১২:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় পাওনা টাকা নিয়ে সালিশ বৈঠকের আগেই সংঘর্ষে বৃদ্ধ নিহত, আটক ১

চুয়াডাঙ্গা সদরের শংকরচন্দ্র এলাকায় পাওনা টাকা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সালিশ বৈঠকের আগেই সংঘর্ষ ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে কিল-ঘুষি ও মারধরে আহত হয়ে আলিম উদ্দিন (৫৫) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ অভিযুক্ত লিয়াকত আলীকে আটক করে থানা হেফাজতে নিয়েছে।

শুক্রবার (৮ মে) রাতে  সাড়ে ৮টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ডিঙ্গেদহ ইউনিয়নের মানিকডিহী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

নিহত আলিম উদ্দিন শংকরচন্দ্র গ্রামের মৃত ঝড়ু মণ্ডলের ছেলে।

আরও পড়ুন

একই পরিবারের ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা

নিহতের ভাই কালু মণ্ডল অভিযোগ করে জানান, শংকরচন্দ্র গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে আরিফের নিকট একই গ্রামের গোলাম রসুলের ছেলে জিয়া ব্যবসা সংক্রান্ত কারণে ১৪ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা পাবেন। দীর্ঘদিন ধরে টাকা পরিশোধের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময় তারিখ দিলেও টাকা পরিশোধ করা হচ্ছিল না। এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গতকাল ওই পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে নতুন করে সালিশের আয়োজন করা হয়। সালিশে অংশ নিতে জিয়া, তার চাচা আলিম উদ্দিনসহ কয়েকজন চেয়ারম্যানের বাসভবনের সামনে বসে ছিলেন। এমন সময় মোটরসাইকেলযোগে সেখানে আসেন লিয়াকত আলী, তার ছেলে আলামিন এবং আরিফের ছেলে আরাফাত। তারা হঠাৎ করেই আমার ভাই আলিম উদ্দিনের ওপর চড়াও হয়। এসময় তারা তলপেটে লাথি, কিল-ঘুষি মারতে থাকে। মারধরের একপর্যায়ে আমার ভাই অসুস্থ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। এরপরও তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পরপরই এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত লিয়াকত আলীকে নিজ হেফাজতে নেন ইউপি চেয়ারম্যান মো. মহিউল আলম। পরে খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

শংকরচন্দ্র ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মহিউল আলম বলেন, পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষ আমার বাসভবনে এসেছিল। সালিশ কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগেই হঠাৎ করে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে কিল-ঘুষি ও ইটের আঘাতে আলিম উদ্দিন মারা যায়।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাসিম বলেন, রাত সাড়ে ৯টার দিকে স্বজনরা আলিম উদ্দিনকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। স্বজনরা আমাদের জানিয়েছেন, তিনি হঠাৎ চেয়ার থেকে মাটিতে পড়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তবে মারামারি বা হামলার বিষয়ে তারা তখন কিছু জানাননি। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) মিজানুর রহমান রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, পাওনা টাকা নিয়ে মারামারির ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন বলে জানতে পেরেছি। এ ঘটনায় অভিযুক্ত লিয়াকত আলীকে আটক করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এএইচ

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় দুই মামলায় তিনজনের যাবজ্জীবন

চুয়াডাঙ্গায় পাওনা টাকা নিয়ে সালিশ বৈঠকের আগেই সংঘর্ষে বৃদ্ধ নিহত, আটক ১

প্রকাশের সময় : ১১:৫৬:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

চুয়াডাঙ্গা সদরের শংকরচন্দ্র এলাকায় পাওনা টাকা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সালিশ বৈঠকের আগেই সংঘর্ষ ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে কিল-ঘুষি ও মারধরে আহত হয়ে আলিম উদ্দিন (৫৫) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ অভিযুক্ত লিয়াকত আলীকে আটক করে থানা হেফাজতে নিয়েছে।

শুক্রবার (৮ মে) রাতে  সাড়ে ৮টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ডিঙ্গেদহ ইউনিয়নের মানিকডিহী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

নিহত আলিম উদ্দিন শংকরচন্দ্র গ্রামের মৃত ঝড়ু মণ্ডলের ছেলে।

আরও পড়ুন

একই পরিবারের ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা

নিহতের ভাই কালু মণ্ডল অভিযোগ করে জানান, শংকরচন্দ্র গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে আরিফের নিকট একই গ্রামের গোলাম রসুলের ছেলে জিয়া ব্যবসা সংক্রান্ত কারণে ১৪ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা পাবেন। দীর্ঘদিন ধরে টাকা পরিশোধের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময় তারিখ দিলেও টাকা পরিশোধ করা হচ্ছিল না। এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গতকাল ওই পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে নতুন করে সালিশের আয়োজন করা হয়। সালিশে অংশ নিতে জিয়া, তার চাচা আলিম উদ্দিনসহ কয়েকজন চেয়ারম্যানের বাসভবনের সামনে বসে ছিলেন। এমন সময় মোটরসাইকেলযোগে সেখানে আসেন লিয়াকত আলী, তার ছেলে আলামিন এবং আরিফের ছেলে আরাফাত। তারা হঠাৎ করেই আমার ভাই আলিম উদ্দিনের ওপর চড়াও হয়। এসময় তারা তলপেটে লাথি, কিল-ঘুষি মারতে থাকে। মারধরের একপর্যায়ে আমার ভাই অসুস্থ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। এরপরও তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পরপরই এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত লিয়াকত আলীকে নিজ হেফাজতে নেন ইউপি চেয়ারম্যান মো. মহিউল আলম। পরে খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

শংকরচন্দ্র ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মহিউল আলম বলেন, পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষ আমার বাসভবনে এসেছিল। সালিশ কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগেই হঠাৎ করে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে কিল-ঘুষি ও ইটের আঘাতে আলিম উদ্দিন মারা যায়।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাসিম বলেন, রাত সাড়ে ৯টার দিকে স্বজনরা আলিম উদ্দিনকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। স্বজনরা আমাদের জানিয়েছেন, তিনি হঠাৎ চেয়ার থেকে মাটিতে পড়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তবে মারামারি বা হামলার বিষয়ে তারা তখন কিছু জানাননি। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) মিজানুর রহমান রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, পাওনা টাকা নিয়ে মারামারির ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন বলে জানতে পেরেছি। এ ঘটনায় অভিযুক্ত লিয়াকত আলীকে আটক করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এএইচ