১০:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গার রাজধানী ক্লিনিকে অপারেশনের সময় উত্তেজনা, চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আয়াকে মারধরের অভিযোগ

চুয়াডাঙ্গা শহরের সদর হাসপাতাল সড়কে অবস্থিত রাজধানী ক্লিনিকে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের সময় দায়িত্ব পালনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় বেসরকারি চিকিৎসক ডা. নাফিসা নওশিনের বিরুদ্ধে কর্তব্যরত এক সেবিকাকে মারতে গিয়ে এক আয়াকে মারধর, অশালীন আচরণ এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে চিকিৎসক দাবি করেছেন, দায়িত্বের সীমা লঙ্ঘন করায় তিনি সেবিকাকে বাধা দিলে উল্টো সেবিকা ও আয়া তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন।

সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানী ক্লিনিকে মাহমুদা তাহের নামে এক নারীর সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের সময় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ক্লিনিকজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

অস্ত্রোপচার কক্ষে দায়িত্ব পালনকারী সেবিকা পিয়াংকা অভিযোগ করে ঢাকা পোস্টকে বলেন, অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতির সময় তিনি রোগীর পাশে প্রয়োজনীয় দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় ডা. নাফিসা নওশিন অপারেশন থিয়েটারে প্রবেশ করলে অনিচ্ছাকৃতভাবে তার গাউনের সঙ্গে নিজের শরীরের সামান্য স্পর্শ লাগে। এতে চিকিৎসক ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে সরে যেতে বলেন। তিনি কাজ শেষ করেই সরে যাবেন জানালে চিকিৎসক উত্তেজিত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন এবং তার দিকে মারতে এগিয়ে যান।

পিয়াংকা আরও দাবি করেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আয়া শাহানাজ খাতুন এগিয়ে এলে চিকিৎসক তাকে থাপ্পড় ও কিল মারেন। পরে তিনি অপারেশন থিয়েটার ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। তার অভিযোগ, অস্ত্রোপচার শেষে ক্লিনিক ত্যাগ করার সময়ও চিকিৎসক তাকে লক্ষ্য করে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন।

ঘটনার সময় অস্ত্রোপচারের রোগী মাহমুদা তাহের ঢাকা পোস্টকে বলেন, অপারেশনের সময় চিকিৎসক নার্সকে সরে যেতে বলেছিলেন। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তিনি দাবি করেন, নার্সকে মারতে গিয়ে চিকিৎসকের থাপ্পড় আয়ার মুখে লাগে।

রোগী আরও বলেন, অস্ত্রোপচারের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকের আচরণ ও কথাবার্তা আমার কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। তিনি বারবার উত্তেজিত হয়ে কথা বলছিলেন এবং অশালীন ভাষা ব্যবহার করছিলেন।

আয়া শাহানাজ খাতুন ঢাকা পোস্টকে বলেন, অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতিকালে নার্স পিয়াংকা রোগীর প্রয়োজনীয় কাজ করছিলেন। এ সময় চিকিৎসকের সঙ্গে নার্সের কথা-কাটাকাটি শুরু হলে তিনি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু চিকিৎসক নার্সকে আঘাত করতে গেলে তিনি মাঝখানে দাঁড়ান। তখন চিকিৎসক তার গালে একটি থাপ্পড় এবং পিঠে কয়েকটি কিল মারেন বলে অভিযোগ করেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. নাফিসা নওশিন বলেন, অপারেশন থিয়েটারে রোগীর একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা (পেশার) করছিলেন নার্স, যা প্রকৃতপক্ষে অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসকের দায়িত্ব। বিষয়টি তিনি নার্সকে নিষেধ করলে নার্স ও আয়া তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা মারধরের অভিযোগ তিনি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।

তিনি বলেন, আমি কাউকে মারধর করিনি। দায়িত্বের বাইরে কাজ করতে নিষেধ করায় তারা উল্টো আমার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন। বিষয়টি আমি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

ফুটবল উন্মাদনায় বিক্রিতে বড় সাড়া, বাংলাদেশের বাজারে জনপ্রিয়তা বাড়ছে শাওমি স্মার্ট টিভির

