গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, মানুষের অধিকার আদায় ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের সংগ্রামে মোহাম্মদ শাহজাহানের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন স্মরণসভায় অংশ নেওয়া বক্তারা। তাঁরা বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, ভাষাসৈনিক ও শ্রমিকনেতা মোহাম্মদ শাহজাহানের রাজনৈতিক আদর্শ, ত্যাগ ও সংগ্রাম আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। তাঁর জীবন ও কর্ম থেকে শিক্ষা নিয়ে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের অধিকার রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি ও অধ্যক্ষ, জাতীয় শ্রমিক লীগ এবং শ্রমিক জোটের সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহানের ৩৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল বেলা ৩টায় চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবে আয়োজিত স্মরণসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। মোহাম্মদ শাহজাহান স্মৃতি সংসদ এ স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে।
স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, মোহাম্মদ শাহজাহান ছিলেন চুয়াডাঙ্গার অন্যতম কৃতী সন্তান, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, ভাষাসৈনিক, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শ্রমিকনেতা। রাজনৈতিক অঙ্গনে খেটে খাওয়া মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা ছিল অপরিসীম। গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাঁর অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বক্তারা আরও বলেন, মোহাম্মদ শাহজাহানের রাজনৈতিক জীবন, সাংগঠনিক দক্ষতা, ত্যাগ ও সংগ্রাম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয়। তাঁর আদর্শ ধারণ করে মানুষের কল্যাণে কাজ করা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সুপ্রতিষ্ঠিত করার মধ্য দিয়েই তাঁর প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব।
জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে স্মরণসভাটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রগতি লেখক সংঘের সাধারণ সম্পাদক কাজল মাহমুদ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
স্মৃতিচারণ করেন মোহাম্মদ শাহজাহানের সহোদর, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন; বীরপ্রতীক সাইদুর রহমান; জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবেছ উদ্দিন; মরহুমের সাবেক রাজনৈতিক সহকর্মী ও জেলা জাসদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সবেদ আলী; জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামরুল আরেফিন; চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি; বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি, চুয়াডাঙ্গা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক হুসাইন মালিক; চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের সভাপতি ইকবাল আতাহার তাজ; জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট অহিদুল আলম খন্দকার (মানি খন্দকার); জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি শামীম রেজা ডালিম; দর্শনা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রেজাউল করিম; চুয়াডাঙ্গা পৌর ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শাহজাহান আলী বিশ্বাস; অরিন্দম সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি মো. আলাউদ্দিন; আলমডাঙ্গা উপজেলা জাসদের নেতা গোলাম সরোয়ার; জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মিজানুল হক মিজান; উদীচীর সভাপতি হাবিবি জহির রায়হান; কবি রিগান এসকান্দার; জাতীয় গণফ্রন্টের আহ্বায়ক লিটু বিশ্বাস; জেলা জেএসডি নেতা লাবলু রহমান; নারী উদ্যোক্তা জাহানারা খাতুন টগর; মো. রেজওয়ানুর রহমান মিলন এবং লেখক জহির রায়হান প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আকসিজুল ইসলাম রতন। এরপর মরহুমের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। তাঁর আত্মার শান্তি কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
এ ছাড়া স্মরণসভায় জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এএইচ
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















