১০:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
থমকে গেল বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন

আলমডাঙ্গায় তুচ্ছ ঘটনায় বন্ধুর বাটামের আঘাতে প্রাণ গেল ইমদাদুলের

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় বন্ধুর আচরণ নিয়ে তার মায়ের কাছে অভিযোগ জানানোয় প্রাণ হারিয়েছেন ইমদাদুল হক (২২) নামের এক যুবক। সামান্য কথাকাটাকাটি থেকে সৃষ্ট বিরোধের একপর্যায়ে কাঠের বাটামের আঘাতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা রেজাউল করিমের দায়ের করা হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি নাইস খন্দকারকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে আলমডাঙ্গার গোবিন্দপুর নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইমদাদুল হক আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার নওদাবন্ডবিল গ্রামের রেজাউল করিমের ছেলে। অভিযুক্ত নাইস খন্দকার একই এলাকার মৃত মজনু খন্দকারের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার রাতে গোবিন্দপুর নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন ইমদাদুল ও নাইস। সেখানে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বন্ধুর আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে নাইসের মায়ের কাছে অভিযোগ জানানোর সিদ্ধান্ত নেন ইমদাদুল। নাইসকে রাস্তায় দাড় করিয়ে রেখে তিনি তার বাড়িতে যান এবং ছেলের আচরণ নিয়ে মায়ের কাছে অভিযোগ করেন। এ সময় দুজনের মধ্যে আবারও বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে নাইস কাঠের বাটাম হাতে নিয়ে ইমদাদুলকে ধাওয়া করেন। পালানোর সময় ইমদাদুল বাড়ির ভেতরে পড়ে গেলে তার মাথায় বাটাম দিয়ে আঘাত করেন নাইস। এতে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পেয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকেন ইমদাদুল।

দীর্ঘ সময় ইমদাদুল বাড়ি থেকে বের না হওয়ায় স্বজনেরা তার খোজ করতে যান। পরে বাড়ির ভেতরে টিউবওয়েল ও ঘরের মাঝখানে বেড়ার পাশে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তারা। সেখান থেকে উদ্ধার করে তাকে প্রথমে আলমডাঙ্গার ফাতেমা ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে করে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হন স্বজনেরা। তবে পথেই খাজানগর এলাকায় তার মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত নাইসের মায়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ইমদাদুল তার বাড়িতে এসে ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ইমদাদুল একটি লাঠি দিয়ে নাইসকে আঘাত করে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি পড়ে গেলে নাইস তাঁর মাথায় বাটাম দিয়ে আঘাত করেন।

ঘটনার পর নাইস বাড়ি ছেড়ে লালব্রিজ এলাকায় চলে যান। সেখানে স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাকে দেখতে পেয়ে আটক করার চেষ্টা করেন। পরে তিনি পাশের বধ্যভূমির দিকে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাকে ধরে মারধর করেন তারা। এরপর স্থানীয়রা তাকে আলমডাঙ্গা থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ইমদাদুল বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কয়েক দিন আগে তিনি ঢাকায় গিয়েছিলেন। ফ্লাইট না হওয়ায় মঙ্গলবার বাড়িতে ফিরে আসেন। তাদের দাবি, নাইস কোনো কাজ করতেন না এবং তাঁর মেজাজ ছিল উগ্র।

এদিকে, নিহতের বাবা রেজাউল করিম বাদী হয়ে নাইস খন্দকারকে একমাত্র আসামি করে আলমডাঙ্গা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ তাঁকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আলমডাঙ্গা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) শীতল বিশ্বাস রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, ইয়ারকির ছলে শুরু হওয়া কথাকাটাকাটি থেকে সৃষ্ট বিরোধের জেরে নাইস বাটাম দিয়ে ইমদাদুলের মাথাসহ শরীরের একাধিক স্থানে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরিবারের সদস্যরা তাকে প্রথমে স্থানীয় ক্লিনিকে নেন। পরে কুষ্টিয়ায় নেওয়ার পথে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এসআই শীতল বিশ্বাস আরও বলেন, এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন এবং আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এএইচ

