০১:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আগামীতে যেন আবার ফ্যাসিস্টদের হাতে দেশ চলে না যায় : শরীফ

চুয়াডাঙ্গা থেকে প্রকাশিত দৈনিক সময়ের সমীকরণের সম্পাদক ও প্রকাশক শরীফুজ্জামান শরীফ বলেছেন, ‘এখন ফ্যাসিস্ট মুক্ত হয়েছে। আগামী দিনে আমাদের যে কর্মকাণ্ডে ফ্যাসিস্টদের চিহ্নিত করতে হবে। বিচারের আওতায় আনতে হবে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাংবাদিক, আইনজীবী, বিভিন্ন সংগঠনের লোকজনকে নিয়ে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। আগামীতে যেন আবার ফ্যাসিস্টদের হাতে দেশ চলে না যায়। আমি কিছুটা দেখছি, যারা ফ্যাসিস্টদের সাথে ছিলো, তারা আবার মিশে যাচ্ছে। তাদেরকে প্রতিহত করতে হবে। আগামী দিনের বাংলাদেশকে গড়তে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে।’

মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় দৈনিক সময়ের সমীকরণের প্রধান কার্যালয়ের মিলনায়তনে ছাত্র-জনতার গণ আন্দোলনে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শরীফুজ্জামান শরীফ।

অনুষ্ঠানে দৈনিক সময়ের সমীকরণ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চুয়াডাঙ্গার কৃতি সন্তান দৈনিক সময়ের সমীকরণের প্রধান পৃষ্ঠপোষক, এনআরবি ওয়ার্ল্ডের প্রেসিডেন্ট ও বাংলাদেশ বিজনেস চেম্বার অব সিঙ্গাপুরের প্রেসিডেন্ট, সাহিদ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ্ব সাহিদুজ্জামান টরিক।

দোয়া ও আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দৈনিক সময়ের সমীকরণ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ শরীফুজ্জামান শরীফ। দৈনিক সময়ের সমীকরণ পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক মেহেরাব্বিন সানভীর উপস্থাপনায় দোয়া ও আলোচনা সভায় জুলাই যোদ্ধাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, হাসনা জাহান খুশবু, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদ্য সাবেক সদস্য সচিব মোঃ সাফফাতুল ইসলাম, জুলাইযোদ্ধা মুশফিকুর রহমান, সাইফুল্লাহ সাদিক সৌরভ, মাহাবুল ইসলাম আকাশ।

আলোচনা সভায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন, দৈনিক সময়ের সমীকরণ এর উপদেষ্টা ও জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাড. মারুফ সরোয়ার বাবু, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি রাজিব হাসান কচি, চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাড. মানিক আকবার, বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কাজল মাহমুদ, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি হাবিবি জহির রায়হান। আলোচনা শেষে দোয়া পরিচালনা করেন চুয়াডাঙ্গা কোর্ট জামে মসজিদের ইমাম মাও. রুহুল আমিন।

শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে যুক্ত থাকায় আমার ঢাকার বাসাতে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। আমার ছেলেও আহত হয়েছিলো। চুয়াডাঙ্গাতে আসার পর আন্দোলনকে বেগবান করতে আমরা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেছি। আসলে আমাদের চুয়াডাঙ্গাতে একটি বিশ্ববিদ্যালয় আছে, সেটিও ফ্যাসিস্টদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বলে আমি মনে করি। বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই। সেজন্য আমাদের চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুরে সেভাবে আন্দোলনটা গড়ে ওঠেনি। তারপরও চুয়াডাঙ্গাতে আমাদের ভাই-বোনেরা যারা আছেন, অনেকভাবে
চেষ্টা করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোর্টমোড়ে যদি শিক্ষার্থীরা ৫ মিনিটও দাঁড়ায়, আমাদের কথা ছিলো, শিক্ষার্থীদের সাথে আমাদের লোকজনের দাড়াঁবে। তবে শিক্ষার্থীরা এক মিনিটও দাড়াতে পারেনি। যখন মারধর হয়েছে, তখন তাদেরকে বিভিন্নভাবে আমরা সহযোগীতা করেছি। হাসপাতালে নিয়ে গেছি। ৪ তারিখে আমাদের দল থেকে সারা বাংলাদেশে নির্দেশনা ছিলো ওপেন দাঁড়াতে হবে। আমরা দাড়িয়েছি।’

