চুয়াডাঙ্গা শহরে ‘ন্যাচারাল ভারটেক্স লিমিটেড’ নামের একটি কোম্পানির সেমিনারে প্রদর্শিত ফুড সাপ্লিমেন্টের উৎস, অনুমোদন ও বাজারজাতকরণ সংক্রান্ত তথ্যে অসঙ্গতি পাওয়ার অভিযোগে কোম্পানির এক প্রতিনিধিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও সঠিক তথ্য ছাড়া এ ধরনের পণ্যের প্রচার বা বাজারজাত না করার বিষয়ে তাঁর কাছ থেকে অঙ্গীকারনামা নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চুয়াডাঙ্গা শহরের সাদেকআলী মল্লিকপাড়ার আনোয়ার মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় আয়োজিত কোম্পানিটির সেমিনারে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তিথি মিত্র।
জরিমানাপ্রাপ্ত মো. হাসানুজ্জামান (৪৪) সাতক্ষীরা সদর উপজেলার রসুলপুর গ্রামের মো. ইসরাইল হোসেনের ছেলে। তিনি প্রতিষ্ঠানটির ক্রেতা-পরিবেশক হিসেবে সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, ন্যাচারাল ভারটেক্স লিমিটেডের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন এনে ওই মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় সেমিনারের আয়োজন করেন। সেমিনারে প্রদর্শিত পণ্যের অনুমোদন, উৎস ও বাজারজাতকরণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে।
পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের দল সেমিনারে গিয়ে কোম্পানির প্রতিনিধিদের কাছে প্রদর্শিত পণ্যের অনুমোদন, উৎস ও বাজারজাতকরণ-সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখতে চান। এ সময় হাসানুজ্জামান সন্তোষজনক তথ্য ও কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারেননি। পাশাপাশি তাঁর দেওয়া তথ্যের সঙ্গে ল্যাপটপে প্রদর্শিত পণ্যের তথ্য ও ছবির অসঙ্গতি পাওয়া যায়।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তিথি মিত্র জানান, হাসানুজ্জামান দাবি করেন, তাঁরা দেশীয় একটি প্রতিষ্ঠানের ফুড সাপ্লিমেন্টের মার্কেটিং করেন। তবে সেমিনারে ল্যাপটপে প্রদর্শিত পণ্যের তথ্য ও ছবিতে চীনে উৎপাদিত পণ্যের বিষয়টি উঠে আসে। ফলে পণ্যের উৎস ও বাজারজাতকরণ নিয়ে অসঙ্গতি পাওয়া যায়।
তিনি বলেন, ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৪ ধারায় মিথ্যা প্রচারণার মাধ্যমে জনগণকে আকৃষ্ট করার অপরাধে হাসানুজ্জামানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও সঠিক তথ্য ছাড়া এ ধরনের পণ্য বাজারজাত বা প্রচার না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর কাছ থেকে অঙ্গীকারনামা নেওয়া হয়েছে।
অভিযানে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের ঔষধ পরিদর্শক মো. একরামুল করিমসহ পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিল।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র বলেন, ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করে কোনো ধরনের মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এএইচ
রেডিও চুয়াডাঙ্গা ডেস্ক 





















