামের কামাল উদ্দিনের ছেলে রাশেদ (৩২), তৈয়ব আলীর ছেলে আনিছ (৩৫), বগের ছেলে সোহান (২৫), কিনার উদ্দিনের ছেলে শাওন (২৬), মৃত বদরুদ্দিনের ছেলে মিন্টু (৩৮) এবং মতেহার হোসেনের ছেলে মশিয়ার (৪০)।

আহত মনিরুলকে উদ্ধার করে ভারতের কৃষ্ণনগর শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে পুলিশি পাহারায় সেখানে তাঁর চিকিৎসা চলছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে দৈনিক মাথাভাঙ্গা আরও জানিয়েছে, কালীপুজোর আগে সীমান্ত এলাকায় সংঘটিত এ ঘটনায় একটি বড় সোনা পাচারের পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া সোনা কোথা থেকে আনা হয়েছিল এবং এর পেছনে আরও কোনো বড় পাচারচক্র কিংবা প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সুত্র : দৈনিক মাথাভাঙ্গা