ওয়ারিওর্স অফ জুলাই এর সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনা জাহান খুশবু বলেন, ‘আমার প্রথম থেকেই ইচ্ছা ছিলো আন্দোলন এ যাবো। গণমাধ্যমে দেখি, তাদের সাপোর্ট করি, আমার মনে হতো যদি স্বশরীরে বের হতে পারতাম তবে আমার ভালো লাগতো। এমন একটা দিন চলেই আসলো ৪ তারিখে, আমার বোনেরা যখন আন্দোলন এ বের হলো, এই কোর্ট মোড়ে তাদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে, এক প্রকার ধাক্কা দিয়ে অটোতে তুলে দেই। আমাদেরকে ছত্রভঙ্গ করার পিছনে কিছু আইনজীবীর হাত আছে, আমি তাদের নাম বলব না, আমি চিনি তাদেরকে। তাদের সাথে একবার কথা-কাটাকাটিও হয়েছে আমার। আমি ঐদিনগুলো কখনোই ভুলবো না। আমি এখনো বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধামকি পাই। আমাদের ছাত্র আন্দোলন এ যে মামলা টা হয়েছে সেখানে কিছু চুনোপুঁটি ধরা
হয়েছে। রাঘব বোয়ালরা বাইরেই আছে। আমরা এখন ভয়ে থাকি কি হবে না হবে, গণমাধ্যমের কাছে আমার অনুরোধ, এই রাঘব বোয়ালদের শাস্তি দেওয়ার একটা ব্যবশা করা হোক।’

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন চুয়াডাঙ্গা জেলা কমিটির সদ্য সাবেক সদস্য সচিব সাফফাতুল ইসলাম বলেন, ‘একটা বছর পূর্ন হচ্ছে ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পলায়নের। রাষ্ট্রযন্ত্র যে এত বছর ধরে ঘুনে খেয়ে খেয়ে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে। তা পুনরুদ্ধার করতে হবে। এটা ছাত্র-জনগণের অধিকার অথচ এই ব্যাসিক অধিকারটা যে হারিয়ে গেছে, সেটা তারা জানেই না। সেটা যেন তারা ফিরে পাই, এই আকাঙ্খাতেই গত বছর আজকের এই সময়টাতে বাংলাদেশের প্রত্যেকটা মানুষ শ্রমিক, কুলি, রিকশাচালক, সরকারি কর্মকর্তা, বেসরকারি কর্মকর্তা, ছাত্র সবাই মাঠে নেমেছিলো। কিন্তুু এই এক বছরে অন্তবর্তীকালীন সরকার সেই আকাঙ্খার নূন্যতম পরিমাণ বাস্তবায়ন করতে পারেনি বলে আমরা মনে করছি। একটি বিপ্লব এর সূত্র হয়েছে একটি গণঅভ্যুত্থান হয়েছে যেখানে
একটি স্বৈরাচার দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। কিন্তুু তার দোসর এই রাষ্ট্রযন্ত্র যারা চালাই তারা এখনো অবধি এই দেশেই রয়েছে। সামনের দিন বড় একটি বিপ্লব হতে যাচ্ছে ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরও বলেন, আমি সময়ের সমীকরণকে ধন্যবাদ দিতে চাই কারণ, গত জুলাই এ চুয়াডাঙ্গায় একমাত্র গণমাধ্যম প্রিন্ট মিডিয়া হিসেবে যারা একটা দিনের জন্যও তাদের সংবাদ প্রচার বন্ধ রাখেনি। সকল সহযোদ্ধা যারা গণমাধ্যমকর্মী আছেন, যারা কাজ করেছেন তাদের অসংখ্য ভাবে ধন্যবাদ। আমরা আপনাদের সকলকে আর একটা বিষয় জানাতে চাই, আগামীর বাংলাদেশ গড়তে সকল রাজনৈতিক দলেকে ঐক্যবদ্ধভাবে একসাথে কাজ করা লাগবে। ছাত্রদের নিয়ে এবং জনগণকে সাথে নিয়ে। এবং সেই সাথে গণমাধ্যম কর্মীরা যারা সত্য নিষ্ঠার সাথে আমাদের খবর গুলো প্রকাশ করেছেন, সামনের দিন গুলোতেও সমান ভাবে কাজ করবেন বলে আমরা আশাবাদী।’

