১১:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গা-দর্শনা সড়কে মোটরসাইকেল আরোহীকে মারধর করে নগদ ৭৫ হাজার টাকাসহ মালামাল লুট

চুয়াডাঙ্গা-দর্শনা সড়কে মোটরসাইকেল আরোহীকে মারধর করে নগদ টাকা ও দুটি দামি স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ডাকাত দলের বিরুদ্ধে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে লোকনাথপুর ও দর্শনা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের মাঝামাঝি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী জুনায়েদ আহমেদ (২২) রাতেই দামুড়হুদা মডেল থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে এজাহার দিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ; উদ্ধার হয়নি লুট হওয়া মালামালও। গুরুত্বপূর্ণ এই আঞ্চলিক সড়কে সন্ধ্যার পর এমন ঘটনার খবরে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

জুনায়েদ আহমেদ লোকনাথপুরের সৌদিয়ান রিসোর্টের ম্যানেজার। এজাহার ও তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার নিজ কর্মস্থল থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে লোকনাথপুর ও দর্শনা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের মধ্যবর্তী এলাকায় পৌঁছালে সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন তাঁর গতিরোধ করেন। এ সময় ৬ থেকে ৭ জন ব্যক্তি তাঁর ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তাঁর কাছে থাকা নগদ টাকা ও দুটি মোবাইল ফোন নিয়ে তাঁরা পালিয়ে যান।

দায়ের করা এজাহারে জুনায়েদ দাবি করেছেন, লুট হওয়া নগদ টাকার পরিমাণ ৭৫ হাজার ২৩৫ টাকা। এ ছাড়া তাঁর একটি আইফোন ১৬ প্রো ম্যাক্সের মূল্য ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং একটি ভিভো ভি-২৯ মডেলের স্মার্টফোনের মূল্য ৪৫ হাজার টাকা বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। নগদ অর্থ ও দুটি ফোনের মোট আনুমানিক মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৬০ হাজার ২৩৫ টাকা।

এজাহারে অভিযুক্তদের পোশাক ও শারীরিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কেও বর্ণনা দিয়েছেন ভুক্তভোগী। তাঁর দাবি, তাঁদের পরনে ছিল ফুল প্যান্ট ও টি-শার্ট এবং মুখে মাস্ক। তাঁদের মধ্যে একজনের হাতে ব্রেসলেট ছিল বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

দামুড়হুদা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রভাস কুমার বসু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার রাতেই ভুক্তভোগী থানায় এজাহার দিয়েছেন এবং এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি, উদ্ধার করা যায়নি লুট হওয়া মালামাল।

এদিকে চুয়াডাঙ্গা-দর্শনা মহাসড়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পথরোধ করে মারধর ও মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর এ পথে চলাচলকারী মোটরসাইকেল আরোহী ও সাধারণ যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সচেতন মহলের দাবি, সড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশের টহল বাড়ানোর পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নজরদারি জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে সড়কে চলাচলকারীদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়তে পারে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার কিংবা লুট হওয়া টাকা ও মোবাইল ফোন উদ্ধারের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

সুত্র – দৈনিক মাথাভাঙ্গা

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গা-দর্শনা সড়কে মোটরসাইকেল আরোহীকে মারধর করে নগদ ৭৫ হাজার টাকাসহ মালামাল লুট

চুয়াডাঙ্গা-দর্শনা সড়কে মোটরসাইকেল আরোহীকে মারধর করে নগদ ৭৫ হাজার টাকাসহ মালামাল লুট

প্রকাশের সময় : ১১:১৪:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

চুয়াডাঙ্গা-দর্শনা সড়কে মোটরসাইকেল আরোহীকে মারধর করে নগদ টাকা ও দুটি দামি স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ডাকাত দলের বিরুদ্ধে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে লোকনাথপুর ও দর্শনা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের মাঝামাঝি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী জুনায়েদ আহমেদ (২২) রাতেই দামুড়হুদা মডেল থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে এজাহার দিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ; উদ্ধার হয়নি লুট হওয়া মালামালও। গুরুত্বপূর্ণ এই আঞ্চলিক সড়কে সন্ধ্যার পর এমন ঘটনার খবরে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

জুনায়েদ আহমেদ লোকনাথপুরের সৌদিয়ান রিসোর্টের ম্যানেজার। এজাহার ও তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার নিজ কর্মস্থল থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে লোকনাথপুর ও দর্শনা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের মধ্যবর্তী এলাকায় পৌঁছালে সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন তাঁর গতিরোধ করেন। এ সময় ৬ থেকে ৭ জন ব্যক্তি তাঁর ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তাঁর কাছে থাকা নগদ টাকা ও দুটি মোবাইল ফোন নিয়ে তাঁরা পালিয়ে যান।

দায়ের করা এজাহারে জুনায়েদ দাবি করেছেন, লুট হওয়া নগদ টাকার পরিমাণ ৭৫ হাজার ২৩৫ টাকা। এ ছাড়া তাঁর একটি আইফোন ১৬ প্রো ম্যাক্সের মূল্য ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং একটি ভিভো ভি-২৯ মডেলের স্মার্টফোনের মূল্য ৪৫ হাজার টাকা বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। নগদ অর্থ ও দুটি ফোনের মোট আনুমানিক মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৬০ হাজার ২৩৫ টাকা।

এজাহারে অভিযুক্তদের পোশাক ও শারীরিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কেও বর্ণনা দিয়েছেন ভুক্তভোগী। তাঁর দাবি, তাঁদের পরনে ছিল ফুল প্যান্ট ও টি-শার্ট এবং মুখে মাস্ক। তাঁদের মধ্যে একজনের হাতে ব্রেসলেট ছিল বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

দামুড়হুদা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রভাস কুমার বসু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার রাতেই ভুক্তভোগী থানায় এজাহার দিয়েছেন এবং এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি, উদ্ধার করা যায়নি লুট হওয়া মালামাল।

এদিকে চুয়াডাঙ্গা-দর্শনা মহাসড়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পথরোধ করে মারধর ও মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর এ পথে চলাচলকারী মোটরসাইকেল আরোহী ও সাধারণ যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সচেতন মহলের দাবি, সড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশের টহল বাড়ানোর পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নজরদারি জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে সড়কে চলাচলকারীদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়তে পারে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার কিংবা লুট হওয়া টাকা ও মোবাইল ফোন উদ্ধারের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

সুত্র – দৈনিক মাথাভাঙ্গা