চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গাইদঘাটে ট্রেনে কাটা পড়ে শের আলী (৫৫) নামের এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন।
সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গাইদঘাট রেলপাড়ায় মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শের আলী মাখালডাঙ্গা ইউনিয়নের গাইদঘাট গ্রামের উত্তরপাড়ার মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি তিন সন্তানের জনক ছিলেন।
রেলওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে শের আলী মহিষ চরানোর জন্য বাড়ির পাশের মাঠে যান। দীর্ঘ সময় মহিষ চরানোর পর শারীরিক অসুস্থতা ও ক্লান্তিতে তিনি দুর্বল হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে গাইদঘাট রেলওয়ে স্টেশনের অদূরে রেললাইনের ওপর মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েন। এ সময় রাজশাহী থেকে খুলনাগামী আন্তঃনগর কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনটি ওই স্থান দিয়ে যাওয়ার সময় মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। ট্রেনে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই শের আলীর মৃত্যু হয়। তার শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আশরাফুল ইসলাম বলেন, মহিষ চরানোর সময় অতিরিক্ত ক্লান্ত হয়ে শের আলী রেললাইনের ওপর মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। ট্রেন আসার বিষয়টি বুঝতে পারেননি। পরে ট্রেনে কাটা পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়।
চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। পরে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) জগদীশ চন্দ্র বসু রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনদের কাছ থেকে জানা গেছে, সারাদিন রেললাইনের আশপাশে মহিষ চরানোর কারণে শের আলী ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। একপর্যায়ে তিনি রেললাইনের ওপর মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েন। ট্রেনের চালক বারবার হর্ন দিলেও তিনি তা শুনতে বা বুঝতে পারেননি। পরে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এএইচ
সজিব উদ্দিন, নিজস্ব প্রতিবেদক 






















