হাড়কাঁপানো শীতে যখন জনজীবন বিপর্যস্ত, উত্তরের হিমেল হাওয়ায় চুয়াডাঙ্গার সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে, ঠিক সেই সময় মানবতার সেবায় ত্রাতার ভূমিকায় এগিয়ে এসেছে ‘চুয়াডাঙ্গা ফাউন্ডেশন’। প্রতি বছরের মতো এবারও শীতার্ত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সংগঠনটি গভীর রাতে শহরের আনাচে-কানাচে ঘুরে ঘুরে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যার পর শুরু হওয়া এই মানবিক কর্মসূচি চলে গভীর রাত পর্যন্ত। চুয়াডাঙ্গা শহরের বড় বাজার এলাকা থেকে শুরু করে কোর্ট মোড়, দৌলতদিয়াড়, হাতিকাটা, রেললাইন বস্তি ও ফুটপাতে শুয়ে থাকা ছিন্নমূল মানুষের কাছে একে একে পৌঁছে দেওয়া হয় উষ্ণ কম্বল। প্রচণ্ড শীত উপেক্ষা করে স্বেচ্ছাসেবীরা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেন—শহরের কোনো অসহায় মানুষ যেন শীতের রাতে কম্বলের অভাবে কষ্ট না পায়।
চুয়াডাঙ্গা ফাউন্ডেশনের সভাপতি আলিফ হোসেন ও উপদেষ্টা গোলাম মাসুদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয় এই কার্যক্রম। সুসংগঠিত পরিকল্পনার মাধ্যমে একদল উদ্যমী তরুণ স্বেচ্ছাসেবী দল ভাগ হয়ে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েন। গভীর রাতে নিরব শহরের রাস্তায় রাস্তায় তারা পৌঁছে যান সেইসব মানুষের কাছে, যাদের শীত নিবারণের সামর্থ্য নেই।
চুয়াডাঙ্গার সামাজিক ও মানবিক অঙ্গনে ‘চুয়াডাঙ্গা ফাউন্ডেশন’ এখন একটি আস্থার নাম। শুধু শীতবস্ত্র বিতরণ নয়, বছরজুড়ে নানা জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে সংগঠনটি সাধারণ মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে। এ বিষয়ে সংগঠনের সভাপতি আলিফ হোসেন বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি মানবতার সেবাই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। এই প্রচণ্ড শীতে একজন মানুষও যেন খোলা আকাশের নিচে কষ্ট না পায়, সেটাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা গোলাম মাসুদ তরুণ স্বেচ্ছাসেবীদের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, এই তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে, মানবতা এখনো বেঁচে আছে। সমাজ বদলাতে এমন উদ্যোগই সবচেয়ে বড় শক্তি।
শীতবস্ত্র পেয়ে অসহায় মানুষের মুখে ফুটে ওঠে স্বস্তির হাসি। হাতিকাটা এলাকার এক বৃদ্ধা আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, বাবা, এই শীতে খুব কষ্টে ছিলাম। কেউ খোঁজ নেয়নি। এই ছেলেগুলো রাতের অন্ধকারে এসে গায়ে কম্বল জড়িয়ে দিয়ে গেল। আল্লাহ ওদের ভালো রাখুক।
এএইচ
রেডিও চুয়াডাঙ্গা ডেস্ক 



