দোয়া ও আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন, জেলা আইনজীবী ফোরামের সভাপতি অ্যাড. আব্দুর রউফ, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাড. শাহজাহান, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বিপুল আশরাফ, চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামরুজ্জামান সেলিম, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার আহ্বায়ক মঞ্জুরুল আলম মালিক লার্জ, সদস্য সচিব সুমন পারভেজ খান, উদীচীর সহসভাপতি ফরিদ আহম্মেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ আহমেদ, সাংবাদিক এমএ মামুন, রফিক রহমান, রিফাত রহমান, মফিজুর রহমান, ফাইজার চৌধুরী, হুসাইন মালিক, জিসান আহমেদ, সাইফ জাহান, শামসুজ্জোহা রানা, রুবাইত বিন আজাদ, শাফায়েত উল্লাহ, শেখ লিটন, সাকিব আল হাসান, মুন্না রহমান, অর্ণব আহমেদ আশিক, জুলাইযোদ্ধা মঈন আশরাফ অনিক, ফাহিম উদ্দীন মভিন, শিক্ষার্থী আল মারুফ, মাশরাফি আহম্মেদ প্রিতম, কাসেব রহমান, তানভীর ফয়সাল, মুমিনুল ইসলাম, ব্যবসায়ী রাশেদ রায়হান, রবিউল ইসলাম, ব্যাংকার ইব্রাহিম খলিল,আব্বাস উদ্দীন, শিক্ষক হুমায়ন কবির, সাহিদ গ্রুপের একাউন্ট ম্যানেজার মঞ্জুর রশিদ, দৈনিক সময়ের সমীকরণ এর প্রতিবেশী রফিকসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক
সংগঠনসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাহিদুজ্জামান টরিক বলেন, ‘আজ আমার চলে যাবার কথা ছিলো। চুয়াডাঙ্গার যত গুণিজন, সাংবাদিক, কৃতি সন্তান, যারা চুয়াডাঙ্গাকে নিয়ে চিন্তা করেন, তাদের সাথে দেখা করতেই আমি রয়ে গেছি। ৭ জুলাই আমার ঢাকাতে কাজ ছিলো। মূলত বিদেশীদের সাথে প্রেসিডেন্টের একটি ইনভেস্ট বিষয়ে মিটিং ছিলো। আমরা উঠেছিলাম হোটেল ইন্টাকন্টিনেন্টালে। তখন কেবল কোটা আন্দোলন শুরু হয়েছে শাহবাগে। তিনদিনের সেমিনারে প্রত্যেকদিন সেমিনার শেষ করে আমরা চলে যেতাম শাহবাগের পাশ দিয়ে টিচার্স মিলনায়তনে। সেখানে শিক্ষার্থীদের সাথে বসতাম, আলোচনা শুনতাম, মতামত দিতাম। আমি আরও একসপ্তাহ এই কারণেই ঢাকাতেই ছিলাম। ১৬ জুলাই আমি গেছি।’

