০৯:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সন্তানদের জন্য বাঁচার আকুতি চুয়াডাঙ্গার রোকসানার : কিডনি দেবেন স্বামী, সব কিছু প্রস্তুত, নেই শুধু টাকা

  • দর্শনা অফিস
  • প্রকাশের সময় : ১০:৩৮:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
  • ৬৫৩ Views

“আমি বাঁচতে চাই, আমার সন্তানদের জন্য বাঁচতে চাই…”— কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন চুয়াডাঙ্গার দর্শনা পৌর এলাকার মোবারকপাড়ার বাসিন্দা মোসা. রোকসানা খাতুন (৪৫)। দুই সন্তানের এই জননী বর্তমানে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছেন। তার শরীরের দুটি কিডনিই প্রায় সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে গেছে। বেঁচে থাকার শেষ ভরসা এখন নিয়মিত ডায়ালিসিস এবং একটি কিডনি প্রতিস্থাপন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের শুরু থেকে রোকসানার শরীরে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, অরুচি ও অসহনীয় শরীর ব্যথাসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে শুরু করে। দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর অসুস্থ থাকার পর চলতি বছরের ২৭ মার্চ তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকদের পরামর্শে কিডনির বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি ধরা পড়ে।

পরবর্তীতে ৩১ মার্চ তাকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে কিডনি বিশেষজ্ঞ ও সরকারি অধ্যাপক ডা. এমডি তৌহিদ বিল্লাল তপনের তত্ত্বাবধানে বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায়, রোকসানার দুটি কিডনিই প্রায় সম্পূর্ণরূপে বিকল হয়ে গেছে। চিকিৎসকরা দ্রুত ডায়ালিসিস শুরু করার নির্দেশ দেন।

হঠাৎ এমন দুঃসংবাদে ভেঙে পড়ে পুরো পরিবার। স্ত্রীকে বাঁচাতে স্বামী মো. আমিন নিজের সামর্থ্যের সবটুকু উজাড় করে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে চিকিৎসার পেছনে প্রায় আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। কিন্তু এখন আর তাদের পক্ষে চিকিৎসার ব্যয় বহন করা সম্ভব হচ্ছে না।

বর্তমানে সপ্তাহে দুইবার চুয়াডাঙ্গার খলিল মল্লিক ডায়ালিসিস সেন্টারে ডায়ালিসিস করাতে হচ্ছে রোকসানাকে। প্রতিবার ডায়ালিসিস, ওষুধ ও যাতায়াত বাবদ বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে। দিনমজুর পরিবারের জন্য এ ব্যয় এখন অসহনীয় হয়ে উঠেছে।

সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, স্ত্রীকে বাঁচাতে নিজের একটি কিডনি দিতে প্রস্তুত রয়েছেন স্বামী মো. আমিন। চিকিৎসকদের মতে, কিডনি প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে রোকসানাকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ জন্য প্রয়োজন প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা, যা তাদের পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা অসম্ভব।

একসময় কার্পাসডাঙ্গার একটি মুরগির খামারে দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন আমিন। কিন্তু অসুস্থ স্ত্রীর সার্বক্ষণিক দেখভালের জন্য সেই কাজও ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন। এখন স্ত্রীকে গোসল করানো, খাওয়ানো, ওষুধ দেওয়া, রান্নাবান্নাসহ সংসারের প্রায় সব দায়িত্ব একাই পালন করছেন তিনি।

কান্নাভেজা চোখে আমিন বলেন,
“আমার কিডনি দিয়ে আমি আমার স্ত্রীকে বাঁচাতে চাই। কিন্তু অপারেশনের টাকা জোগাড় করতে পারছি না। সমাজের বিত্তবান, প্রবাসী ও হৃদয়বান মানুষ যদি একটু সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলে হয়তো আমার দুই সন্তানের মা আবারও নতুন জীবন ফিরে পাবে।”

চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো কিডনি প্রতিস্থাপন করা গেলে রোকসানার সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সময় যত গড়াচ্ছে, ততই বাড়ছে ঝুঁকি।

আজ দুই সন্তানের এই মায়ের জীবন বাঁচাতে প্রয়োজন সবার আন্তরিক সহযোগিতা। একটি ছোট সহায়তাও হতে পারে একটি পরিবারের বেঁচে থাকার শেষ আশার আলো।

সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা

মো. আমিন
বিকাশ/নগদ/রকেট: ০১৪০৪৭৩০৮০৪

একটি মানবিক সহযোগিতাই ফিরিয়ে দিতে পারে দুই সন্তানের মায়ের হাসি, বাঁচিয়ে রাখতে পারে একটি অসহায় পরিবারকে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

