০৮:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চিকিৎসক পরিচয়ে প্রতারণা ও অনুমোদনহীন পণ্য বিক্রি, চুয়াডাঙ্গায় ভুয়া চিকিৎসকসহ ৩ জনকে কারাদণ্ড

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় তিয়ানশি কোম্পানির কার্যক্রম পরিচালনা, অনুমোদনহীন পণ্য বিক্রি এবং চিকিৎসক পরিচয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে তিনজনকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে তিয়ানশি কোম্পানির বিভিন্ন পণ্য ও মালামাল জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা পণ্য ঘটনাস্থলেই পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার মিয়াপাড়ায় একটি ভাড়া করা ভবনে তিয়ানশি কোম্পানির কার্যক্রম চলাকালে স্থানীয়রা তিনজনকে আটক করেন। তাঁদের কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও পণ্যের বৈধতা নিয়ে অসংগতি দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা প্রশাসনকে খবর দেন।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহিনুর আক্তার। পরে সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। আদালতে কথিত ভুয়া চিকিৎসক মো. হুমায়ূন কবীরকে (৪৫) চার মাসের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে তিয়ানশি কোম্পানির প্রতিনিধি মাসুদ করিম ও আব্দুর রহমানকে দুই মাস করে কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে মো. হুমায়ূন কবীর নিজেকে ‘অল্টারনেটিভ এমবিবিএস’ চিকিৎসক হিসেবে দাবি করেন। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট সিভিল সার্জন তাঁকে মৌখিকভাবে চিকিৎসা দেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো লিখিত অনুমোদন বা বৈধ কাগজপত্র ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে উপস্থাপন করতে পারেননি বলে জানা গেছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত হুমায়ূন কবীর ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার সিরাজুল ইসলামের ছেলে। তিয়ানশি কোম্পানির ‘গোল্ড স্টার’ প্রতিনিধি মাসুদ করিম কুষ্টিয়ার হরিসপুর গ্রামের মহাসিন আলীর ছেলে এবং আব্দুর রহমান আলমডাঙ্গার ডম্বলপুর গ্রামের মোজাম আলীর ছেলে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, তিয়ানশি কোম্পানির ‘গোল্ড স্টার’ প্রতিনিধি মাসুদ করিম দীর্ঘদিন ধরে ডম্বলপুর গ্রামের আব্দুর রহমানের মাধ্যমে আলমডাঙ্গার বিভিন্ন এলাকায় চীনে তৈরি পেস্ট, কফি, ডায়াবেটিসের ওষুধ ও বিভিন্ন ধরনের ফুড সাপ্লিমেন্ট বিক্রি করে আসছিলেন। স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তিকে কাজে লাগিয়ে এসব পণ্যের ব্যবসা সম্প্রসারণের অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে এসব পণ্য বিক্রির পাশাপাশি কথিত চিকিৎসাসেবার নামেও অর্থ আদায় করা হতো। রোগীপ্রতি কমিশনের ভিত্তিতে বিভিন্ন এলাকায় প্রতিনিধি পাঠানোর অভিযোগও করেন স্থানীয়রা। এ কার্যক্রমে কুমারী ইউনিয়ন পরিষদের একজন নারী সদস্যকে সম্পৃক্ত করার অভিযোগও ওঠে।

এদিকে অভিযানে জব্দ করা তিয়ানশি কোম্পানির বিভিন্ন পণ্যের বিএসটিআই অনুমোদন না থাকলেও সেগুলোতে বিএসটিআইয়ের সিল ব্যবহার করে বিক্রি করা হতো বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।

অভিযানের সময় তিয়ানশি কোম্পানির বিভিন্ন পণ্য ও মালামাল জব্দ করে প্রশাসনের হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে আইন অনুযায়ী জব্দ করা মালামাল ঘটনাস্থলেই পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহিনুর আক্তার বলেন, অনুমোদনহীনভাবে চিকিৎসাসেবা ও পণ্য বিক্রির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তিনজনকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জব্দ করা পণ্য আইন অনুযায়ী ধ্বংস করা হয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জীবননগরে বিএনপির মিলাদ ও দোয়া মাহফিল

