০৫:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় ফেসবুকে মানহানিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে সাংবাদিক রিফাত রহমানকে আইনি নোটিশ অনিক চক্রবর্তীর

ফেসবুকে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসে মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগে চুয়াডাঙ্গার সিনিয়র সাংবাদিক মো. রিফাত রহমানকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন সাংবাদিক অনিক চক্রবর্তী। নোটিশে সাত দিনের মধ্যে যথাযথ জবাব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট আদালতে প্রয়োজনীয় মামলা দায়েরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) আইনজীবী ইমতিয়াজ আহমেদ উজ্জলের মাধ্যমে এ আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। বিষয়টি আইনজীবী ইমতিয়াজ আহমেদ উজ্জল রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি চুয়াডাঙ্গা জজ কোর্টের আইনজীবী।

আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ১১ অক্টোবর রিফাত রহমান তাঁর ব্যবহৃত ও নিজ নামে থাকা ফেসবুক প্রোফাইলে অনিক চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে একটি স্ট্যাটাস দেন। ওই স্ট্যাটাসে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের প্রধান ফটকের দুই পাশে এবং ছাত্রীদের হোস্টেলের কাছে অবৈধ দোকান বসিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। সেখানে অনিক চক্রবর্তীকে ইসকনের অন্যতম সদস্য হিসেবে উল্লেখ করার পাশাপাশি তাঁর কয়েকজন ব্যবসায়িক অংশীদার ও প্রায় ৪২টি দোকানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কথা বলা হয়।

স্ট্যাটাসে আরও অভিযোগ করা হয়, পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে দোকানগুলোতে আলো জ্বালানো হচ্ছে। এ বিষয়ে অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের গণশুনানিতে অনিক চক্রবর্তীকে ডাকা হলেও তিনি উপস্থিত হননি বলে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া কলেজছাত্রীদের ইভটিজিং, খাবারের দোকানগুলোতে মাদকদ্রব্য কেনাবেচা এবং জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোনে হুমকি-ধমকি দেওয়ার অভিযোগও ওই স্ট্যাটাসে তুলে ধরা হয়।

স্ট্যাটাসে আরও বলা হয়, ১১ অক্টোবর রোববার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসক লুৎফন নাহারের সভাপতিত্বে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় জেলা পরিষদের প্রশাসক শরিফুজ্জামান শরিফ অবৈধ দোকানগুলো সরানোর বিষয়ে কথা বলেন। একই সঙ্গে আগের জেলা প্রশাসক জহিরুল ইসলাম এসব দোকানের বেচাকেনা উদ্বোধন করেছিলেন এবং তাঁর উদ্বোধনের কারণে কলেজ কর্তৃপক্ষ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের সাহস দেখায়নি বলেও স্ট্যাটাসে উল্লেখ করা হয়।

তবে আইনি নোটিশে এসব বক্তব্যকে মিথ্যা ও মানহানিকর বলে দাবি করেছেন অনিক চক্রবর্তী। নোটিশে বলা হয়েছে, তিনি ইসকনের কোনো সদস্য নন। সরকারি কলেজের সামনে ৪২টি দোকান থাকার এবং সেসব দোকানের অংশীদার হিসেবে তাঁর ব্যবসা পরিচালনার তথ্যও সঠিক নয় বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

অনিক চক্রবর্তীর দাবি, সেখানে মোট ২২টি দোকান রয়েছে এবং প্রতিটি দোকান পৃথক মালিকের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। অবৈধ দোকানগুলোর বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। তবে কাউকে নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমন করতে পারেন না। আমাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মিথ্যা ও মানহানিকর পোস্ট দিয়ে হেনস্থা করা হয়েছে।

নোটিশে আরও দাবি করা হয়েছে, অনিক চক্রবর্তীর দোকানে মাদকদ্রব্য বিক্রি এবং ইভটিজিংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও মিথ্যা। নোটিশ প্রেরকের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব তথ্য ফেসবুকে প্রচার করে তাঁর সামাজিক ও পেশাগত সম্মানহানি করা হয়েছে।

আইনি নোটিশে অনিক চক্রবর্তীর পেশাগত পরিচয় তুলে ধরে বলা হয়েছে, তিনি বাংলাদেশের সংবাদ চ্যানেল এখন টিভির চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি বাংলা ট্রিবিউন ও দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকায় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন এবং চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে, রিফাত রহমান জেনেশুনে ও উদ্দেশ্যমূলকভাবে অনিক চক্রবর্তীর নাম ও পেশা উল্লেখ করে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছেন, যা আইনের নীতির পরিপন্থী।

এ অবস্থায় আইনি নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে অনিক চক্রবর্তীর কাছে নোটিশের যথাযথ জবাব দেওয়ার জন্য রিফাত রহমানকে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব না দিলে তাঁর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আদালতে প্রয়োজনীয় মামলা দায়ের করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ধরনের মামলার সব আদালত খরচও তাঁকে বহন করতে হবে বলে নোটিশে জানানো হয়েছে।

নোটিশের একটি অনুলিপি পরবর্তী আইনগত কার্যক্রমের জন্য আইনজীবী ইমতিয়াজ আহমেদ উজ্জলের নিজস্ব সেরেস্তায় সংরক্ষণ করা হয়েছে বলে এতে উল্লেখ রয়েছে।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে সিনিয়র সাংবাদিক মো. রিফাত রহমানের ব্যক্তিগত নাম্বারে কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় ফেসবুকে মানহানিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে সাংবাদিক রিফাত রহমানকে আইনি নোটিশ অনিক চক্রবর্তীর