সাহিদুজ্জামান টরিক বলেন, ‘সিঙ্গাপুরও এমনি ছিলো। সেই সিঙ্গাপুর আজকের দিনে কিভাবে এমন হলো। সেখানে আইন আইনী। সকলের জন্য সমান। মিনিস্টারের ছেলেকেও ছাড় দেয় না। আমি কারো সমালোচনা করছি না, আমার বন্ধু স্বাস্থ্য সচিব। সে বলছে, দোস্ত প্রত্যেকদিন উপদেষ্টার সাথে চারজন ছাত্র এসে বসে থাকে। ডে ওয়ান থেকে তারা আসে। আমি সচিব, ভালোমতো কথা বলতে পারি না। আসলে সব সেক্টরেই এই অবস্থা।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার ভাই রাজনীতি করে। এমপি হবে। বাট তার দলের লোক, গোড়া যদি ঠিক না থাকে, সে এমপি হয়ে কি করবে? কোনো চেঞ্জ করতে পারবে? কোন তদবির করা যাবে না। যে প্রথম হবে, সে চাকরি পাবে। মেধায় যোগ্যতা। আইনের শাসন প্রয়োজন।’

এ সময় দৈনিক সময়ের সমীকরণ এর উপদেষ্টা আব্দুল হান্নান, সহ-সম্পাদক আওয়াল হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদক সোহেল রানা ডালিম, গাংনি অফিস প্রধান মাহাবুব আলম, জীবননগর সহকারী ব্যুরো প্রধান মিথুন মাহমুদ, হিজলগাড়ি প্রতিনিধি আারিফ হাসান, সরোজগঞ্জ প্রতিনিধি ইকরামুল হক, প্রধান কম্পিউটার অপারেটর বজলুল আলম জীবন, মাল্টিমিডিয়া রিপর্টার নাজমুল ইসলাম, কম্পিউটার অপারেটর রোদ্র রহমান পলক, ভিডিও ইডিটর আতিক ইসলাম, অফিস সহায়ক নাজমুল হাসান শান্তসহ বিভিন্ন স্থানের প্রতিনিধি ও সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

চোখের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন, সুস্থতার জন্য দোয়া চাইলেন সাংবাদিক মেহেরাব্বিন সানভী

আগামীতে যেন আবার ফ্যাসিস্টদের হাতে দেশ চলে না যায় : শরীফ

প্রকাশের সময় : ০৩:০৮:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ অগাস্ট ২০২৫

চুয়াডাঙ্গা থেকে প্রকাশিত দৈনিক সময়ের সমীকরণের সম্পাদক ও প্রকাশক শরীফুজ্জামান শরীফ বলেছেন, ‘এখন ফ্যাসিস্ট মুক্ত হয়েছে। আগামী দিনে আমাদের যে কর্মকাণ্ডে ফ্যাসিস্টদের চিহ্নিত করতে হবে। বিচারের আওতায় আনতে হবে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাংবাদিক, আইনজীবী, বিভিন্ন সংগঠনের লোকজনকে নিয়ে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। আগামীতে যেন আবার ফ্যাসিস্টদের হাতে দেশ চলে না যায়। আমি কিছুটা দেখছি, যারা ফ্যাসিস্টদের সাথে ছিলো, তারা আবার মিশে যাচ্ছে। তাদেরকে প্রতিহত করতে হবে। আগামী দিনের বাংলাদেশকে গড়তে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে।’

মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় দৈনিক সময়ের সমীকরণের প্রধান কার্যালয়ের মিলনায়তনে ছাত্র-জনতার গণ আন্দোলনে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শরীফুজ্জামান শরীফ।

অনুষ্ঠানে দৈনিক সময়ের সমীকরণ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চুয়াডাঙ্গার কৃতি সন্তান দৈনিক সময়ের সমীকরণের প্রধান পৃষ্ঠপোষক, এনআরবি ওয়ার্ল্ডের প্রেসিডেন্ট ও বাংলাদেশ বিজনেস চেম্বার অব সিঙ্গাপুরের প্রেসিডেন্ট, সাহিদ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ্ব সাহিদুজ্জামান টরিক।