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

আলমডাঙ্গায় তুচ্ছ ঘটনায় বন্ধুর বাটামের আঘাতে প্রাণ গেল ইমদাদুলের

থমকে গেল বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন

আলমডাঙ্গায় তুচ্ছ ঘটনায় বন্ধুর বাটামের আঘাতে প্রাণ গেল ইমদাদুলের

প্রকাশের সময় : ১০:৩১:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় বন্ধুর আচরণ নিয়ে তার মায়ের কাছে অভিযোগ জানানোয় প্রাণ হারিয়েছেন ইমদাদুল হক (২২) নামের এক যুবক। সামান্য কথাকাটাকাটি থেকে সৃষ্ট বিরোধের একপর্যায়ে কাঠের বাটামের আঘাতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা রেজাউল করিমের দায়ের করা হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি নাইস খন্দকারকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে আলমডাঙ্গার গোবিন্দপুর নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইমদাদুল হক আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার নওদাবন্ডবিল গ্রামের রেজাউল করিমের ছেলে। অভিযুক্ত নাইস খন্দকার একই এলাকার মৃত মজনু খন্দকারের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার রাতে গোবিন্দপুর নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন ইমদাদুল ও নাইস। সেখানে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বন্ধুর আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে নাইসের মায়ের কাছে অভিযোগ জানানোর সিদ্ধান্ত নেন ইমদাদুল। নাইসকে রাস্তায় দাড় করিয়ে রেখে তিনি তার বাড়িতে যান এবং ছেলের আচরণ নিয়ে মায়ের কাছে অভিযোগ করেন। এ সময় দুজনের মধ্যে আবারও বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে নাইস কাঠের বাটাম হাতে নিয়ে ইমদাদুলকে ধাওয়া করেন। পালানোর সময় ইমদাদুল বাড়ির ভেতরে পড়ে গেলে তার মাথায় বাটাম দিয়ে আঘাত করেন নাইস। এতে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পেয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকেন ইমদাদুল।

দীর্ঘ সময় ইমদাদুল বাড়ি থেকে বের না হওয়ায় স্বজনেরা তার খোজ করতে যান। পরে বাড়ির ভেতরে টিউবওয়েল ও ঘরের মাঝখানে বেড়ার পাশে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তারা। সেখান থেকে উদ্ধার করে তাকে প্রথমে আলমডাঙ্গার ফাতেমা ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে করে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হন স্বজনেরা। তবে পথেই খাজানগর এলাকায় তার মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত নাইসের মায়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ইমদাদুল তার বাড়িতে এসে ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ইমদাদুল একটি লাঠি দিয়ে নাইসকে আঘাত করে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি পড়ে গেলে নাইস তাঁর মাথায় বাটাম দিয়ে আঘাত করেন।

ঘটনার পর নাইস বাড়ি ছেড়ে লালব্রিজ এলাকায় চলে যান। সেখানে স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাকে দেখতে পেয়ে আটক করার চেষ্টা করেন। পরে তিনি পাশের বধ্যভূমির দিকে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাকে ধরে মারধর করেন তারা। এরপর স্থানীয়রা তাকে আলমডাঙ্গা থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ইমদাদুল বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কয়েক দিন আগে তিনি ঢাকায় গিয়েছিলেন। ফ্লাইট না হওয়ায় মঙ্গলবার বাড়িতে ফিরে আসেন। তাদের দাবি, নাইস কোনো কাজ করতেন না এবং তাঁর মেজাজ ছিল উগ্র।

এদিকে, নিহতের বাবা রেজাউল করিম বাদী হয়ে নাইস খন্দকারকে একমাত্র আসামি করে আলমডাঙ্গা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ তাঁকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আলমডাঙ্গা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) শীতল বিশ্বাস রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, ইয়ারকির ছলে শুরু হওয়া কথাকাটাকাটি থেকে সৃষ্ট বিরোধের জেরে নাইস বাটাম দিয়ে ইমদাদুলের মাথাসহ শরীরের একাধিক স্থানে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরিবারের সদস্যরা তাকে প্রথমে স্থানীয় ক্লিনিকে নেন। পরে কুষ্টিয়ায় নেওয়ার পথে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এসআই শীতল বিশ্বাস আরও বলেন, এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন এবং আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এএইচ