১০:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গার গাইদঘাটে পুকুরের সব মাছ মেরে ফেলেছে প্রতিপক্ষ : কান্না থামছেনা মাছ চাষীর

  • সজিব উদ্দিন
  • প্রকাশের সময় : ০৪:৩৫:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ নভেম্বর ২০২৫
  • ৬৪১ Views

চুয়াডাঙ্গা সদরের গাইদঘাটে একটি পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে সব মাছ মেরে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। চোখের সামনে শত শত মাছ ভেসে উঠতে দেখে নিজেকে সামলাতে পারছেন না ভুক্তভোগী মাছ চাষী উজির মিয়া।

গত শনিবার (১ নভেম্বর) দিবাগত রাতে সদর উপজেলার মাখালডাঙ্গা ইউনিয়নের গাইদঘাট গ্রামে উজির মিয়ার পুকুরে অজ্ঞাতরা বিষ প্রয়োগ করে। পরদিন থেকে মাছগুলো মরে ভেসে উঠতে থাকে। এ ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন গ্রামের অন্যান্য মাছ চাষিরাও।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ৪ বছর আগে দেড় বিঘা জায়গা বর্গা নিয়ে এই পুকুরটিতে মাছ চাষ শুরু করেন উপজেলার মাখালডাঙ্গা ইউনিয়নের গাইদঘাট গ্রামের শামসুজ্জোহার ছেলে উজির মিয়া। এ বছর পুকুরে প্রায় দেড় লাখ টাকার কাতলা, মৃগেল, তেলাপিয়া, গ্রাস কার্পসহ বিভিন্ন জাতের মাছ চাষ করছেন। আর কিছুদিন পর বিক্রি শুরু করতেন তিনি।

ভুক্তভোগী উজির মিয়া কান্না জড়িত গলায় অভিযোগ করে বলেন, আমি ৫০ হাজার টাকা কিস্তি তুলে ৪৬ হাজার টাকার মাছ ছাড়ি, তারপর আবার ২৭ হাজার টাকার মাছ ছেড়েছি, এরপর মাছ ছেড়েছি সাড়ে আট হাজার টাকার, এরপর গরু বিক্রি করে মাছ ছেড়েছি ৩২ হাজার টাকার। এছাড়াও মাঝে মধ্যে আরো মাছ ছেড়েছি। আমি আশা করেছি একবারে মাছ বিক্রি করে ঘর করবো। আমার আশা আকাংখা সব শেষ। আমি একেবারে নিঃশ্ব হয়ে গিয়েছি। এর আগেও আমার পুকুরে আরো একবার বিষ প্রয়োগ করা হয়৷ এতে আমার প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এই মাছ বিক্রি করে ঘর নির্মাণ করতাম। এক নিমিষেই সব শেষ করে দিল আমার। এ ঘটনায় আমি সদর থানা পুলিশকে অবহিত করেছি।

ভুক্তভোগীর ভাস্তে দীননাথপুর গ্রামের নিবিড় মিয়া জানান, আমার চাচা উজির মিয়া ৪ বছর যাবত এখানে মাছ চাষ করে আসছিলেন, কে বা কাহারা গত শনিবার রাতে আমার চাচার পুকুরে বিষ প্রয়োগ করেন। এতে করে পুকুরের সব মাছ মরে যায়। গতকাল রোববার আমরা পুকুর থেকে ৫ বস্তা পঁচা মাছ তুলেছি। আজও পুকুরে আরো ১০ বস্তা মতো মাছ মরে ভেসে আছে। উনি গরীব মানুষ একেবারে নিঃশ্ব হয়ে গেছেন।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) খালেদূর রহমান রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি দল পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছি এবং অভিযুক্তদের সনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় দুই মামলায় তিনজনের যাবজ্জীবন

চুয়াডাঙ্গার গাইদঘাটে পুকুরের সব মাছ মেরে ফেলেছে প্রতিপক্ষ : কান্না থামছেনা মাছ চাষীর

প্রকাশের সময় : ০৪:৩৫:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ নভেম্বর ২০২৫

চুয়াডাঙ্গা সদরের গাইদঘাটে একটি পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে সব মাছ মেরে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। চোখের সামনে শত শত মাছ ভেসে উঠতে দেখে নিজেকে সামলাতে পারছেন না ভুক্তভোগী মাছ চাষী উজির মিয়া।

গত শনিবার (১ নভেম্বর) দিবাগত রাতে সদর উপজেলার মাখালডাঙ্গা ইউনিয়নের গাইদঘাট গ্রামে উজির মিয়ার পুকুরে অজ্ঞাতরা বিষ প্রয়োগ করে। পরদিন থেকে মাছগুলো মরে ভেসে উঠতে থাকে। এ ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন গ্রামের অন্যান্য মাছ চাষিরাও।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ৪ বছর আগে দেড় বিঘা জায়গা বর্গা নিয়ে এই পুকুরটিতে মাছ চাষ শুরু করেন উপজেলার মাখালডাঙ্গা ইউনিয়নের গাইদঘাট গ্রামের শামসুজ্জোহার ছেলে উজির মিয়া। এ বছর পুকুরে প্রায় দেড় লাখ টাকার কাতলা, মৃগেল, তেলাপিয়া, গ্রাস কার্পসহ বিভিন্ন জাতের মাছ চাষ করছেন। আর কিছুদিন পর বিক্রি শুরু করতেন তিনি।

ভুক্তভোগী উজির মিয়া কান্না জড়িত গলায় অভিযোগ করে বলেন, আমি ৫০ হাজার টাকা কিস্তি তুলে ৪৬ হাজার টাকার মাছ ছাড়ি, তারপর আবার ২৭ হাজার টাকার মাছ ছেড়েছি, এরপর মাছ ছেড়েছি সাড়ে আট হাজার টাকার, এরপর গরু বিক্রি করে মাছ ছেড়েছি ৩২ হাজার টাকার। এছাড়াও মাঝে মধ্যে আরো মাছ ছেড়েছি। আমি আশা করেছি একবারে মাছ বিক্রি করে ঘর করবো। আমার আশা আকাংখা সব শেষ। আমি একেবারে নিঃশ্ব হয়ে গিয়েছি। এর আগেও আমার পুকুরে আরো একবার বিষ প্রয়োগ করা হয়৷ এতে আমার প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এই মাছ বিক্রি করে ঘর নির্মাণ করতাম। এক নিমিষেই সব শেষ করে দিল আমার। এ ঘটনায় আমি সদর থানা পুলিশকে অবহিত করেছি।

ভুক্তভোগীর ভাস্তে দীননাথপুর গ্রামের নিবিড় মিয়া জানান, আমার চাচা উজির মিয়া ৪ বছর যাবত এখানে মাছ চাষ করে আসছিলেন, কে বা কাহারা গত শনিবার রাতে আমার চাচার পুকুরে বিষ প্রয়োগ করেন। এতে করে পুকুরের সব মাছ মরে যায়। গতকাল রোববার আমরা পুকুর থেকে ৫ বস্তা পঁচা মাছ তুলেছি। আজও পুকুরে আরো ১০ বস্তা মতো মাছ মরে ভেসে আছে। উনি গরীব মানুষ একেবারে নিঃশ্ব হয়ে গেছেন।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) খালেদূর রহমান রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি দল পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছি এবং অভিযুক্তদের সনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।