১২:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আলমডাঙ্গায় ইউনিয়ন পরিষদের তালাবদ্ধ হলরুম থেকে ১২ বস্তা সরকারি চাল উধাও, অত:পর…

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী ইউনিয়ন পরিষদের তালাবদ্ধ হলরুম থেকে সরকারি বরাদ্দের ১২ বস্তা চাউল চুরির ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে সংঘটিত এ ঘটনায় জনমনে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ দানা বেঁধেছে—বিশেষ করে তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে কীভাবে চাউল বের হলো, তা নিয়ে উঠেছে বড় প্রশ্ন।

জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকারের “ভি.ডব্লিউ.বি” (VWB) কর্মসূচির আওতায় গত ২১ এপ্রিল হারদী ইউনিয়নের জন্য ১৩৮ বস্তা পুষ্টি চাউল (প্রতি বস্তা ৩০ কেজি) বরাদ্দ দেওয়া হয়। এসব চাউল ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে সংরক্ষণ করা ছিল।

২৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার দিকে প্রতিদিনের মতো পরিষদ বন্ধ করে দায়িত্বপ্রাপ্তরা চলে যান। সন্ধ্যা ৭টার দিকে দায়িত্বে থাকা গ্রাম পুলিশ দফাদার সাইফুল ইসলাম ও চৌকিদার টারজার আলী এসে হলরুমের সামনে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা চাউল দেখে সন্দেহ করেন। পরে হলরুম খুলে তারা দেখতে পান, ভেতরে বস্তাগুলো এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে।

খবর পেয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আশিকুজ্জামান ওল্টু, ইউপি সদস্য শেখ শাহানুর, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মনির হোসেনসহ স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। বস্তা গণনা করে দেখা যায়, ১২ বস্তা চাউল নিখোঁজ।

ঘটনার পরপরই স্থানীয়দের তৎপরতায় রাত সাড়ে ১০টার দিকে হারদী মহনপাড়া গ্রামের নাজের মন্ডলের বাঁশবাগান এলাকা থেকে দুই বস্তা চাউলসহ নাঈম আলী (১৯) নামে এক যুবককে আটক করা হয়। সে ইউনিয়ন পরিষদপাড়ার হাফিজুর রহমানের ছেলে। তবে বাকি ১০ বস্তা চাউল তখনও উদ্ধার হয়নি।

এ ঘটনায় ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে আলমডাঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে ২৫ এপ্রিল দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার চকহারদী গ্রামে অভিযান চালিয়ে আরও ৪ বস্তা সরকারি চাউল উদ্ধার করে এবং মুদি ব্যবসায়ী জিয়াউর রহমান (৩৫) ও রতন আলী (১৯) নামে দুজনকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃত জিয়াউর রহমান প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানান, ২৩ এপ্রিল সন্ধ্যায় দুই যুবক তার দোকানে এসে ৪ বস্তা চাউল বিক্রি করতে চায়। তারা প্রতি বস্তা ১ হাজার টাকা দরে মোট ৪ হাজার টাকায় চাউল বিক্রি করে চলে যায়। পরে তিনি এক বস্তা চাউল সামান্য লাভে রতন আলীর কাছে বিক্রি করেন।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, তালাবদ্ধ সরকারি ভবনের ভেতর থেকে এভাবে চাউল চুরি হওয়া কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। এতে ভেতরের কারও যোগসাজশ থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তারা। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—চাবি দফাদারের কাছে থাকলেও চোরেরা সেটি পেল কীভাবে?

এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) বানী ইসরাইল জানান, চুরি হওয়া ১২ বস্তা চাউলের মধ্যে ৬ বস্তা উদ্ধারসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি চাউল উদ্ধার এবং মূলহোতাদের শনাক্তে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শিশু অধিকার ও শিশুশ্রম প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পথে চুয়াডাঙ্গার সাফিন

আলমডাঙ্গায় ইউনিয়ন পরিষদের তালাবদ্ধ হলরুম থেকে ১২ বস্তা সরকারি চাল উধাও, অত:পর…

প্রকাশের সময় : ০৮:০৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী ইউনিয়ন পরিষদের তালাবদ্ধ হলরুম থেকে সরকারি বরাদ্দের ১২ বস্তা চাউল চুরির ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে সংঘটিত এ ঘটনায় জনমনে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ দানা বেঁধেছে—বিশেষ করে তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে কীভাবে চাউল বের হলো, তা নিয়ে উঠেছে বড় প্রশ্ন।

জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকারের “ভি.ডব্লিউ.বি” (VWB) কর্মসূচির আওতায় গত ২১ এপ্রিল হারদী ইউনিয়নের জন্য ১৩৮ বস্তা পুষ্টি চাউল (প্রতি বস্তা ৩০ কেজি) বরাদ্দ দেওয়া হয়। এসব চাউল ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে সংরক্ষণ করা ছিল।

২৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার দিকে প্রতিদিনের মতো পরিষদ বন্ধ করে দায়িত্বপ্রাপ্তরা চলে যান। সন্ধ্যা ৭টার দিকে দায়িত্বে থাকা গ্রাম পুলিশ দফাদার সাইফুল ইসলাম ও চৌকিদার টারজার আলী এসে হলরুমের সামনে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা চাউল দেখে সন্দেহ করেন। পরে হলরুম খুলে তারা দেখতে পান, ভেতরে বস্তাগুলো এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে।

খবর পেয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আশিকুজ্জামান ওল্টু, ইউপি সদস্য শেখ শাহানুর, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মনির হোসেনসহ স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। বস্তা গণনা করে দেখা যায়, ১২ বস্তা চাউল নিখোঁজ।

ঘটনার পরপরই স্থানীয়দের তৎপরতায় রাত সাড়ে ১০টার দিকে হারদী মহনপাড়া গ্রামের নাজের মন্ডলের বাঁশবাগান এলাকা থেকে দুই বস্তা চাউলসহ নাঈম আলী (১৯) নামে এক যুবককে আটক করা হয়। সে ইউনিয়ন পরিষদপাড়ার হাফিজুর রহমানের ছেলে। তবে বাকি ১০ বস্তা চাউল তখনও উদ্ধার হয়নি।

এ ঘটনায় ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে আলমডাঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে ২৫ এপ্রিল দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার চকহারদী গ্রামে অভিযান চালিয়ে আরও ৪ বস্তা সরকারি চাউল উদ্ধার করে এবং মুদি ব্যবসায়ী জিয়াউর রহমান (৩৫) ও রতন আলী (১৯) নামে দুজনকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃত জিয়াউর রহমান প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানান, ২৩ এপ্রিল সন্ধ্যায় দুই যুবক তার দোকানে এসে ৪ বস্তা চাউল বিক্রি করতে চায়। তারা প্রতি বস্তা ১ হাজার টাকা দরে মোট ৪ হাজার টাকায় চাউল বিক্রি করে চলে যায়। পরে তিনি এক বস্তা চাউল সামান্য লাভে রতন আলীর কাছে বিক্রি করেন।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, তালাবদ্ধ সরকারি ভবনের ভেতর থেকে এভাবে চাউল চুরি হওয়া কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। এতে ভেতরের কারও যোগসাজশ থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তারা। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—চাবি দফাদারের কাছে থাকলেও চোরেরা সেটি পেল কীভাবে?

এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) বানী ইসরাইল জানান, চুরি হওয়া ১২ বস্তা চাউলের মধ্যে ৬ বস্তা উদ্ধারসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি চাউল উদ্ধার এবং মূলহোতাদের শনাক্তে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।