০৬:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
'মুক্তছন্দ' কর্মসূচি

চুয়াডাঙ্গায় এক মাসের বেশি পরিচর্যার পর প্রকৃতিতে ফিরল উদ্ধার হওয়া ৬ তিলা ঘুঘু

প্রকৃতির সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বন্যপ্রাণী ও পাখি সংরক্ষণে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে পরিবেশবাদী সংগঠন ‘বাংলাদেশ ওয়াইল্ড লাইফ অ্যান্ড নেচার ইনিশিয়েটিভ’। চুয়াডাঙ্গাসহ আশপাশের জেলার বন্যপ্রাণী উদ্ধার, পরিচর্যা এবং নিরাপদে প্রকৃতিতে ফিরিয়ে দেওয়ার ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এবার দামুড়হুদায় অবমুক্ত করা হয়েছে ৬টি তিলা ঘুঘু।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দামুড়হুদা উপজেলার ডিসি ইকো পার্কে সংগঠনটির ‘মুক্তছন্দ’ কর্মসূচির আওতায় পাখিগুলো অবমুক্ত করা হয়।

এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বন কর্মকর্তা সুরেশ চন্দ্র মিস্ত্রি, বাংলাদেশ ওয়াইল্ড লাইফ অ্যান্ড নেচার ইনিশিয়েটিভের সভাপতি ও বড় সলুয়া নিউ মডেল ডিগ্রি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক আহসান হাবীব শিপলুসহ সংগঠনের সদস্য সাহাবুল, নিরব, আবরার ফাইয়াজ, আলমাছ, রিয়াদ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

পাখি অবমুক্তকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন বলেন, আজ আমি আনন্দিত, কারণ নিজের হাতে ৬টি পাখিকে তাদের প্রাকৃতিক আবাসে ফিরিয়ে দিতে পেরেছি। বাংলাদেশ ওয়াইল্ড লাইফ অ্যান্ড নেচার ইনিশিয়েটিভের অক্লান্ত পরিশ্রম ও আন্তরিক সেবার কারণেই ছোট পাখির ছানাগুলো আজ মুক্ত আকাশে উড়ার সুযোগ পেয়েছে। সংগঠনটির এই মহৎ উদ্যোগকে আমি সাধুবাদ জানাই এবং ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা করি। পরিবেশ রক্ষায় আমাদের সবাইকে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

সংগঠনের সভাপতি আহসান হাবীব শিপলু জানান, গত ২১ জুন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহারের নির্দেশনায় চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগার থেকে ৫টি তিলা ঘুঘুর ছানা উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসন পাখিগুলোর ডানা সম্পূর্ণ বিকশিত না হওয়ায় সেগুলো সংগঠনের কাছে পরিচর্যার জন্য হস্তান্তর করে।

তিনি বলেন, দীর্ঘ ১ মাস ৬ দিন নিবিড় পরিচর্যা, খাদ্য প্রদান ও চিকিৎসার মাধ্যমে আমরা পাখিগুলোকে উড়তে সক্ষম করে তুলেছি। এখন তারা স্বাধীনভাবে প্রকৃতিতে বেঁচে থাকার উপযুক্ত হয়েছে বলেই অবমুক্ত করা হয়েছে। এটি আমাদের প্রথম উদ্যোগ নয়। এর আগেও আমরা বহু অসুস্থ ও উদ্ধার হওয়া বন্যপ্রাণীর সেবা করে নিরাপদে প্রকৃতিতে ফিরিয়ে দিয়েছি এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জনসচেতনতা তৈরিতে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছি।

অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত অতিথি ও স্থানীয়রা বাংলাদেশ ওয়াইল্ড লাইফ অ্যান্ড নেচার ইনিশিয়েটিভের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে ধারাবাহিক ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং এমন পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

বিএনপি নেতাকে গুলি করে হত্যা, আলমডাঙ্গার সাবেক ওসি বিপ্লব কুমারসহ ২ কর্মকর্তা কারাগারে