বাঁশ কেনার কথা বলে ঘরে ঢুকে বৃদ্ধাকে ধ র্ষ ণ, অভিযুক্তকে ধরে পুলিশে দিলো স্থানীয়রা

সন্তানদের জন্য বাঁচার আকুতি চুয়াডাঙ্গার রোকসানার : কিডনি দেবেন স্বামী, সব কিছু প্রস্তুত, নেই শুধু টাকা

প্রকাশের সময় : ১০:৩৮:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

“আমি বাঁচতে চাই, আমার সন্তানদের জন্য বাঁচতে চাই…”— কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন চুয়াডাঙ্গার দর্শনা পৌর এলাকার মোবারকপাড়ার বাসিন্দা মোসা. রোকসানা খাতুন (৪৫)। দুই সন্তানের এই জননী বর্তমানে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছেন। তার শরীরের দুটি কিডনিই প্রায় সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে গেছে। বেঁচে থাকার শেষ ভরসা এখন নিয়মিত ডায়ালিসিস এবং একটি কিডনি প্রতিস্থাপন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের শুরু থেকে রোকসানার শরীরে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, অরুচি ও অসহনীয় শরীর ব্যথাসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে শুরু করে। দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর অসুস্থ থাকার পর চলতি বছরের ২৭ মার্চ তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকদের পরামর্শে কিডনির বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি ধরা পড়ে।

পরবর্তীতে ৩১ মার্চ তাকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে কিডনি বিশেষজ্ঞ ও সরকারি অধ্যাপক ডা. এমডি তৌহিদ বিল্লাল তপনের তত্ত্বাবধানে বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায়, রোকসানার দুটি কিডনিই প্রায় সম্পূর্ণরূপে বিকল হয়ে গেছে। চিকিৎসকরা দ্রুত ডায়ালিসিস শুরু করার নির্দেশ দেন।

হঠাৎ এমন দুঃসংবাদে ভেঙে পড়ে পুরো পরিবার। স্ত্রীকে বাঁচাতে স্বামী মো. আমিন নিজের সামর্থ্যের সবটুকু উজাড় করে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে চিকিৎসার পেছনে প্রায় আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। কিন্তু এখন আর তাদের পক্ষে চিকিৎসার ব্যয় বহন করা সম্ভব হচ্ছে না।

বর্তমানে সপ্তাহে দুইবার চুয়াডাঙ্গার খলিল মল্লিক ডায়ালিসিস সেন্টারে ডায়ালিসিস করাতে হচ্ছে রোকসানাকে। প্রতিবার ডায়ালিসিস, ওষুধ ও যাতায়াত বাবদ বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে। দিনমজুর পরিবারের জন্য এ ব্যয় এখন অসহনীয় হয়ে উঠেছে।

সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, স্ত্রীকে বাঁচাতে নিজের একটি কিডনি দিতে প্রস্তুত রয়েছেন স্বামী মো. আমিন। চিকিৎসকদের মতে, কিডনি প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে রোকসানাকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ জন্য প্রয়োজন প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা, যা তাদের পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা অসম্ভব।

একসময় কার্পাসডাঙ্গার একটি মুরগির খামারে দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন আমিন। কিন্তু অসুস্থ স্ত্রীর সার্বক্ষণিক দেখভালের জন্য সেই কাজও ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন। এখন স্ত্রীকে গোসল করানো, খাওয়ানো, ওষুধ দেওয়া, রান্নাবান্নাসহ সংসারের প্রায় সব দায়িত্ব একাই পালন করছেন তিনি।

কান্নাভেজা চোখে আমিন বলেন,
“আমার কিডনি দিয়ে আমি আমার স্ত্রীকে বাঁচাতে চাই। কিন্তু অপারেশনের টাকা জোগাড় করতে পারছি না। সমাজের বিত্তবান, প্রবাসী ও হৃদয়বান মানুষ যদি একটু সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলে হয়তো আমার দুই সন্তানের মা আবারও নতুন জীবন ফিরে পাবে।”

চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো কিডনি প্রতিস্থাপন করা গেলে রোকসানার সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সময় যত গড়াচ্ছে, ততই বাড়ছে ঝুঁকি।

আজ দুই সন্তানের এই মায়ের জীবন বাঁচাতে প্রয়োজন সবার আন্তরিক সহযোগিতা। একটি ছোট সহায়তাও হতে পারে একটি পরিবারের বেঁচে থাকার শেষ আশার আলো।

সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা

মো. আমিন
বিকাশ/নগদ/রকেট: ০১৪০৪৭৩০৮০৪

একটি মানবিক সহযোগিতাই ফিরিয়ে দিতে পারে দুই সন্তানের মায়ের হাসি, বাঁচিয়ে রাখতে পারে একটি অসহায় পরিবারকে।