চুয়াডাঙ্গায় ৯ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। ৯ মাস বয়সী শিশুর মৃত্যুকে ঘিরে শুরুতে ‘হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু’ বলে দাবি করা হলেও পরে সেই তথ্য সংশোধন করেছে সদর হাসপাতালে ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. নাজমুস সাকিব। তিনি প্রথমে গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, হামে আক্রান্ত হয়ে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।
সংবাদ প্রকাশের পরে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, হামের কারণে নয়,অন্য কোনো কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
জেলার সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদ রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, শিশুটি হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিল এবং চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়িতেও ফিরেছিল। পরবর্তীতে তার মৃত্যু হলেও সেটি সরাসরি হামের কারণে হয়েছে, এমনটি নিশ্চিত নয়। অন্য কোনো কারণেও মৃত্যু হতে পারে বলে তিনি দাবি করেন।
এর আগে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে আনা হলে হুমাইরা খাতুন নামে ওই শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। সে সদর উপজেলার মাখালডাঙ্গা ইউনিয়নের দীননাথপুর গ্রামের নিমতলাপাড়ার বাসিন্দা হুমায়ুন ইকবাল আহমেদের কন্যা।
এ ঘটনার পরই চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. নাজমুস সাকিব রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে জানান, জেলায় প্রথমবারের মতো হামে আক্রান্ত হয়ে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে এবং ঢাকায় পাঠানো নমুনায় হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। তবে ঘন্টা দুই পর তিনি তার বক্তব্য সংশোধন করে জানান, তাকে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছিল। পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, শিশুটির হামের উপসর্গ ছিল। হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়নি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ এপ্রিল হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুটিকে সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৯ এপ্রিল তাকে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। ২৩ এপ্রিল চিকিৎসা শেষে তাকে ছাড়পত্র দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হয়। কিন্তু পরদিন সকালে তার শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতি হলে পুনরায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। হাসপাতাল সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত জেলায় প্রায় ৫০ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।
এএইচ
নিজস্ব প্রতিবেদক 





