চুয়াডাঙ্গায় ফেসবুকে মানহানিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে সাংবাদিক রিফাত রহমানকে আইনি নোটিশ অনিক চক্রবর্তীর

প্রকাশের সময় : ০৫:৫৩:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

ফেসবুকে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসে মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগে চুয়াডাঙ্গার সিনিয়র সাংবাদিক মো. রিফাত রহমানকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন সাংবাদিক অনিক চক্রবর্তী। নোটিশে সাত দিনের মধ্যে যথাযথ জবাব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট আদালতে প্রয়োজনীয় মামলা দায়েরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) আইনজীবী ইমতিয়াজ আহমেদ উজ্জলের মাধ্যমে এ আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। বিষয়টি আইনজীবী ইমতিয়াজ আহমেদ উজ্জল রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি চুয়াডাঙ্গা জজ কোর্টের আইনজীবী।

আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ১১ অক্টোবর রিফাত রহমান তাঁর ব্যবহৃত ও নিজ নামে থাকা ফেসবুক প্রোফাইলে অনিক চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে একটি স্ট্যাটাস দেন। ওই স্ট্যাটাসে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের প্রধান ফটকের দুই পাশে এবং ছাত্রীদের হোস্টেলের কাছে অবৈধ দোকান বসিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। সেখানে অনিক চক্রবর্তীকে ইসকনের অন্যতম সদস্য হিসেবে উল্লেখ করার পাশাপাশি তাঁর কয়েকজন ব্যবসায়িক অংশীদার ও প্রায় ৪২টি দোকানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কথা বলা হয়।

স্ট্যাটাসে আরও অভিযোগ করা হয়, পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে দোকানগুলোতে আলো জ্বালানো হচ্ছে। এ বিষয়ে অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের গণশুনানিতে অনিক চক্রবর্তীকে ডাকা হলেও তিনি উপস্থিত হননি বলে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া কলেজছাত্রীদের ইভটিজিং, খাবারের দোকানগুলোতে মাদকদ্রব্য কেনাবেচা এবং জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোনে হুমকি-ধমকি দেওয়ার অভিযোগও ওই স্ট্যাটাসে তুলে ধরা হয়।

স্ট্যাটাসে আরও বলা হয়, ১১ অক্টোবর রোববার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসক লুৎফন নাহারের সভাপতিত্বে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় জেলা পরিষদের প্রশাসক শরিফুজ্জামান শরিফ অবৈধ দোকানগুলো সরানোর বিষয়ে কথা বলেন। একই সঙ্গে আগের জেলা প্রশাসক জহিরুল ইসলাম এসব দোকানের বেচাকেনা উদ্বোধন করেছিলেন এবং তাঁর উদ্বোধনের কারণে কলেজ কর্তৃপক্ষ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের সাহস দেখায়নি বলেও স্ট্যাটাসে উল্লেখ করা হয়।

তবে আইনি নোটিশে এসব বক্তব্যকে মিথ্যা ও মানহানিকর বলে দাবি করেছেন অনিক চক্রবর্তী। নোটিশে বলা হয়েছে, তিনি ইসকনের কোনো সদস্য নন। সরকারি কলেজের সামনে ৪২টি দোকান থাকার এবং সেসব দোকানের অংশীদার হিসেবে তাঁর ব্যবসা পরিচালনার তথ্যও সঠিক নয় বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

অনিক চক্রবর্তীর দাবি, সেখানে মোট ২২টি দোকান রয়েছে এবং প্রতিটি দোকান পৃথক মালিকের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। অবৈধ দোকানগুলোর বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। তবে কাউকে নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমন করতে পারেন না। আমাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মিথ্যা ও মানহানিকর পোস্ট দিয়ে হেনস্থা করা হয়েছে।

নোটিশে আরও দাবি করা হয়েছে, অনিক চক্রবর্তীর দোকানে মাদকদ্রব্য বিক্রি এবং ইভটিজিংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও মিথ্যা। নোটিশ প্রেরকের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব তথ্য ফেসবুকে প্রচার করে তাঁর সামাজিক ও পেশাগত সম্মানহানি করা হয়েছে।

আইনি নোটিশে অনিক চক্রবর্তীর পেশাগত পরিচয় তুলে ধরে বলা হয়েছে, তিনি বাংলাদেশের সংবাদ চ্যানেল এখন টিভির চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি বাংলা ট্রিবিউন ও দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকায় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন এবং চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে, রিফাত রহমান জেনেশুনে ও উদ্দেশ্যমূলকভাবে অনিক চক্রবর্তীর নাম ও পেশা উল্লেখ করে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছেন, যা আইনের নীতির পরিপন্থী।

এ অবস্থায় আইনি নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে অনিক চক্রবর্তীর কাছে নোটিশের যথাযথ জবাব দেওয়ার জন্য রিফাত রহমানকে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব না দিলে তাঁর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আদালতে প্রয়োজনীয় মামলা দায়ের করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ধরনের মামলার সব আদালত খরচও তাঁকে বহন করতে হবে বলে নোটিশে জানানো হয়েছে।

নোটিশের একটি অনুলিপি পরবর্তী আইনগত কার্যক্রমের জন্য আইনজীবী ইমতিয়াজ আহমেদ উজ্জলের নিজস্ব সেরেস্তায় সংরক্ষণ করা হয়েছে বলে এতে উল্লেখ রয়েছে।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে সিনিয়র সাংবাদিক মো. রিফাত রহমানের ব্যক্তিগত নাম্বারে কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।