০৩:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দামুড়হুদায় গৃহবধূকে পি টি য়ে ও বি ষ পানে হ ত্যা র অভিযোগ, কাঁদছে ১০ মাসের শিশু অরশি

Ada. Munna Telecom1

মায়ের কোলজুড়ে ১০ মাসের দুগ্ধপোষ্য শিশু অরশি জান্নাত। যে বয়সে মায়ের আদরে বেড়ে ওঠার কথা, সেই বয়সেই মা’কে হারালো সে। চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার ঝাঁজাডাঙ্গা গ্রামে গৃহবধূ বৃষ্টি খাতুন (২২) অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়ে মুখে বিষ প্রয়োগে নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে তার মাদকাসক্ত স্বামী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে। গত মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) গভীর রাতে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে ঝাঁজাডাঙ্গা গ্রামের মোক্তার হোসেনের ছেলে হৃদয় হোসেনের সঙ্গে বৃষ্টির পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের কোলজুড়ে জন্ম নেয় ১০ মাস বয়সী কন্যা সন্তান অরশি জান্নাত। বিয়ের পর থেকেই স্বামী হৃদয় হোসেনের মাদকাসক্তি ও নির্যাতনের শিকার ছিলেন বৃষ্টি।

পরিবারের অভিযোগ, বৃষ্টির স্বামী প্রায়ই টাকার জন্য তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন। এমনকি তিনি কলেজে অধ্যয়নরত থাকাকালীনও সেখানে গিয়ে তাকে মারধর করা হতো। নিহতের মা রোকসানা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, ‘মঙ্গলবার রাতে হৃদয় ও তার মা শরিফা খাতুন বৃষ্টিকে বেধড়ক মারধর করে। পরে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখাতে তার মুখে জোর করে বিষ ঢেলে দেওয়া হয়।’

নিহতের বড় বোন আরিনা খাতুন জানান, বৃষ্টির শরীর ও গলায় আঘাতের একাধিক চিহ্ন রয়েছে। প্রথমে তাকে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করা হয়, পরে বিষ প্রয়োগ করা হয় বলে তাদের সন্দেহ।

স্থানীয়দের দাবি, এটি কোনো স্বাভাবিক আত্মহত্যার ঘটনা নয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন গ্রামবাসী জানান, বৃষ্টির মুখ ও গলায় কালো দাগ ছিল, যা নির্যাতনের স্পষ্ট প্রমাণ বহন করে। তারা আরও অভিযোগ করেন, হৃদয় হোসেন মাদকসেবনের পাশাপাশি মাদক কারবারের সঙ্গেও জড়িত।

এদিকে, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা পলাতক রয়েছে। পুলিশ ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেছে এবং বুধবার সন্ধ্যায় নিহতের নিজ গ্রামে জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর এটি হত্যা না আত্মহত্যা—তা নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং সেই অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ঘটনায় সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তায় পড়েছে ১০ মাস বয়সী শিশু অরশি জান্নাতের ভবিষ্যৎ। নানী রোকসানা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, এতিম এই শিশুটির ভবিষ্যৎ এখন কে গড়ে দেবে?

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় পাচারকালে ২৮০ কেজি সরকারি চাল-আটা জব্দ : জরিমানার পর সেই বিএনপি নেতা বহিষ্কার

দামুড়হুদায় গৃহবধূকে পি টি য়ে ও বি ষ পানে হ ত্যা র অভিযোগ, কাঁদছে ১০ মাসের শিশু অরশি

প্রকাশের সময় : ১১:২৬:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

মায়ের কোলজুড়ে ১০ মাসের দুগ্ধপোষ্য শিশু অরশি জান্নাত। যে বয়সে মায়ের আদরে বেড়ে ওঠার কথা, সেই বয়সেই মা’কে হারালো সে। চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার ঝাঁজাডাঙ্গা গ্রামে গৃহবধূ বৃষ্টি খাতুন (২২) অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়ে মুখে বিষ প্রয়োগে নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে তার মাদকাসক্ত স্বামী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে। গত মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) গভীর রাতে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে ঝাঁজাডাঙ্গা গ্রামের মোক্তার হোসেনের ছেলে হৃদয় হোসেনের সঙ্গে বৃষ্টির পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের কোলজুড়ে জন্ম নেয় ১০ মাস বয়সী কন্যা সন্তান অরশি জান্নাত। বিয়ের পর থেকেই স্বামী হৃদয় হোসেনের মাদকাসক্তি ও নির্যাতনের শিকার ছিলেন বৃষ্টি।

পরিবারের অভিযোগ, বৃষ্টির স্বামী প্রায়ই টাকার জন্য তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন। এমনকি তিনি কলেজে অধ্যয়নরত থাকাকালীনও সেখানে গিয়ে তাকে মারধর করা হতো। নিহতের মা রোকসানা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, ‘মঙ্গলবার রাতে হৃদয় ও তার মা শরিফা খাতুন বৃষ্টিকে বেধড়ক মারধর করে। পরে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখাতে তার মুখে জোর করে বিষ ঢেলে দেওয়া হয়।’

নিহতের বড় বোন আরিনা খাতুন জানান, বৃষ্টির শরীর ও গলায় আঘাতের একাধিক চিহ্ন রয়েছে। প্রথমে তাকে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করা হয়, পরে বিষ প্রয়োগ করা হয় বলে তাদের সন্দেহ।

স্থানীয়দের দাবি, এটি কোনো স্বাভাবিক আত্মহত্যার ঘটনা নয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন গ্রামবাসী জানান, বৃষ্টির মুখ ও গলায় কালো দাগ ছিল, যা নির্যাতনের স্পষ্ট প্রমাণ বহন করে। তারা আরও অভিযোগ করেন, হৃদয় হোসেন মাদকসেবনের পাশাপাশি মাদক কারবারের সঙ্গেও জড়িত।

এদিকে, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা পলাতক রয়েছে। পুলিশ ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেছে এবং বুধবার সন্ধ্যায় নিহতের নিজ গ্রামে জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর এটি হত্যা না আত্মহত্যা—তা নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং সেই অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ঘটনায় সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তায় পড়েছে ১০ মাস বয়সী শিশু অরশি জান্নাতের ভবিষ্যৎ। নানী রোকসানা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, এতিম এই শিশুটির ভবিষ্যৎ এখন কে গড়ে দেবে?