চুয়াডাঙ্গা সদরের সরোজগঞ্জ এলাকায় ঢাকাগামী রয়েল পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে উল্টে যাওয়ার ঘটনায় অন্তত ২৩ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১৬ জনকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি সাতজন স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা ও রাজশাহীতে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ সড়কের সরোজগঞ্জ বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাচ্ছিল। তবে বাসটিতে মোট কতজন যাত্রী ছিলেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে বাসটি দ্রুতগতিতে ঝিনাইদহ অভিমুখে যাচ্ছিল। সরোজগঞ্জ বাজার এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ একটি পাখিভ্যানকে ওভারটেক করার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ওপর উল্টে যায়। বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে আহত যাত্রীদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। পরে চুয়াডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আহতদের চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, দুর্ঘটনার তীব্রতায় বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীরা গুরুতর আহত হন। কয়েকজন বাসের ভেতরে আটকে পড়লেও স্থানীয়দের সহযোগিতায় দ্রুত তাদের বের করে আনা হয়। আহতদের মধ্যে বুলবুলী নামের এক নারীর একটি হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে যাদের পরিচয় পাওয়া গেছে তারা হলেন, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার রোয়াকুলী গ্রামের ছামিউল (৪০), শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার মো. রুবেল (৪০), চুয়াডাঙ্গার বালিয়াকান্দি গ্রামের মোছা. খাদিজা (১৩), কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার চকহাদী গ্রামের সুমন (৩২), চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার মুন্সিগঞ্জ গ্রামের মো. রাজিব (৩০), চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তালতলা গ্রামের আসাদুল হক (৫০), মাদারীপুর জেলার চর কালিকাপুর গ্রামের মোছা. পঞ্চমী বেগম (৬০), মাদারীপুর জেলার চরকাতলা গ্রামের সালাম (৬৫), মাদারীপুর জেলার চর কালিকাপুর গ্রামের মিজানুর (৫০) ও একই গ্রামের শাহিন (২০), চুয়াডাঙ্গা শহরের ঝিনাইদহ বাস টার্মিনাল এলাকার ফজর আলী (৫০), চুয়াডাঙ্গার পাচলিয়া গ্রামের ফারজানা (১৮), মাদারীপুর জেলার চর কালিকাপুর গ্রামের রাশিদা (৫০), চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কাঞ্চনপুর গ্রামের হাফিজুর (৫৭), চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী গ্রামের সালাম (২০), গোপালগঞ্জ জেলার গোপীনাথপুর গ্রামের মেহেদী হাসান (৪০), চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার গড়চাপড়া গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস (৫৫), চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী গ্রামের আরিফ খান (৬০), চুয়াডাঙ্গা সদরের পিটিআইয়ে কর্মরত আরিফুল আজম (৪৫), চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার হাটবোয়ালিয়া গ্রামের মো. জনি (৪০) আলমডাঙ্গা উপজেলার আনন্দধাম এলাকার মোছা. বুলবুলী (৩৫), শরীয়াতপুর জেলার মোছা. জাহানারা (৬০)। এছাড়া আহত আরও একজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি) ডা. এহসানুল হক তন্ময় বলেন, দুর্ঘটনায় আহত মোট ১৬ জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের সবাইকে জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা বা রাজশাহীতে রেফার করার প্রস্তুতি চলছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আহতদের দেখতে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ সদর হাসপাতালে যান। সেখানে তারা চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে আহতদের খোঁজখবর নেন।

জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, দুর্ঘটনায় একই পরিবারের সাতজনসহ মোট ২৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজন নারীর হাত বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হাসপাতালে এসে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছি। আহতদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতায় আমরা পাশে রয়েছি।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।
এএইচ
নিজস্ব প্রতিবেদক 





















