০৫:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তিন দিনের জন্য প্রত্যাহার চুয়াডাঙ্গার পরিবহন ধর্মঘট, দূরপাল্লাসহ সব রুটে স্বাভাবিক যান চলাচল

চুয়াডাঙ্গায় শ্রমিকদের ওপর হামলা, সড়কে বাস আটকে রাখা এবং মহাসড়কে অবৈধ ইজিবাইক চলাচলের প্রতিবাদে শুরু হওয়া অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট তিন দিনের জন্য প্রত্যাহার করা হয়েছে। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. শরীফুজ্জামানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয় পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলো। ফলে আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে জেলার সব রুটে, দূরপাল্লার বাসসহ, যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করে চুয়াডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. শরীফুজ্জামানের আহ্বানে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে আলোচনা ও সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরপরই ধর্মঘট তিন দিনের জন্য প্রত্যাহার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবাই দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবেন, এবং দ্রুত এর সুষ্ঠূ সমাধান হবে।

এর আগে সোমবার ভোর ৬টা থেকে চুয়াডাঙ্গা মোটরযান শ্রমিক ইউনিয়নের শ্রমিক ও বাসচালকেরা জেলার পাঁচটি আন্তঃজেলা লোকাল রুটে অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট শুরু করেন। এ কর্মসূচির কারণে সকাল থেকেই বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

ধর্মঘটের সূত্রপাত হয় দামুড়হুদা উপজেলার ফকিরপাড়া এলাকায় থ্রি-হুইলার ইজিবাইক ও পাখিভ্যানচালকদের সঙ্গে লোকাল বাস শ্রমিকদের বিরোধকে কেন্দ্র করে। শ্রমিকদের অভিযোগ, ওই বিরোধের একপর্যায়ে তাদের ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি মহাসড়কে ব্যারিকেড দিয়ে বাস চলাচলে বাধা দেওয়া এবং কয়েকটি বাস আটকে রাখার অভিযোগও ওঠে।

শ্রমিকদের দাবি, প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে মহাসড়কে এ পরিস্থিতি চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এর প্রতিবাদেই সোমবার সকাল থেকে জেলার পাঁচটি আন্তঃজেলা লোকাল রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেন তারা।

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে চুয়াডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে পরিবহন শ্রমিকদের ওপর হামলা, মহাসড়কে বাস আটকে রাখা এবং মহাসড়কে ইজিবাইক চলাচলের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়। ঘটনার নিষ্পত্তি না হলে মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে চুয়াডাঙ্গার দূরপাল্লার সব বাসও অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

তবে পরবর্তী সময়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. শরীফুজ্জামানের আহ্বানে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে আলোচনা ও সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার রাতে পরিবহন সংগঠনের পক্ষ থেকে শহরে মাইকিং করে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়। ফলে দূরপাল্লার বাস বন্ধের পূর্বঘোষিত কর্মসূচিও আর কার্যকর হচ্ছে না।

পরিবহন সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিরোধের মূল বিষয় তিনটি দাবিকে ঘিরে। এগুলো হলো—পরিবহন শ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, মহাসড়কে বাস আটকে রাখার ঘটনা বন্ধ এবং মহাসড়কে অবৈধভাবে ইজিবাইক চলাচল বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।

এর আগে গত ২৭ আগস্ট চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়নের দৌলতদিয়াড় এলাকায় একটি ইজিবাইক নিয়মবহির্ভূতভাবে শহরে প্রবেশের চেষ্টা করলে সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ ও বাস শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা বাধা দেন। পরে ওই ইজিবাইকচালক তার সহযোগীদের নিয়ে আলোকদিয়া এলাকায় সংগঠিত হয়ে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে একটি বাস আটকে দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় বাসের চালক ও সুপারভাইজারকে লাঞ্ছিত করা, বাসে হামলা এবং তাদের জিম্মি করে রাখার অভিযোগও করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।

ওই ঘটনার প্রতিবাদে জেলার অভ্যন্তরীণ পাঁচটি রুটে বাস-মিনিবাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছিলেন শ্রমিকেরা। পরে জেলা প্রশাসনের মধ্যস্থতায় সে সময় ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়।

সোমবারের ধর্মঘটের কারণে সকাল থেকেই বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা সমস্যায় পড়েন। অনেকেই বাধ্য হয়ে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, পাখিভ্যানসহ ছোট যানবাহনে যাতায়াত করেন। এতে যাত্রীদের সময় ও খরচ দুটোই বেড়ে যায়।

কয়েকজন বাস যাত্রীরা বলেন, ধর্মঘটের কারণে গতকাল যাতায়াতে দূর-দূরান্তের সফরে বেশ সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। আজ আবার বাস চলাচল শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের যে সমস্যাগুলো রয়েছে, সেগুলো আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ীভাবে সমাধান হবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

সজিবুর রহমান নামের একজন বেসরকারি চাকরিজীবি বলেন, বাস চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় এখন আগের মতো সহজেই যাতায়াত করা যাচ্ছে। বিশেষ করে দূরের পথে বাস চালু থাকাটা স্বস্তির। সকাল থেকে বাস চলাচল স্বাভাবিক থাকায় যাত্রীদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমেছে। গতকালের পরিস্থিতিতে অনেকে বিকল্প ছোট যানবাহনের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হয়েছিলেন। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গার নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে মেহেদী শাহরিয়ারের যোগদান

