চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে অপহরণের পর কিশোর রাফিজ মিয়া (১৫) হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো. লাল্টু মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রশি উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তিনি আদালতে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।
আজ শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আলমডাঙ্গা উপজেলার চিলাভালকী গ্রামের বাসিন্দা মোছা. আমেনা খাতুনের নাতি রাফিজ মিয়াকে গত ৫ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কৌশলে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এরপর তাকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখা হয়।
একই দিন রাত আনুমানিক ১১টার দিকে অপহরণকারীরা রাফিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে পরিবারের সদস্যদের কাছে কল করে তার কান্নাজড়িত কণ্ঠ শুনিয়ে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। একই সঙ্গে বিষয়টি কাউকে জানালে তাকে জবাই করে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে একাধিকবার ফোন করে মুক্তিপণের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়।
এ ঘটনায় ১০ জুন আলমডাঙ্গা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের সার্বিক নির্দেশনায় সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল (সিসিআইসি) এবং আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে গত ২৬ জুন ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি থানার নলিয়া রেলস্টেশন-সংলগ্ন জামালপুর বাজার এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি লাল্টু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামি স্বীকার করেন যে, রাফিজের বাবা দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে থাকায় তাকে অপহরণ করলে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায় করা সম্ভব হবে—এমন পরিকল্পনা করেই তারা অপহরণের ঘটনা ঘটায়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৫ জুন সন্ধ্যায় রাফিজকে ফোনে ডেকে মোটরসাইকেলে করে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর এলাকার অর্জুন খালের পাশে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয় এবং পরিবারের সদস্যদের কাছে ফোন করে নির্যাতনের শব্দ শুনিয়ে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবারের পক্ষ থেকে মুক্তিপণের টাকা না পাওয়ায় একই দিন রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে লাল্টু মিয়াসহ অন্যান্য আসামি রশি দিয়ে শ্বাসরোধ করে রাফিজকে হত্যা করে। পরে মরদেহ অর্জুন খালে ফেলে রেখে যায়। হত্যাকাণ্ডের পরও তারা পরিবারের কাছে একাধিকবার ফোন করে মুক্তিপণের টাকা দাবি করতে থাকে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রশি ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর এলাকার লাল ব্রিজ মাঠসংলগ্ন অর্জুন খালের পাশে একটি পুকুর থেকে রাফিজ মিয়ার পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি বিচারকের কাছে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার সঙ্গে জড়িত পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এএইচ
নিজস্ব প্রতিবেদক 






