দোয়া ও আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দৈনিক সময়ের সমীকরণ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ শরীফুজ্জামান শরীফ। দৈনিক সময়ের সমীকরণ পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক মেহেরাব্বিন সানভীর উপস্থাপনায় দোয়া ও আলোচনা সভায় জুলাই যোদ্ধাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, হাসনা জাহান খুশবু, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদ্য সাবেক সদস্য সচিব মোঃ সাফফাতুল ইসলাম, জুলাইযোদ্ধা মুশফিকুর রহমান, সাইফুল্লাহ সাদিক সৌরভ, মাহাবুল ইসলাম আকাশ।

আলোচনা সভায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন, দৈনিক সময়ের সমীকরণ এর উপদেষ্টা ও জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাড. মারুফ সরোয়ার বাবু, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি রাজিব হাসান কচি, চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাড. মানিক আকবার, বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কাজল মাহমুদ, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি হাবিবি জহির রায়হান। আলোচনা শেষে দোয়া পরিচালনা করেন চুয়াডাঙ্গা কোর্ট জামে মসজিদের ইমাম মাও. রুহুল আমিন।

শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে যুক্ত থাকায় আমার ঢাকার বাসাতে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। আমার ছেলেও আহত হয়েছিলো। চুয়াডাঙ্গাতে আসার পর আন্দোলনকে বেগবান করতে আমরা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেছি। আসলে আমাদের চুয়াডাঙ্গাতে একটি বিশ্ববিদ্যালয় আছে, সেটিও ফ্যাসিস্টদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বলে আমি মনে করি। বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই। সেজন্য আমাদের চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুরে সেভাবে আন্দোলনটা গড়ে ওঠেনি। তারপরও চুয়াডাঙ্গাতে আমাদের ভাই-বোনেরা যারা আছেন, অনেকভাবে
চেষ্টা করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোর্টমোড়ে যদি শিক্ষার্থীরা ৫ মিনিটও দাঁড়ায়, আমাদের কথা ছিলো, শিক্ষার্থীদের সাথে আমাদের লোকজনের দাড়াঁবে। তবে শিক্ষার্থীরা এক মিনিটও দাড়াতে পারেনি। যখন মারধর হয়েছে, তখন তাদেরকে বিভিন্নভাবে আমরা সহযোগীতা করেছি। হাসপাতালে নিয়ে গেছি। ৪ তারিখে আমাদের দল থেকে সারা বাংলাদেশে নির্দেশনা ছিলো ওপেন দাঁড়াতে হবে। আমরা দাড়িয়েছি।’

ওয়ারিওর্স অফ জুলাই এর সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনা জাহান খুশবু বলেন, ‘আমার প্রথম থেকেই ইচ্ছা ছিলো আন্দোলন এ যাবো। গণমাধ্যমে দেখি, তাদের সাপোর্ট করি, আমার মনে হতো যদি স্বশরীরে বের হতে পারতাম তবে আমার ভালো লাগতো। এমন একটা দিন চলেই আসলো ৪ তারিখে, আমার বোনেরা যখন আন্দোলন এ বের হলো, এই কোর্ট মোড়ে তাদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে, এক প্রকার ধাক্কা দিয়ে অটোতে তুলে দেই। আমাদেরকে ছত্রভঙ্গ করার পিছনে কিছু আইনজীবীর হাত আছে, আমি তাদের নাম বলব না, আমি চিনি তাদেরকে। তাদের সাথে একবার কথা-কাটাকাটিও হয়েছে আমার। আমি ঐদিনগুলো কখনোই ভুলবো না। আমি এখনো বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধামকি পাই। আমাদের ছাত্র আন্দোলন এ যে মামলা টা হয়েছে সেখানে কিছু চুনোপুঁটি ধরা
হয়েছে। রাঘব বোয়ালরা বাইরেই আছে। আমরা এখন ভয়ে থাকি কি হবে না হবে, গণমাধ্যমের কাছে আমার অনুরোধ, এই রাঘব বোয়ালদের শাস্তি দেওয়ার একটা ব্যবশা করা হোক।’