তিন দিনের জন্য প্রত্যাহার চুয়াডাঙ্গার পরিবহন ধর্মঘট, দূরপাল্লাসহ সব রুটে স্বাভাবিক যান চলাচল

প্রকাশের সময় : ১০:২১:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চুয়াডাঙ্গায় শ্রমিকদের ওপর হামলা, সড়কে বাস আটকে রাখা এবং মহাসড়কে অবৈধ ইজিবাইক চলাচলের প্রতিবাদে শুরু হওয়া অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট তিন দিনের জন্য প্রত্যাহার করা হয়েছে। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. শরীফুজ্জামানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয় পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলো। ফলে আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে জেলার সব রুটে, দূরপাল্লার বাসসহ, যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করে চুয়াডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. শরীফুজ্জামানের আহ্বানে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে আলোচনা ও সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরপরই ধর্মঘট তিন দিনের জন্য প্রত্যাহার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবাই দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবেন, এবং দ্রুত এর সুষ্ঠূ সমাধান হবে।

এর আগে সোমবার ভোর ৬টা থেকে চুয়াডাঙ্গা মোটরযান শ্রমিক ইউনিয়নের শ্রমিক ও বাসচালকেরা জেলার পাঁচটি আন্তঃজেলা লোকাল রুটে অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট শুরু করেন। এ কর্মসূচির কারণে সকাল থেকেই বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

ধর্মঘটের সূত্রপাত হয় দামুড়হুদা উপজেলার ফকিরপাড়া এলাকায় থ্রি-হুইলার ইজিবাইক ও পাখিভ্যানচালকদের সঙ্গে লোকাল বাস শ্রমিকদের বিরোধকে কেন্দ্র করে। শ্রমিকদের অভিযোগ, ওই বিরোধের একপর্যায়ে তাদের ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি মহাসড়কে ব্যারিকেড দিয়ে বাস চলাচলে বাধা দেওয়া এবং কয়েকটি বাস আটকে রাখার অভিযোগও ওঠে।

শ্রমিকদের দাবি, প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে মহাসড়কে এ পরিস্থিতি চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এর প্রতিবাদেই সোমবার সকাল থেকে জেলার পাঁচটি আন্তঃজেলা লোকাল রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেন তারা।

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে চুয়াডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে পরিবহন শ্রমিকদের ওপর হামলা, মহাসড়কে বাস আটকে রাখা এবং মহাসড়কে ইজিবাইক চলাচলের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়। ঘটনার নিষ্পত্তি না হলে মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে চুয়াডাঙ্গার দূরপাল্লার সব বাসও অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

তবে পরবর্তী সময়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. শরীফুজ্জামানের আহ্বানে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে আলোচনা ও সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার রাতে পরিবহন সংগঠনের পক্ষ থেকে শহরে মাইকিং করে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়। ফলে দূরপাল্লার বাস বন্ধের পূর্বঘোষিত কর্মসূচিও আর কার্যকর হচ্ছে না।

পরিবহন সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিরোধের মূল বিষয় তিনটি দাবিকে ঘিরে। এগুলো হলো—পরিবহন শ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, মহাসড়কে বাস আটকে রাখার ঘটনা বন্ধ এবং মহাসড়কে অবৈধভাবে ইজিবাইক চলাচল বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।

এর আগে গত ২৭ আগস্ট চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়নের দৌলতদিয়াড় এলাকায় একটি ইজিবাইক নিয়মবহির্ভূতভাবে শহরে প্রবেশের চেষ্টা করলে সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ ও বাস শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা বাধা দেন। পরে ওই ইজিবাইকচালক তার সহযোগীদের নিয়ে আলোকদিয়া এলাকায় সংগঠিত হয়ে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে একটি বাস আটকে দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় বাসের চালক ও সুপারভাইজারকে লাঞ্ছিত করা, বাসে হামলা এবং তাদের জিম্মি করে রাখার অভিযোগও করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।

ওই ঘটনার প্রতিবাদে জেলার অভ্যন্তরীণ পাঁচটি রুটে বাস-মিনিবাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছিলেন শ্রমিকেরা। পরে জেলা প্রশাসনের মধ্যস্থতায় সে সময় ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়।

সোমবারের ধর্মঘটের কারণে সকাল থেকেই বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা সমস্যায় পড়েন। অনেকেই বাধ্য হয়ে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, পাখিভ্যানসহ ছোট যানবাহনে যাতায়াত করেন। এতে যাত্রীদের সময় ও খরচ দুটোই বেড়ে যায়।

কয়েকজন বাস যাত্রীরা বলেন, ধর্মঘটের কারণে গতকাল যাতায়াতে দূর-দূরান্তের সফরে বেশ সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। আজ আবার বাস চলাচল শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের যে সমস্যাগুলো রয়েছে, সেগুলো আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ীভাবে সমাধান হবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

সজিবুর রহমান নামের একজন বেসরকারি চাকরিজীবি বলেন, বাস চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় এখন আগের মতো সহজেই যাতায়াত করা যাচ্ছে। বিশেষ করে দূরের পথে বাস চালু থাকাটা স্বস্তির। সকাল থেকে বাস চলাচল স্বাভাবিক থাকায় যাত্রীদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমেছে। গতকালের পরিস্থিতিতে অনেকে বিকল্প ছোট যানবাহনের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হয়েছিলেন। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।