০৩:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গার উথলীতে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতিসহ কয়েক দফা দাবিতে ট্রেন আটকে বিক্ষোভ

  • জীবননগর
  • প্রকাশের সময় : ০৮:০২:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
  • ৫৩৭ Views

বেনাপোল-ঢাকা রুটে চলাচলকারী আন্তঃনগর বেনাপোল এক্সপ্রেস এবং খুলনা-রাজশাহী রুটের আন্তঃনগর কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতি, যাত্রীছাউনি নির্মাণ, ওভারব্রিজ স্থাপনসহ বিভিন্ন দাবিতে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার উথলী রেলস্টেশনে মানববন্ধন ও গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া এলাকাবাসী ও ট্রেনযাত্রীরা অবিলম্বে উথলী স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজ চালুর দাবি জানান।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে উথলী রেলস্টেশন ব্যবহারকারী ট্রেনযাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মানববন্ধন চলাকালে বিকেল ৫টার দিকে খুলনাগামী ৭২৮ ডাউন রূপসা এক্সপ্রেস উথলী স্টেশনে পৌঁছালে আন্দোলনকারীরা কয়েক মিনিট ট্রেনটি স্টেশনে আটকে রেখে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে বিকেল ৫টা ১৩ মিনিটে ট্রেনটি পুনরায় গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশের অধিকাংশ উপজেলা পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা থাকলেও জীবননগর উপজেলার একমাত্র সচল রেলস্টেশন উথলী এখনো সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তারা বলেন, উথলীতে স্টপেজ চালু হলে শুধু জীবননগর উপজেলার মানুষই নয়, পার্শ্ববর্তী মহেশপুর উপজেলা এবং চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। একই সঙ্গে যাত্রীসংখ্যা বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশ রেলওয়ের রাজস্ব আয়ও বাড়বে।

মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়ের স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি থাকলেও উথলী স্টেশন এখনো সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত। অথচ এই স্টেশন ব্যবহার করে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ যাতায়াত করেন। তাই উথলীতে দ্রুত আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজ চালু করতে হবে।

অপর এক বক্তা বলেন, ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা কিংবা যশোরে চিকিৎসা বা প্রয়োজনীয় কাজে যেতে হলে আমাদের দর্শনা গিয়ে ট্রেনে উঠতে হয়। বিশেষ করে অসুস্থ রোগীদের জন্য এটি চরম দুর্ভোগের। আমাদের একটাই দাবি—এই রুটে চলাচলকারী আন্তঃনগর ট্রেনের উথলী স্টেশনে যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করতে হবে।

কর্মসূচিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, গণমাধ্যমকর্মী, দিনমজুরসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় হাজারখানেক মানুষ অংশ নেন।

স্থানীয়রা জানান, বেনাপোল এক্সপ্রেস ও কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেন ঢাকা, যশোর, খুলনা ও রাজশাহীগামী যাত্রীদের জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক। কিন্তু উথলী স্টেশনে যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা না থাকায় তাদের দর্শনা গিয়ে ট্রেনে উঠতে হয়, যা সময় ও অর্থ উভয় দিক থেকেই অতিরিক্ত ভোগান্তির সৃষ্টি করছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

ফুটবল উন্মাদনায় বিক্রিতে বড় সাড়া, বাংলাদেশের বাজারে জনপ্রিয়তা বাড়ছে শাওমি স্মার্ট টিভির

চুয়াডাঙ্গার উথলীতে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতিসহ কয়েক দফা দাবিতে ট্রেন আটকে বিক্ষোভ

প্রকাশের সময় : ০৮:০২:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

বেনাপোল-ঢাকা রুটে চলাচলকারী আন্তঃনগর বেনাপোল এক্সপ্রেস এবং খুলনা-রাজশাহী রুটের আন্তঃনগর কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতি, যাত্রীছাউনি নির্মাণ, ওভারব্রিজ স্থাপনসহ বিভিন্ন দাবিতে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার উথলী রেলস্টেশনে মানববন্ধন ও গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া এলাকাবাসী ও ট্রেনযাত্রীরা অবিলম্বে উথলী স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজ চালুর দাবি জানান।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে উথলী রেলস্টেশন ব্যবহারকারী ট্রেনযাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মানববন্ধন চলাকালে বিকেল ৫টার দিকে খুলনাগামী ৭২৮ ডাউন রূপসা এক্সপ্রেস উথলী স্টেশনে পৌঁছালে আন্দোলনকারীরা কয়েক মিনিট ট্রেনটি স্টেশনে আটকে রেখে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে বিকেল ৫টা ১৩ মিনিটে ট্রেনটি পুনরায় গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশের অধিকাংশ উপজেলা পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা থাকলেও জীবননগর উপজেলার একমাত্র সচল রেলস্টেশন উথলী এখনো সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তারা বলেন, উথলীতে স্টপেজ চালু হলে শুধু জীবননগর উপজেলার মানুষই নয়, পার্শ্ববর্তী মহেশপুর উপজেলা এবং চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। একই সঙ্গে যাত্রীসংখ্যা বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশ রেলওয়ের রাজস্ব আয়ও বাড়বে।

মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়ের স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি থাকলেও উথলী স্টেশন এখনো সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত। অথচ এই স্টেশন ব্যবহার করে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ যাতায়াত করেন। তাই উথলীতে দ্রুত আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজ চালু করতে হবে।

অপর এক বক্তা বলেন, ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা কিংবা যশোরে চিকিৎসা বা প্রয়োজনীয় কাজে যেতে হলে আমাদের দর্শনা গিয়ে ট্রেনে উঠতে হয়। বিশেষ করে অসুস্থ রোগীদের জন্য এটি চরম দুর্ভোগের। আমাদের একটাই দাবি—এই রুটে চলাচলকারী আন্তঃনগর ট্রেনের উথলী স্টেশনে যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করতে হবে।

কর্মসূচিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, গণমাধ্যমকর্মী, দিনমজুরসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় হাজারখানেক মানুষ অংশ নেন।

স্থানীয়রা জানান, বেনাপোল এক্সপ্রেস ও কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেন ঢাকা, যশোর, খুলনা ও রাজশাহীগামী যাত্রীদের জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক। কিন্তু উথলী স্টেশনে যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা না থাকায় তাদের দর্শনা গিয়ে ট্রেনে উঠতে হয়, যা সময় ও অর্থ উভয় দিক থেকেই অতিরিক্ত ভোগান্তির সৃষ্টি করছে।