০৫:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গার খাসপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার খাসপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চাঁদ আলীর বিরুদ্ধে নিয়মিত বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকা এবং শিক্ষার্থীদের দিয়ে ব্যক্তিগত বিভিন্ন কাজ করানোর অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দিয়ে নিজের বাড়ির ছাগলের জন্য ঘাস কাটানো, গাছ থেকে আম পাড়ানো, পুকুরে মাছের খাবার দেওয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ এমনকি দোকান থেকে সিগারেট আনানোর মতো কাজও করানো হয়েছে। এসব কাজে রাজি না হলে পরীক্ষায় কম নম্বর দেওয়া কিংবা ফেল করিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানোর অভিযোগও করেছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী।

এ ছাড়া প্রধান শিক্ষকের ছেলের কাছে প্রাইভেট না পড়লে পরীক্ষায় কম নম্বর দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন কয়েকজন অভিভাবক। শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রধান শিক্ষকের ছেলে মাঝেমধ্যে বিদ্যালয়ে এসে ক্লাসও নেন।

অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না। বিদ্যালয়ে এলেও কিছুক্ষণ পর বাইরে চলে যান। ফলে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পাঠদান ও শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

সোমবার সকালে সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষক চাঁদ আলীকে পাওয়া যায়নি। সে সময় দায়িত্বে থাকা এক সহকারী শিক্ষক জানান, প্রধান শিক্ষক বাড়িতে গেছেন এবং কিছুক্ষণের মধ্যে বিদ্যালয়ে ফিরে আসবেন। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে চাঁদ আলী জানান, তিনি শিক্ষা অফিসের একটি সভায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পরবর্তীতে তার বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষকের দেওয়া ব্যক্তিগত কাজ করতে অনীহা প্রকাশ করলে পরীক্ষায় কম নম্বর দেওয়া বা ফেল করিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন অভিভাবকও। তাদের দাবি, বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবর্তে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক চাঁদ আলী। তিনি বলেন, ‘আমি নিয়মিত বিদ্যালয়ে ক্লাস নিই। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে, সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি বিদ্যালয়ের কাজেই শিক্ষা অফিসে মিটিংয়ে যাওয়ার জন্য বের হয়েছিলাম।

অভিযোগের বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লাইলা তাসলিমা বলেন, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আমি এই মাত্র শুনলাম। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে সত্যতা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে বিদ্যালয়ের শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল।

সুত্র – দৈনিক মাথাভাঙ্গা

এএইচ

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গার নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে মেহেদী শাহরিয়ারের যোগদান

চুয়াডাঙ্গার খাসপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ

প্রকাশের সময় : ১১:০৮:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার খাসপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চাঁদ আলীর বিরুদ্ধে নিয়মিত বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকা এবং শিক্ষার্থীদের দিয়ে ব্যক্তিগত বিভিন্ন কাজ করানোর অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দিয়ে নিজের বাড়ির ছাগলের জন্য ঘাস কাটানো, গাছ থেকে আম পাড়ানো, পুকুরে মাছের খাবার দেওয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ এমনকি দোকান থেকে সিগারেট আনানোর মতো কাজও করানো হয়েছে। এসব কাজে রাজি না হলে পরীক্ষায় কম নম্বর দেওয়া কিংবা ফেল করিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানোর অভিযোগও করেছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী।

এ ছাড়া প্রধান শিক্ষকের ছেলের কাছে প্রাইভেট না পড়লে পরীক্ষায় কম নম্বর দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন কয়েকজন অভিভাবক। শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রধান শিক্ষকের ছেলে মাঝেমধ্যে বিদ্যালয়ে এসে ক্লাসও নেন।

অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না। বিদ্যালয়ে এলেও কিছুক্ষণ পর বাইরে চলে যান। ফলে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পাঠদান ও শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

সোমবার সকালে সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষক চাঁদ আলীকে পাওয়া যায়নি। সে সময় দায়িত্বে থাকা এক সহকারী শিক্ষক জানান, প্রধান শিক্ষক বাড়িতে গেছেন এবং কিছুক্ষণের মধ্যে বিদ্যালয়ে ফিরে আসবেন। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে চাঁদ আলী জানান, তিনি শিক্ষা অফিসের একটি সভায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পরবর্তীতে তার বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষকের দেওয়া ব্যক্তিগত কাজ করতে অনীহা প্রকাশ করলে পরীক্ষায় কম নম্বর দেওয়া বা ফেল করিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন অভিভাবকও। তাদের দাবি, বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবর্তে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক চাঁদ আলী। তিনি বলেন, ‘আমি নিয়মিত বিদ্যালয়ে ক্লাস নিই। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে, সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি বিদ্যালয়ের কাজেই শিক্ষা অফিসে মিটিংয়ে যাওয়ার জন্য বের হয়েছিলাম।

অভিযোগের বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লাইলা তাসলিমা বলেন, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আমি এই মাত্র শুনলাম। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে সত্যতা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে বিদ্যালয়ের শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল।

সুত্র – দৈনিক মাথাভাঙ্গা

এএইচ