চিকিৎসক পরিচয়ে প্রতারণা ও অনুমোদনহীন পণ্য বিক্রি, চুয়াডাঙ্গায় ভুয়া চিকিৎসকসহ ৩ জনকে কারাদণ্ড

প্রকাশের সময় : ০৮:০০:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় তিয়ানশি কোম্পানির কার্যক্রম পরিচালনা, অনুমোদনহীন পণ্য বিক্রি এবং চিকিৎসক পরিচয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে তিনজনকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে তিয়ানশি কোম্পানির বিভিন্ন পণ্য ও মালামাল জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা পণ্য ঘটনাস্থলেই পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার মিয়াপাড়ায় একটি ভাড়া করা ভবনে তিয়ানশি কোম্পানির কার্যক্রম চলাকালে স্থানীয়রা তিনজনকে আটক করেন। তাঁদের কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও পণ্যের বৈধতা নিয়ে অসংগতি দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা প্রশাসনকে খবর দেন।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহিনুর আক্তার। পরে সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। আদালতে কথিত ভুয়া চিকিৎসক মো. হুমায়ূন কবীরকে (৪৫) চার মাসের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে তিয়ানশি কোম্পানির প্রতিনিধি মাসুদ করিম ও আব্দুর রহমানকে দুই মাস করে কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে মো. হুমায়ূন কবীর নিজেকে ‘অল্টারনেটিভ এমবিবিএস’ চিকিৎসক হিসেবে দাবি করেন। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট সিভিল সার্জন তাঁকে মৌখিকভাবে চিকিৎসা দেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো লিখিত অনুমোদন বা বৈধ কাগজপত্র ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে উপস্থাপন করতে পারেননি বলে জানা গেছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত হুমায়ূন কবীর ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার সিরাজুল ইসলামের ছেলে। তিয়ানশি কোম্পানির ‘গোল্ড স্টার’ প্রতিনিধি মাসুদ করিম কুষ্টিয়ার হরিসপুর গ্রামের মহাসিন আলীর ছেলে এবং আব্দুর রহমান আলমডাঙ্গার ডম্বলপুর গ্রামের মোজাম আলীর ছেলে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, তিয়ানশি কোম্পানির ‘গোল্ড স্টার’ প্রতিনিধি মাসুদ করিম দীর্ঘদিন ধরে ডম্বলপুর গ্রামের আব্দুর রহমানের মাধ্যমে আলমডাঙ্গার বিভিন্ন এলাকায় চীনে তৈরি পেস্ট, কফি, ডায়াবেটিসের ওষুধ ও বিভিন্ন ধরনের ফুড সাপ্লিমেন্ট বিক্রি করে আসছিলেন। স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তিকে কাজে লাগিয়ে এসব পণ্যের ব্যবসা সম্প্রসারণের অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে এসব পণ্য বিক্রির পাশাপাশি কথিত চিকিৎসাসেবার নামেও অর্থ আদায় করা হতো। রোগীপ্রতি কমিশনের ভিত্তিতে বিভিন্ন এলাকায় প্রতিনিধি পাঠানোর অভিযোগও করেন স্থানীয়রা। এ কার্যক্রমে কুমারী ইউনিয়ন পরিষদের একজন নারী সদস্যকে সম্পৃক্ত করার অভিযোগও ওঠে।

এদিকে অভিযানে জব্দ করা তিয়ানশি কোম্পানির বিভিন্ন পণ্যের বিএসটিআই অনুমোদন না থাকলেও সেগুলোতে বিএসটিআইয়ের সিল ব্যবহার করে বিক্রি করা হতো বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।

অভিযানের সময় তিয়ানশি কোম্পানির বিভিন্ন পণ্য ও মালামাল জব্দ করে প্রশাসনের হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে আইন অনুযায়ী জব্দ করা মালামাল ঘটনাস্থলেই পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহিনুর আক্তার বলেন, অনুমোদনহীনভাবে চিকিৎসাসেবা ও পণ্য বিক্রির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তিনজনকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জব্দ করা পণ্য আইন অনুযায়ী ধ্বংস করা হয়েছে।