০৫:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে ‘তেল নাই’ লেখা পাম্পে মিলল ২৮ হাজার লিটার তেল, অতঃপর…

Ada. Munna Telecom1

ফরিদপুর সদর উপজেলার ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে কানাইপুর ইউনিয়নের কানাইপুর বাজার ও বাজারের পাশে অবস্থিত দুটি পেট্রোল পাম্পে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন। অভিযানে একটি পাম্পকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং তেল থাকা সত্ত্বেও পাম্প বন্ধ রাখায় সতর্ক করে আরেকটি পাম্পে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল সরবরাহ পুনরায় চালু করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পেট্রোলিয়াম পণ্য মজুত রেখে ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রি বন্ধ রাখার অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালিত হয়।

ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর বাজার এলাকায় অবস্থিত হোসেন ফিলিং স্টেশন ও রয়েল ফিলিং স্টেশনে এই অভিযান চালানো হয়।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়ার নেতৃত্বে অভিযানে অংশ নেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. শফিকুল ইসলামসহ অন্যান্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা।

অভিযান চলাকালে কানাইপুর বাজারের দুলাল কুন্ডুর দোকান, গুদাম ও বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পেট্রোল বা অকটেন মজুতের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে দোকানে অনুমোদিত পরিমাণে ডিজেল পাওয়া গেছে।

পরবর্তীতে কানাইপুর বাজারের হোসেন ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালিয়ে দেখা যায়, পাম্পটি বন্ধ রাখা হয়েছে। অথচ সেখানে ৭ হাজার লিটার পেট্রোল, ৬ হাজার ৫০০ লিটার অকটেন ও ১৪ হাজার ৫০০ লিটার ডিজেলসহ মোট ২৮ হাজার লিটার জ্বালানি তেল মজুত করে রাখা হয়েছে। এত তেল মজুত থাকা সত্ত্বেও ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছিল না। পাম্পের সামনে লেখা ছিল ‘তেল নাই, পাম্প বন্ধ’।

অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর আওতায় পাম্পটির ম্যানেজার সাবির চৌধুরীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে পাম্পটি খুলে দিয়ে বাস, ট্রাক, কৃষিযান, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়। এ সময় পাম্প কর্তৃপক্ষ তাদের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করে।

অন্যদিকে কানাইপুর বাজারের পাশের রয়েল ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে শুধু ডিজেল বিক্রি করা হচ্ছে, পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। মজুত যাচাই করে দেখা যায়, পাম্পটিতে ৩ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রোল, ৩ হাজার ৪০০ লিটার অকটেন এবং ১৯ হাজার লিটার ডিজেল রয়েছে। পাম্প কর্তৃপক্ষ যান্ত্রিক ত্রুটির কথা উল্লেখ করে ক্ষমা প্রার্থনা করলে তাৎক্ষণিকভাবে পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে কোনো জরিমানা করা হয়নি।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে ওই দুইটি পাম্পেই স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি সরবরাহ কার্যক্রম চলছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। মজুতদারিদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

জীবননগরের পিংকি হ ত্যা মামলার আসামি নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার

ফরিদপুরে ‘তেল নাই’ লেখা পাম্পে মিলল ২৮ হাজার লিটার তেল, অতঃপর…

প্রকাশের সময় : ১০:১৪:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

ফরিদপুর সদর উপজেলার ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে কানাইপুর ইউনিয়নের কানাইপুর বাজার ও বাজারের পাশে অবস্থিত দুটি পেট্রোল পাম্পে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন। অভিযানে একটি পাম্পকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং তেল থাকা সত্ত্বেও পাম্প বন্ধ রাখায় সতর্ক করে আরেকটি পাম্পে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল সরবরাহ পুনরায় চালু করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পেট্রোলিয়াম পণ্য মজুত রেখে ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রি বন্ধ রাখার অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালিত হয়।

ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর বাজার এলাকায় অবস্থিত হোসেন ফিলিং স্টেশন ও রয়েল ফিলিং স্টেশনে এই অভিযান চালানো হয়।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়ার নেতৃত্বে অভিযানে অংশ নেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. শফিকুল ইসলামসহ অন্যান্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা।

অভিযান চলাকালে কানাইপুর বাজারের দুলাল কুন্ডুর দোকান, গুদাম ও বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পেট্রোল বা অকটেন মজুতের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে দোকানে অনুমোদিত পরিমাণে ডিজেল পাওয়া গেছে।

পরবর্তীতে কানাইপুর বাজারের হোসেন ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালিয়ে দেখা যায়, পাম্পটি বন্ধ রাখা হয়েছে। অথচ সেখানে ৭ হাজার লিটার পেট্রোল, ৬ হাজার ৫০০ লিটার অকটেন ও ১৪ হাজার ৫০০ লিটার ডিজেলসহ মোট ২৮ হাজার লিটার জ্বালানি তেল মজুত করে রাখা হয়েছে। এত তেল মজুত থাকা সত্ত্বেও ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছিল না। পাম্পের সামনে লেখা ছিল ‘তেল নাই, পাম্প বন্ধ’।

অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর আওতায় পাম্পটির ম্যানেজার সাবির চৌধুরীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে পাম্পটি খুলে দিয়ে বাস, ট্রাক, কৃষিযান, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়। এ সময় পাম্প কর্তৃপক্ষ তাদের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করে।

অন্যদিকে কানাইপুর বাজারের পাশের রয়েল ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে শুধু ডিজেল বিক্রি করা হচ্ছে, পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। মজুত যাচাই করে দেখা যায়, পাম্পটিতে ৩ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রোল, ৩ হাজার ৪০০ লিটার অকটেন এবং ১৯ হাজার লিটার ডিজেল রয়েছে। পাম্প কর্তৃপক্ষ যান্ত্রিক ত্রুটির কথা উল্লেখ করে ক্ষমা প্রার্থনা করলে তাৎক্ষণিকভাবে পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে কোনো জরিমানা করা হয়নি।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে ওই দুইটি পাম্পেই স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি সরবরাহ কার্যক্রম চলছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। মজুতদারিদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।