'মুক্তছন্দ' কর্মসূচি

চুয়াডাঙ্গায় এক মাসের বেশি পরিচর্যার পর প্রকৃতিতে ফিরল উদ্ধার হওয়া ৬ তিলা ঘুঘু

প্রকাশের সময় : ১১:৪১:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

প্রকৃতির সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বন্যপ্রাণী ও পাখি সংরক্ষণে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে পরিবেশবাদী সংগঠন ‘বাংলাদেশ ওয়াইল্ড লাইফ অ্যান্ড নেচার ইনিশিয়েটিভ’। চুয়াডাঙ্গাসহ আশপাশের জেলার বন্যপ্রাণী উদ্ধার, পরিচর্যা এবং নিরাপদে প্রকৃতিতে ফিরিয়ে দেওয়ার ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এবার দামুড়হুদায় অবমুক্ত করা হয়েছে ৬টি তিলা ঘুঘু।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দামুড়হুদা উপজেলার ডিসি ইকো পার্কে সংগঠনটির ‘মুক্তছন্দ’ কর্মসূচির আওতায় পাখিগুলো অবমুক্ত করা হয়।

এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বন কর্মকর্তা সুরেশ চন্দ্র মিস্ত্রি, বাংলাদেশ ওয়াইল্ড লাইফ অ্যান্ড নেচার ইনিশিয়েটিভের সভাপতি ও বড় সলুয়া নিউ মডেল ডিগ্রি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক আহসান হাবীব শিপলুসহ সংগঠনের সদস্য সাহাবুল, নিরব, আবরার ফাইয়াজ, আলমাছ, রিয়াদ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

পাখি অবমুক্তকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন বলেন, আজ আমি আনন্দিত, কারণ নিজের হাতে ৬টি পাখিকে তাদের প্রাকৃতিক আবাসে ফিরিয়ে দিতে পেরেছি। বাংলাদেশ ওয়াইল্ড লাইফ অ্যান্ড নেচার ইনিশিয়েটিভের অক্লান্ত পরিশ্রম ও আন্তরিক সেবার কারণেই ছোট পাখির ছানাগুলো আজ মুক্ত আকাশে উড়ার সুযোগ পেয়েছে। সংগঠনটির এই মহৎ উদ্যোগকে আমি সাধুবাদ জানাই এবং ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা করি। পরিবেশ রক্ষায় আমাদের সবাইকে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

সংগঠনের সভাপতি আহসান হাবীব শিপলু জানান, গত ২১ জুন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহারের নির্দেশনায় চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগার থেকে ৫টি তিলা ঘুঘুর ছানা উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসন পাখিগুলোর ডানা সম্পূর্ণ বিকশিত না হওয়ায় সেগুলো সংগঠনের কাছে পরিচর্যার জন্য হস্তান্তর করে।

তিনি বলেন, দীর্ঘ ১ মাস ৬ দিন নিবিড় পরিচর্যা, খাদ্য প্রদান ও চিকিৎসার মাধ্যমে আমরা পাখিগুলোকে উড়তে সক্ষম করে তুলেছি। এখন তারা স্বাধীনভাবে প্রকৃতিতে বেঁচে থাকার উপযুক্ত হয়েছে বলেই অবমুক্ত করা হয়েছে। এটি আমাদের প্রথম উদ্যোগ নয়। এর আগেও আমরা বহু অসুস্থ ও উদ্ধার হওয়া বন্যপ্রাণীর সেবা করে নিরাপদে প্রকৃতিতে ফিরিয়ে দিয়েছি এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জনসচেতনতা তৈরিতে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছি।

অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত অতিথি ও স্থানীয়রা বাংলাদেশ ওয়াইল্ড লাইফ অ্যান্ড নেচার ইনিশিয়েটিভের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে ধারাবাহিক ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং এমন পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।