জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বন্ধ করে একটি নিরাপদ, টেকসই ও সবুজ পৃথিবী গড়ার দাবিতে চুয়াডাঙ্গা সদরের দশমাইলে পালিত হয়েছে ‘গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক-২০২৬’। শুক্রবার (০৮ মে) সকালে চুয়াডাঙ্গা ভলান্টিয়ার্স-এর আয়োজনে আলিয়ারপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পরিবেশ সচেতনতামূলক এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
এবারের ক্লাইমেট স্ট্রাইকের প্রতিপাদ্য ছিল— “From Independence to Resilience – No Future Without Nature” অর্থাৎ, “স্বাধীনতা থেকে সহনশীলতা—প্রকৃতি ছাড়া ভবিষ্যৎ নেই।”
কর্মসূচিতে অংশ নেন আলিয়ারপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, পরিবেশকর্মী, স্থানীয় সচেতন তরুণ সমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। পরিবেশ সুরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণের দাবিতে তারা নানা সচেতনতামূলক বার্তা তুলে ধরেন।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন চুয়াডাঙ্গা ভলান্টিয়ার্স-এর সভাপতি আসলাম হোসেন। তিনি বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে চুয়াডাঙ্গাসহ সারা বিশ্বের প্রকৃতি আজ ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে। বিশেষ করে চুয়াডাঙ্গার মতো অঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহ, খরা ও অনাবৃষ্টি দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। এই পরিস্থিতি থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে এখনই সচেতন হতে হবে। জীবাশ্ম জ্বালানির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বন্ধ না করলে একটি বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।”
তিনি আরও বলেন, পরিবেশ রক্ষায় কেবল সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, বরং সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে তরুণ সমাজকে আরও সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
কর্মসূচির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মুক্ত আলোচনা। এসময় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা গোল হয়ে বসে জলবায়ু সুবিচার, পরিবেশ রক্ষা এবং স্থানীয় পর্যায়ে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন—তা নিয়ে মতবিনিময় করেন। তারা বৃক্ষরোপণ বৃদ্ধি, প্লাস্টিক ব্যবহার কমানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং পরিবেশবান্ধব জীবনযাত্রা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আয়োজক সংগঠন চুয়াডাঙ্গা ভলান্টিয়ার্স জানায়, স্থানীয় পর্যায়ে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় তরুণদের সম্পৃক্ত করতেই এই আয়োজন করা হয়েছে। সংগঠনের নেতাকর্মীরা বলেন, আলিয়ারপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হওয়া এই সচেতনতামূলক আন্দোলন চুয়াডাঙ্গার প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে তারা কাজ করছেন।
পরিবেশ রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ ও সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি সবুজ, নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
এএইচ
নিজস্ব প্রতিবেদক 





















