চিরকুটে যা লেখা আছে, পাঠকদের নিকট হুবহু তুলে ধরা হলো-
শ্রাবণ রহমান জিতু আমি তোমাকে অসম্ভব ভাবে ভালোবাসতাম আমি। আমার ভয়াবহ অতীত নিয়েও সত্যিকারের ভালোবাসছিলাম। তোমাকে নিয়ে অনেক সপ্ন দেখেছিলাম। আমাদের ছোটো একটা সংসার হবে, আমাদের একটা সুন্দর একটা ভবিষ্যৎ হবে। কিভাবে পারলে ? একটিবার ও আমার কথা মনে পড়লো না? আমাদের মূহূর্তগুলো কোনোকিছুই মনে পড়লো না? আমরা ঝগড়া করতাম, মারামারি করতাম তবুও একসময় ভালোবাসতে ছাড়িনি। শ্রাবন রহমান জিতু আমি তোমাকে ভালোবেসেছি। তুমিই শেষ ভালোবাসা মা-ভাই তোমরা চেষ্টা করেছে। সবসময় আগলিয়ে রাখতে কিছু কথা যার জন্য তোমাদের ক্ষতি চাই কিন্তু তোমরা আমাকে মাফ করে দিও। শ্রাবন রহমান জিতু ই আমার শেষ ভালোবাসা। এর সাথে কাটানো দিনগুলো – রাতগুলো আমার জন্য অনেক কিছু ছিল। ১ মাস একসাথে সংসার এর মত জিবনটা উপভোগ করতাম এখন সে অন্য কারো। আমার মিত্যুর দায় শুধু মাত্র শ্রাবণ রহমান জিতু পিতাঃ- মতিউর রহমানের পুত্র, আজ থেকে তুমি মুক্তি শ্রাবন রহমান জিতু মিত্যুর পর ও ভালোবাসব। আমার সাথে যা করল সেটা অন্যায়। অহনা… ২৯,০৪,২০২৬

প্রেমিক জিতু
চুয়াডাঙ্গা শহরের শেখপাড়ার একটি ভাড়া বাসা থেকে মুমতাহেনা অহনা (২২) নামের এক তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার হওয়ায় ঘটনাটি ঘিরে নতুন করে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। জানা গেছে, ওই বাসায় একাই বসবাস করতেন তিনি।
নিহত মুমতাহেনা অহনা গোপালগঞ্জ জেলা সদরের বাসিন্দা। তিনি চুয়াডাঙ্গা সমবায় নিউ মার্কেট এলাকার ‘রংধনু গিফট গার্ডেন’-এ ব্র্যান্ড প্রমোটার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে, যেখানে এক ব্যক্তির প্রতি গভীর ভালোবাসার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে সেটি তার সাবেক স্বামীকে উদ্দেশ্য করে লেখা হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে আরও তদন্ত প্রয়োজন।
তিনি আরও জানান, নিহতের মা চুয়াডাঙ্গার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা আসার পর বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সহায়ক হবে।

রংধনু গিফট গার্ডেনের স্বত্বাধিকারী মিজানুর রহমান জুয়েল বলেন, মুমতাহেনা অহনা টেকনো এন্টারপ্রাইজ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের অধীনে ব্র্যান্ড প্রমোটার হিসেবে কাজ করতেন। তিনি প্রায় এক বছর ধরে তার দোকানে কর্মরত ছিলেন। বুধবার সকালে দোকানে উপস্থিত না হওয়ায় বারবার ফোন করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে জানতে পারেন, শেখপাড়ার ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, কয়েকদিন আগে তিনি শেখপাড়ায় নতুন ভাড়া বাসায় উঠেছিলেন এবং ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ডিভোর্সি ছিলেন। পারিবারিক কারণে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।
বাড়ির মালিক বলন, গত ১০-১২ দিন আগে এই বাড়িতে ভাড়া নেন। একটি শিশু প্রথমে জানালা দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পায় এবং বিষয়টি তাদের জানায়। পরে তারা নিশ্চিত হয়ে পুলিশে খবর দিলে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এএইচ
নিজস্ব প্রতিবেদক 






















