০৩:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্কুলড্রেস পরে মসজিদে টিকটক ভিডিও, নবম শ্রেণির ছাত্রী বহিষ্কার

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে স্কুলড্রেস পরে মসজিদে টিকটক ভিডিও বানানোর অপরাধে নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সোমবার (১১ মে) বিকেলে দেওয়ানগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মশিহুর রহমান।

বহিষ্কৃত ওই শিক্ষার্থী বকশিগঞ্জ উপজেলার মেরুর চর ইউনিয়নের কলকি হারা গ্রামের সাজু মিয়ার মেয়ে। তিনি দেওয়ানগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম (ভোকেশনাল) শ্রেণির ছাত্রী।

জানা গেছে, কিছুদিন আগে সিনথিয়া আক্তার শান্তা স্কুলড্রেস পরা অবস্থায় একটি মসজিদে গিয়ে গানের সাথে নেচে টিকটক ভিডিও বানায়। পরে সেই ভিডিওটি টিকটকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। স্কুলছাত্রীর এমন কাজে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এতে করে ওই বিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। পরে বিদ্যালয়ের ঐতিহ্য রক্ষা এবং ভবিষ্যতে অন্য শিক্ষার্থীরা যেন এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়াতে সাহস না পায়, সে কারণে আজ বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মশিহুর রহমানের স্বাক্ষরিত এক নোটিশের মাধ্যমে সিনথিয়া আক্তার শান্তাকে বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়।

সিনথিয়ার বাবা সাজু মিয়া বলেন, আমার মেয়ে নবম শ্রেণিতে পড়ে। ওই এতটাই আর ভালো মন্দ বুঝে। আমার মেয়ে না বুঝে না হয় একটা ভুল করেই ফেলছে। তার জন্য স্কুল থেকে বের করে দেওয়াটা উচিত হয়নি। এটা আমার মেয়ের জীবনে একটা কলঙ্ক লেগে গেল।

ওই বিদ্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, সিনথিয়াকে বহিষ্কার করে স্যার ঠিক করেননি। ওরে যে টিকটক করার জন্য বহিষ্কার করা হলো। যে স্যাররা বহিষ্কার করেছে তাদের ছেলে-মেয়েরা অনেক ভালো! তারা টিকটক করে না?

দেওয়ানগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মশিহুর রহমান বলেন, আমরা চাই আমাদের শিক্ষার্থীরা আদর্শ মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠুক। বিদ্যালয়ের সুনাম এবং সুন্দর পরিবেশ রক্ষার দায়বদ্ধতা থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে অন্য শিক্ষার্থীরা নিয়মকানুন মেনে চলে নিজেদের নৈতিকতাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

এ বিষয়ে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ জহুরুল হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, ওই শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করার বিষয়টি আমাকে ওই বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি। আমি ফেসবুকে দেখেছি। শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা ঠিক হয়নি। আমি মনে করি, তাকে বোঝানো উচিত ছিল। এ বিষয়ে আমাদের এখনও কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নেব।

সুত্র : ঢাকা পোস্ট

এএইচ

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

ব্যাগ ধরে টান ছিনতাইকারীর, রিকশা থেকে পড়ে শিক্ষিকার মৃ ত্যু

স্কুলড্রেস পরে মসজিদে টিকটক ভিডিও, নবম শ্রেণির ছাত্রী বহিষ্কার

প্রকাশের সময় : ০৯:২৪:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে স্কুলড্রেস পরে মসজিদে টিকটক ভিডিও বানানোর অপরাধে নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সোমবার (১১ মে) বিকেলে দেওয়ানগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মশিহুর রহমান।

বহিষ্কৃত ওই শিক্ষার্থী বকশিগঞ্জ উপজেলার মেরুর চর ইউনিয়নের কলকি হারা গ্রামের সাজু মিয়ার মেয়ে। তিনি দেওয়ানগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম (ভোকেশনাল) শ্রেণির ছাত্রী।

জানা গেছে, কিছুদিন আগে সিনথিয়া আক্তার শান্তা স্কুলড্রেস পরা অবস্থায় একটি মসজিদে গিয়ে গানের সাথে নেচে টিকটক ভিডিও বানায়। পরে সেই ভিডিওটি টিকটকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। স্কুলছাত্রীর এমন কাজে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এতে করে ওই বিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। পরে বিদ্যালয়ের ঐতিহ্য রক্ষা এবং ভবিষ্যতে অন্য শিক্ষার্থীরা যেন এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়াতে সাহস না পায়, সে কারণে আজ বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মশিহুর রহমানের স্বাক্ষরিত এক নোটিশের মাধ্যমে সিনথিয়া আক্তার শান্তাকে বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়।

সিনথিয়ার বাবা সাজু মিয়া বলেন, আমার মেয়ে নবম শ্রেণিতে পড়ে। ওই এতটাই আর ভালো মন্দ বুঝে। আমার মেয়ে না বুঝে না হয় একটা ভুল করেই ফেলছে। তার জন্য স্কুল থেকে বের করে দেওয়াটা উচিত হয়নি। এটা আমার মেয়ের জীবনে একটা কলঙ্ক লেগে গেল।

ওই বিদ্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, সিনথিয়াকে বহিষ্কার করে স্যার ঠিক করেননি। ওরে যে টিকটক করার জন্য বহিষ্কার করা হলো। যে স্যাররা বহিষ্কার করেছে তাদের ছেলে-মেয়েরা অনেক ভালো! তারা টিকটক করে না?

দেওয়ানগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মশিহুর রহমান বলেন, আমরা চাই আমাদের শিক্ষার্থীরা আদর্শ মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠুক। বিদ্যালয়ের সুনাম এবং সুন্দর পরিবেশ রক্ষার দায়বদ্ধতা থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে অন্য শিক্ষার্থীরা নিয়মকানুন মেনে চলে নিজেদের নৈতিকতাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

এ বিষয়ে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ জহুরুল হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, ওই শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করার বিষয়টি আমাকে ওই বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি। আমি ফেসবুকে দেখেছি। শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা ঠিক হয়নি। আমি মনে করি, তাকে বোঝানো উচিত ছিল। এ বিষয়ে আমাদের এখনও কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নেব।

সুত্র : ঢাকা পোস্ট

এএইচ