চুয়াডাঙ্গায় পাখি শিকার ঠেকাতে অভিযান পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ ওয়াইন্ড লাইফ অ্যান্ড নেচার ইনিশিয়েটিবের সদস্যরা। অভিযানে প্রায় ৬০০ গজ জাল উদ্ধার করা হয়। জালের ভেতর পাওয়া যায় ৯টি মৃত পাখি, যা সবাইকে মর্মাহত করে। এরমধ্যে উদ্ধার হওয়া একটি জীবিত পাখি উদ্ধার করা হয়।
অভিযান সুত্রে জানা যায়, রোববার ১৬ নভেম্বর বিকেলে চুয়াডাঙ্গা সদরের শংকরচন্দ্র ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া মাঠে ফাঁদ পেতে পাখি ধরছিল একটি শিকারি দল। খবর পেয়ে সংগঠনের সভাপতি আহসান হাবীব শিপলু সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান এবং বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং বন বিভাগকে জানান। পরে সরোজগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ি পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওয়ালিউর রহমান সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছান। অভিযানের খবর পেয়ে পাখি শিকারিরা সটকে পড়ে।
এ সময় মাঠে ছড়িয়ে থাকা প্রায় ছয়শ গজের মতো জাল উদ্ধার করা হয়। জালের মধ্যে আটকে থাকা ৯টি মৃত পাখি পাওয়া যায়। উদ্ধার হওয়া একটি জীবিত পাখিকে উপস্থিতদের সামনে আবার অবমুক্ত করা হয়। উদ্ধারকৃত সব জাল ও শিকারে ব্যবহৃত সরঞ্জাম পুলিশ ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে নষ্ট করা হয়। মৃত পাখিগুলো পরে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়।
বাংলাদেশ ওয়াইল্ড লাইফ এন্ড নেচার ইনিশিয়েটিভ এর সভাপতি ও বড় সলুয়া নিউ মডেল ডিগ্রি কলেজ এর প্রাণিবিদ্যা প্রভাষক আহসান হাবীব শিপলু বলেন, এ যাবতকালের সবচেয়ে বড় অভিযান ছিল এটি। প্রায় ৬০০ গজের জাল ও শিকারে ব্যবহৃত অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করেছি। সবচেয়ে বেশী কষ্ট পেয়েছি জালের মাঝে ৯টি মৃত পাখি দেখে। আমরা দীর্ঘদিন যাবত পাখি শিকারীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ও প্রচারণা করছি। তারপরও এভাবে নিরবে পাখি শিকার হচ্ছে। আজ প্রায় কোমর পানিতে নেমে সংগঠনের সদস্যরা এই জালগুলো উদ্ধার করে।
এসআই ওয়ালিউর রহমান বলেন, আমরা খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাই। জাল, মৃত পাখি ও শিকারের সরঞ্জাম উদ্ধার করেছি। শিকারিদের শনাক্তে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
অভিযানে সংগঠনের সদস্য হাসানুজ্জামান রিগান, বায়জিদ, সতেজ, শাহাবুল, আলমাছসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়রা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, পাখি রক্ষায় এমন অভিযান নিয়মিত হওয়া প্রয়োজন।
এএইচ
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