চুয়াডাঙ্গার রাজধানী ক্লিনিকে অপারেশনের সময় উত্তেজনা, চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আয়াকে মারধরের অভিযোগ

প্রকাশের সময় : ১২:০০:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

চুয়াডাঙ্গা শহরের সদর হাসপাতাল সড়কে অবস্থিত রাজধানী ক্লিনিকে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের সময় দায়িত্ব পালনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় বেসরকারি চিকিৎসক ডা. নাফিসা নওশিনের বিরুদ্ধে কর্তব্যরত এক সেবিকাকে মারতে গিয়ে এক আয়াকে মারধর, অশালীন আচরণ এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে চিকিৎসক দাবি করেছেন, দায়িত্বের সীমা লঙ্ঘন করায় তিনি সেবিকাকে বাধা দিলে উল্টো সেবিকা ও আয়া তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন।

সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানী ক্লিনিকে মাহমুদা তাহের নামে এক নারীর সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের সময় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ক্লিনিকজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

অস্ত্রোপচার কক্ষে দায়িত্ব পালনকারী সেবিকা পিয়াংকা অভিযোগ করে ঢাকা পোস্টকে বলেন, অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতির সময় তিনি রোগীর পাশে প্রয়োজনীয় দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় ডা. নাফিসা নওশিন অপারেশন থিয়েটারে প্রবেশ করলে অনিচ্ছাকৃতভাবে তার গাউনের সঙ্গে নিজের শরীরের সামান্য স্পর্শ লাগে। এতে চিকিৎসক ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে সরে যেতে বলেন। তিনি কাজ শেষ করেই সরে যাবেন জানালে চিকিৎসক উত্তেজিত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন এবং তার দিকে মারতে এগিয়ে যান।

পিয়াংকা আরও দাবি করেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আয়া শাহানাজ খাতুন এগিয়ে এলে চিকিৎসক তাকে থাপ্পড় ও কিল মারেন। পরে তিনি অপারেশন থিয়েটার ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। তার অভিযোগ, অস্ত্রোপচার শেষে ক্লিনিক ত্যাগ করার সময়ও চিকিৎসক তাকে লক্ষ্য করে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন।

ঘটনার সময় অস্ত্রোপচারের রোগী মাহমুদা তাহের ঢাকা পোস্টকে বলেন, অপারেশনের সময় চিকিৎসক নার্সকে সরে যেতে বলেছিলেন। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তিনি দাবি করেন, নার্সকে মারতে গিয়ে চিকিৎসকের থাপ্পড় আয়ার মুখে লাগে।

রোগী আরও বলেন, অস্ত্রোপচারের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকের আচরণ ও কথাবার্তা আমার কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। তিনি বারবার উত্তেজিত হয়ে কথা বলছিলেন এবং অশালীন ভাষা ব্যবহার করছিলেন।

আয়া শাহানাজ খাতুন ঢাকা পোস্টকে বলেন, অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতিকালে নার্স পিয়াংকা রোগীর প্রয়োজনীয় কাজ করছিলেন। এ সময় চিকিৎসকের সঙ্গে নার্সের কথা-কাটাকাটি শুরু হলে তিনি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু চিকিৎসক নার্সকে আঘাত করতে গেলে তিনি মাঝখানে দাঁড়ান। তখন চিকিৎসক তার গালে একটি থাপ্পড় এবং পিঠে কয়েকটি কিল মারেন বলে অভিযোগ করেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. নাফিসা নওশিন বলেন, অপারেশন থিয়েটারে রোগীর একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা (পেশার) করছিলেন নার্স, যা প্রকৃতপক্ষে অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসকের দায়িত্ব। বিষয়টি তিনি নার্সকে নিষেধ করলে নার্স ও আয়া তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা মারধরের অভিযোগ তিনি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।

তিনি বলেন, আমি কাউকে মারধর করিনি। দায়িত্বের বাইরে কাজ করতে নিষেধ করায় তারা উল্টো আমার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন। বিষয়টি আমি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।