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন চুয়াডাঙ্গা জেলা কমিটির সদ্য সাবেক সদস্য সচিব সাফফাতুল ইসলাম বলেন, ‘একটা বছর পূর্ন হচ্ছে ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পলায়নের। রাষ্ট্রযন্ত্র যে এত বছর ধরে ঘুনে খেয়ে খেয়ে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে। তা পুনরুদ্ধার করতে হবে। এটা ছাত্র-জনগণের অধিকার অথচ এই ব্যাসিক অধিকারটা যে হারিয়ে গেছে, সেটা তারা জানেই না। সেটা যেন তারা ফিরে পাই, এই আকাঙ্খাতেই গত বছর আজকের এই সময়টাতে বাংলাদেশের প্রত্যেকটা মানুষ শ্রমিক, কুলি, রিকশাচালক, সরকারি কর্মকর্তা, বেসরকারি কর্মকর্তা, ছাত্র সবাই মাঠে নেমেছিলো। কিন্তুু এই এক বছরে অন্তবর্তীকালীন সরকার সেই আকাঙ্খার নূন্যতম পরিমাণ বাস্তবায়ন করতে পারেনি বলে আমরা মনে করছি। একটি বিপ্লব এর সূত্র হয়েছে একটি গণঅভ্যুত্থান হয়েছে যেখানে
একটি স্বৈরাচার দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। কিন্তুু তার দোসর এই রাষ্ট্রযন্ত্র যারা চালাই তারা এখনো অবধি এই দেশেই রয়েছে। সামনের দিন বড় একটি বিপ্লব হতে যাচ্ছে ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরও বলেন, আমি সময়ের সমীকরণকে ধন্যবাদ দিতে চাই কারণ, গত জুলাই এ চুয়াডাঙ্গায় একমাত্র গণমাধ্যম প্রিন্ট মিডিয়া হিসেবে যারা একটা দিনের জন্যও তাদের সংবাদ প্রচার বন্ধ রাখেনি। সকল সহযোদ্ধা যারা গণমাধ্যমকর্মী আছেন, যারা কাজ করেছেন তাদের অসংখ্য ভাবে ধন্যবাদ। আমরা আপনাদের সকলকে আর একটা বিষয় জানাতে চাই, আগামীর বাংলাদেশ গড়তে সকল রাজনৈতিক দলেকে ঐক্যবদ্ধভাবে একসাথে কাজ করা লাগবে। ছাত্রদের নিয়ে এবং জনগণকে সাথে নিয়ে। এবং সেই সাথে গণমাধ্যম কর্মীরা যারা সত্য নিষ্ঠার সাথে আমাদের খবর গুলো প্রকাশ করেছেন, সামনের দিন গুলোতেও সমান ভাবে কাজ করবেন বলে আমরা আশাবাদী।’

