০২:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনে ৬ জনের মৃত্যু, নিহতদের মধ্যে চুয়াডাঙ্গার দুজন

কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকত এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে চুয়াডাঙ্গার দুজন রয়েছেন বলে দেশের প্রথম সারির কয়েকটি গণমাধ্যম সুত্রে জানা গেছে। তাঁদের পরিচয় জানা গেলেও চুয়াডাঙ্গা জেলার কোথায় তাঁদের বাড়ি, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাঁদের পারিবারিক ঠিকানা শনাক্ত করতে খোঁজখবর নিচ্ছে রেডিও চুয়াডাঙ্গা’ টিম।

ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দোলন আচার্য জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডে নিহত ছয়জনই পর্যটক বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। নিহতরা হলেন ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭) এবং চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) ও ফায়িজান আহম্মেদ (৫)।

এ ঘটনায় ছয়জন আহত হয়েছেন। তাঁরা হলেন মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তাঁর স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)।

আহতদের প্রথমে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাঁদের কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে হাসপাতালটির জরুরি বিভাগ নিশ্চিত করেছে।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সবুক্তগীন মাহমুদ সোহেল সাংবাদিকদের জানান, আহত ছয়জনের মধ্যে পাঁচজন দগ্ধ হয়েছেন। তাঁদের শরীরের প্রায় ৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। অপর একজন পড়ে গিয়ে আহত হন। তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। দগ্ধ পাঁচজনকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে ইনানী বিচের টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। স্টেশন থেকে ঘটনাস্থলের দূরত্ব প্রায় ১৮ কিলোমিটার। খবর পাওয়ার পর উখিয়া ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। সকাল ৮টায় ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে সেখান থেকে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

অগ্নিকাণ্ডের সময় রিসোর্টটিতে প্রায় ৩০ জন অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে। তাঁদের মধ্যে চার থেকে পাঁচজন বের হতে সক্ষম হন। তবে অন্যদের অবস্থান ও বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

চুয়াডাঙ্গার নিহত দুইজনের বাড়ির সুনির্দিষ্ট ঠিকানা জানা না যাওয়ায় তাঁদের স্বজনদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে রেডিও চুয়াডাঙ্গার পক্ষ থেকে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

অনুমোদন ছাড়াই চলছিল কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্ট, ঝুঁকিপূর্ণ বলে নোটিশ করেছিল ফায়ার সার্ভিস

কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনে ৬ জনের মৃত্যু, নিহতদের মধ্যে চুয়াডাঙ্গার দুজন

প্রকাশের সময় : ০১:২৬:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকত এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে চুয়াডাঙ্গার দুজন রয়েছেন বলে দেশের প্রথম সারির কয়েকটি গণমাধ্যম সুত্রে জানা গেছে। তাঁদের পরিচয় জানা গেলেও চুয়াডাঙ্গা জেলার কোথায় তাঁদের বাড়ি, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাঁদের পারিবারিক ঠিকানা শনাক্ত করতে খোঁজখবর নিচ্ছে রেডিও চুয়াডাঙ্গা’ টিম।

ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দোলন আচার্য জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডে নিহত ছয়জনই পর্যটক বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। নিহতরা হলেন ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭) এবং চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) ও ফায়িজান আহম্মেদ (৫)।

এ ঘটনায় ছয়জন আহত হয়েছেন। তাঁরা হলেন মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তাঁর স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)।

আহতদের প্রথমে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাঁদের কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে হাসপাতালটির জরুরি বিভাগ নিশ্চিত করেছে।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সবুক্তগীন মাহমুদ সোহেল সাংবাদিকদের জানান, আহত ছয়জনের মধ্যে পাঁচজন দগ্ধ হয়েছেন। তাঁদের শরীরের প্রায় ৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। অপর একজন পড়ে গিয়ে আহত হন। তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। দগ্ধ পাঁচজনকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে ইনানী বিচের টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। স্টেশন থেকে ঘটনাস্থলের দূরত্ব প্রায় ১৮ কিলোমিটার। খবর পাওয়ার পর উখিয়া ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। সকাল ৮টায় ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে সেখান থেকে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

অগ্নিকাণ্ডের সময় রিসোর্টটিতে প্রায় ৩০ জন অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে। তাঁদের মধ্যে চার থেকে পাঁচজন বের হতে সক্ষম হন। তবে অন্যদের অবস্থান ও বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

চুয়াডাঙ্গার নিহত দুইজনের বাড়ির সুনির্দিষ্ট ঠিকানা জানা না যাওয়ায় তাঁদের স্বজনদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে রেডিও চুয়াডাঙ্গার পক্ষ থেকে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।