১০:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাপাসিয়ায় একই পরিবারের ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা

Ada. Munna Telecom1

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের ৫ জনকে গলাকেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। স্থানীয়রা সকালে বাড়ির ভেতরে রক্তাক্ত অবস্থায় তিন শিশু, নারী ও এক যুবকের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে।

তাদের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলায়। তারা কাপাসিয়ায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। 

শনিবার (৯ মে) কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, আজ ভোরে ঘরের মেঝেতে তিন শিশু, নারী ও এক যুবকের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ভিড় করেন।

গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কাপাসিয়া-কালীগঞ্জ সার্কেল) আসাদুজ্জামান এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে গৃহকর্তা ফোরকান মিয়া এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তিনি তাঁর তিন সন্তান, স্ত্রী ও শ্যালককে গলা কেটে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক।

নিহতরা হলেন—অভিযুক্ত ফুরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন বেগম (৩২), শ্যালক রসুল মিয়া (২২), মেয়ে মীম (১৪), হাবিবা (১০) ও ফারিয়া (২)। তারা গোপালগঞ্জ জেলা শহর থেকে জীবিকার তাগিদে গাজীপুরের কাপাসিয়া রাউৎকোন গ্রামে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। 

কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুর আলম ঢাকা পোস্টকে বলেন, প্রাথমিকভাবে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর নিয়ে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জেরে শুক্রবার (৮ মে) গভীর রাতের কোনো এক সময় ওই পাঁচ জনকে গলা কেটে  নির্মমভাবে হত্যার পর অভিযুক্ত স্বামী ফুরকান পালিয়ে গেছে। পরে শনিবার ভোরে পলাতক স্বামী নিহতের স্বজনদের মোবাইল করে খুনের কথা জানান। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন শনিবার সকালে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে স্থানীয়রা এসে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের সদস্যরা শোকে কাতর হয়ে পড়েছেন। 

স্থানীয় বাসিন্দা আমান উল্লাহ জানান, তাদের মধ্যে মাঝে মাঝে ঝগড়া বিবাদ চলতো। কিন্তু ফুরকান মিয়া যে এতো বড় কাজ করবে, এটা আমরা বিশ্বাস করতাম না। তার শ্যালক তাদের সাথেই থাকতো। ফুটফুটে তিনটা বাচ্চাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।

জাহানারা আক্তার নামে এক প্রতিবেশী বলেন, গতকাল বিকেলেও বাচ্চাগুলো বাড়ির উঠোনে খেলা করেছে। কে জানতো এই রাতেই তাদের মেরে ফেলা হবে। সকালে লোকজনের চিৎকার শুনে এসে দেখেন, একেক মরদেহ একেক দিকে পড়ে আছে। 

এ ব্যাপারে কাপাসিয়া ও কালিগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে- বাড়ির গৃহকর্তা ফুরকান এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তবে, তার সাথে আরও কেউ সম্পৃক্ত আছে কিনা সেটা তদন্ত চলছে। ফুরকানকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় কৃষি কাজের সময় বজ্রপাতে কৃষকের মৃ ত্যু

কাপাসিয়ায় একই পরিবারের ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা

প্রকাশের সময় : ১০:৪২:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের ৫ জনকে গলাকেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। স্থানীয়রা সকালে বাড়ির ভেতরে রক্তাক্ত অবস্থায় তিন শিশু, নারী ও এক যুবকের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে।

তাদের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলায়। তারা কাপাসিয়ায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। 

শনিবার (৯ মে) কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, আজ ভোরে ঘরের মেঝেতে তিন শিশু, নারী ও এক যুবকের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ভিড় করেন।

গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কাপাসিয়া-কালীগঞ্জ সার্কেল) আসাদুজ্জামান এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে গৃহকর্তা ফোরকান মিয়া এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তিনি তাঁর তিন সন্তান, স্ত্রী ও শ্যালককে গলা কেটে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক।

নিহতরা হলেন—অভিযুক্ত ফুরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন বেগম (৩২), শ্যালক রসুল মিয়া (২২), মেয়ে মীম (১৪), হাবিবা (১০) ও ফারিয়া (২)। তারা গোপালগঞ্জ জেলা শহর থেকে জীবিকার তাগিদে গাজীপুরের কাপাসিয়া রাউৎকোন গ্রামে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। 

কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুর আলম ঢাকা পোস্টকে বলেন, প্রাথমিকভাবে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর নিয়ে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জেরে শুক্রবার (৮ মে) গভীর রাতের কোনো এক সময় ওই পাঁচ জনকে গলা কেটে  নির্মমভাবে হত্যার পর অভিযুক্ত স্বামী ফুরকান পালিয়ে গেছে। পরে শনিবার ভোরে পলাতক স্বামী নিহতের স্বজনদের মোবাইল করে খুনের কথা জানান। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন শনিবার সকালে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে স্থানীয়রা এসে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের সদস্যরা শোকে কাতর হয়ে পড়েছেন। 

স্থানীয় বাসিন্দা আমান উল্লাহ জানান, তাদের মধ্যে মাঝে মাঝে ঝগড়া বিবাদ চলতো। কিন্তু ফুরকান মিয়া যে এতো বড় কাজ করবে, এটা আমরা বিশ্বাস করতাম না। তার শ্যালক তাদের সাথেই থাকতো। ফুটফুটে তিনটা বাচ্চাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।

জাহানারা আক্তার নামে এক প্রতিবেশী বলেন, গতকাল বিকেলেও বাচ্চাগুলো বাড়ির উঠোনে খেলা করেছে। কে জানতো এই রাতেই তাদের মেরে ফেলা হবে। সকালে লোকজনের চিৎকার শুনে এসে দেখেন, একেক মরদেহ একেক দিকে পড়ে আছে। 

এ ব্যাপারে কাপাসিয়া ও কালিগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে- বাড়ির গৃহকর্তা ফুরকান এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তবে, তার সাথে আরও কেউ সম্পৃক্ত আছে কিনা সেটা তদন্ত চলছে। ফুরকানকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।