০৬:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
চুয়াডাঙ্গায় আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবসে আলোচনা সভা

তথ্য যাচাই ছাড়া সামাজিক মাধ্যমে প্রচার নয়: চুয়াডাঙ্গায় জেলা প্রশাসক

  • আশিকুর রহমান
  • প্রকাশের সময় : ১০:৪৯:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫১৮ Views

ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে দ্রুতগতিতে তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের প্রবাহও বাড়ছে। এমন বাস্তবতায় তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা, জনগণের তথ্যপ্রাপ্তি সহজ করা এবং অপতথ্য প্রতিরোধে সরকারি প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে চুয়াডাঙ্গায় আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবসের আলোচনা সভায়।

‘ডিজিটাল যুগে সঠিক তথ্য নিশ্চিতকরণ, অপতথ্য রোধে তথ্য অধিকারের ভূমিকা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে এ সভার আয়োজন করে জেলা প্রশাসন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক শারমিন আক্তার। প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। সভাটি সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বি.এম. তারিক উজ জামান। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন টিটিসির অধ্যক্ষ মোছাব্বেরুজ্জামান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান সময়ে মানুষের কাছে তথ্য পৌঁছাতে খুব বেশি সময় লাগছে না। তবে একই গতিতে ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্যও ছড়িয়ে পড়ছে। এ কারণে তথ্যের যথার্থতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপতথ্য প্রতিরোধে প্রত্যেককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে তথ্য পাওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও স্বচ্ছ করতে হবে। জনগণের কাছে নির্ভুল তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা গেলে সরকারি কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে এবং প্রশাসন ও জনগণের মধ্যকার দূরত্বও কমে আসবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্কতার ওপর গুরুত্ব দেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য দেখার সঙ্গে সঙ্গেই যাচাই-বাছাই না করে তা প্রচার করা উচিত নয়। তথ্যের সত্যতা যাচাই করে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সেটি ব্যবহার করতে হবে। একই সঙ্গে অপতথ্যের বিস্তার ঠেকাতে সরকারি প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম এবং জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

সভায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক দেবাশীষ কুমার, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি এবং দৈনিক আজকের চুয়াডাঙ্গার সম্পাদক ও প্রকাশক বিপুল আশরাফ।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) হুমায়ুন কবির, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক দীপক কুমার সাহা, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আনিসুর রহমান, সহকারী কমিশনার এস.এম. আব্দুর রউফ শিবলু, মীর্জা শহিদুল, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সিদ্দিকুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার সাজিদ হাসান এবং জেলা ক্রীড়া অফিসার সেলিম রেজা। এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সভায় অংশ নেন।

আলোচনায় তথ্য অধিকার আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন, সাধারণ মানুষের তথ্য পাওয়ার সুযোগ আরও সহজ করা, সরকারি কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি জোরদার এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অপতথ্য প্রতিরোধে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গার নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে মেহেদী শাহরিয়ারের যোগদান

চুয়াডাঙ্গায় আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবসে আলোচনা সভা

তথ্য যাচাই ছাড়া সামাজিক মাধ্যমে প্রচার নয়: চুয়াডাঙ্গায় জেলা প্রশাসক

প্রকাশের সময় : ১০:৪৯:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে দ্রুতগতিতে তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের প্রবাহও বাড়ছে। এমন বাস্তবতায় তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা, জনগণের তথ্যপ্রাপ্তি সহজ করা এবং অপতথ্য প্রতিরোধে সরকারি প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে চুয়াডাঙ্গায় আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবসের আলোচনা সভায়।

‘ডিজিটাল যুগে সঠিক তথ্য নিশ্চিতকরণ, অপতথ্য রোধে তথ্য অধিকারের ভূমিকা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে এ সভার আয়োজন করে জেলা প্রশাসন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক শারমিন আক্তার। প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। সভাটি সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বি.এম. তারিক উজ জামান। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন টিটিসির অধ্যক্ষ মোছাব্বেরুজ্জামান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান সময়ে মানুষের কাছে তথ্য পৌঁছাতে খুব বেশি সময় লাগছে না। তবে একই গতিতে ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্যও ছড়িয়ে পড়ছে। এ কারণে তথ্যের যথার্থতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপতথ্য প্রতিরোধে প্রত্যেককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে তথ্য পাওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও স্বচ্ছ করতে হবে। জনগণের কাছে নির্ভুল তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা গেলে সরকারি কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে এবং প্রশাসন ও জনগণের মধ্যকার দূরত্বও কমে আসবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্কতার ওপর গুরুত্ব দেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য দেখার সঙ্গে সঙ্গেই যাচাই-বাছাই না করে তা প্রচার করা উচিত নয়। তথ্যের সত্যতা যাচাই করে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সেটি ব্যবহার করতে হবে। একই সঙ্গে অপতথ্যের বিস্তার ঠেকাতে সরকারি প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম এবং জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

সভায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক দেবাশীষ কুমার, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি এবং দৈনিক আজকের চুয়াডাঙ্গার সম্পাদক ও প্রকাশক বিপুল আশরাফ।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) হুমায়ুন কবির, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক দীপক কুমার সাহা, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আনিসুর রহমান, সহকারী কমিশনার এস.এম. আব্দুর রউফ শিবলু, মীর্জা শহিদুল, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সিদ্দিকুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার সাজিদ হাসান এবং জেলা ক্রীড়া অফিসার সেলিম রেজা। এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সভায় অংশ নেন।

আলোচনায় তথ্য অধিকার আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন, সাধারণ মানুষের তথ্য পাওয়ার সুযোগ আরও সহজ করা, সরকারি কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি জোরদার এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অপতথ্য প্রতিরোধে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।