দোয়া ও আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন, জেলা আইনজীবী ফোরামের সভাপতি অ্যাড. আব্দুর রউফ, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাড. শাহজাহান, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বিপুল আশরাফ, চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামরুজ্জামান সেলিম, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার আহ্বায়ক মঞ্জুরুল আলম মালিক লার্জ, সদস্য সচিব সুমন পারভেজ খান, উদীচীর সহসভাপতি ফরিদ আহম্মেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ আহমেদ, সাংবাদিক এমএ মামুন, রফিক রহমান, রিফাত রহমান, মফিজুর রহমান, ফাইজার চৌধুরী, হুসাইন মালিক, জিসান আহমেদ, সাইফ জাহান, শামসুজ্জোহা রানা, রুবাইত বিন আজাদ, শাফায়েত উল্লাহ, শেখ লিটন, সাকিব আল হাসান, মুন্না রহমান, অর্ণব আহমেদ আশিক, জুলাইযোদ্ধা মঈন আশরাফ অনিক, ফাহিম উদ্দীন মভিন, শিক্ষার্থী আল মারুফ, মাশরাফি আহম্মেদ প্রিতম, কাসেব রহমান, তানভীর ফয়সাল, মুমিনুল ইসলাম, ব্যবসায়ী রাশেদ রায়হান, রবিউল ইসলাম, ব্যাংকার ইব্রাহিম খলিল,আব্বাস উদ্দীন, শিক্ষক হুমায়ন কবির, সাহিদ গ্রুপের একাউন্ট ম্যানেজার মঞ্জুর রশিদ, দৈনিক সময়ের সমীকরণ এর প্রতিবেশী রফিকসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক
সংগঠনসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাহিদুজ্জামান টরিক বলেন, ‘আজ আমার চলে যাবার কথা ছিলো। চুয়াডাঙ্গার যত গুণিজন, সাংবাদিক, কৃতি সন্তান, যারা চুয়াডাঙ্গাকে নিয়ে চিন্তা করেন, তাদের সাথে দেখা করতেই আমি রয়ে গেছি। ৭ জুলাই আমার ঢাকাতে কাজ ছিলো। মূলত বিদেশীদের সাথে প্রেসিডেন্টের একটি ইনভেস্ট বিষয়ে মিটিং ছিলো। আমরা উঠেছিলাম হোটেল ইন্টাকন্টিনেন্টালে। তখন কেবল কোটা আন্দোলন শুরু হয়েছে শাহবাগে। তিনদিনের সেমিনারে প্রত্যেকদিন সেমিনার শেষ করে আমরা চলে যেতাম শাহবাগের পাশ দিয়ে টিচার্স মিলনায়তনে। সেখানে শিক্ষার্থীদের সাথে বসতাম, আলোচনা শুনতাম, মতামত দিতাম। আমি আরও একসপ্তাহ এই কারণেই ঢাকাতেই ছিলাম। ১৬ জুলাই আমি গেছি।’

সাহিদুজ্জামান টরিক বলেন, ‘সিঙ্গাপুরও এমনি ছিলো। সেই সিঙ্গাপুর আজকের দিনে কিভাবে এমন হলো। সেখানে আইন আইনী। সকলের জন্য সমান। মিনিস্টারের ছেলেকেও ছাড় দেয় না। আমি কারো সমালোচনা করছি না, আমার বন্ধু স্বাস্থ্য সচিব। সে বলছে, দোস্ত প্রত্যেকদিন উপদেষ্টার সাথে চারজন ছাত্র এসে বসে থাকে। ডে ওয়ান থেকে তারা আসে। আমি সচিব, ভালোমতো কথা বলতে পারি না। আসলে সব সেক্টরেই এই অবস্থা।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার ভাই রাজনীতি করে। এমপি হবে। বাট তার দলের লোক, গোড়া যদি ঠিক না থাকে, সে এমপি হয়ে কি করবে? কোনো চেঞ্জ করতে পারবে? কোন তদবির করা যাবে না। যে প্রথম হবে, সে চাকরি পাবে। মেধায় যোগ্যতা। আইনের শাসন প্রয়োজন।’

এ সময় দৈনিক সময়ের সমীকরণ এর উপদেষ্টা আব্দুল হান্নান, সহ-সম্পাদক আওয়াল হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদক সোহেল রানা ডালিম, গাংনি অফিস প্রধান মাহাবুব আলম, জীবননগর সহকারী ব্যুরো প্রধান মিথুন মাহমুদ, হিজলগাড়ি প্রতিনিধি আারিফ হাসান, সরোজগঞ্জ প্রতিনিধি ইকরামুল হক, প্রধান কম্পিউটার অপারেটর বজলুল আলম জীবন, মাল্টিমিডিয়া রিপর্টার নাজমুল ইসলাম, কম্পিউটার অপারেটর রোদ্র রহমান পলক, ভিডিও ইডিটর আতিক ইসলাম, অফিস সহায়ক নাজমুল হাসান শান্তসহ বিভিন্ন স্থানের প্রতিনিধি ও সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।