চুয়াডাঙ্গায় জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলার চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা, পানি শোধনাগার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, কৃষি খাতে সার সরবরাহসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সভায় গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে।
রোববার (১৬ আগস্ট) সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার। সহকারী কমিশনার ফাহাদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় সভার শুরুতে জেলার সার্বিক উন্নয়নচিত্র, জেলা শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের ধারা তুলে ধরেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বি.এম তারিক উজ জামান।
সভায় জানানো হয়, জেলা পরিষদের উদ্যোগে চুয়াডাঙ্গা কোর্ট মোড়ে একটি বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হবে। একই সঙ্গে বড় বাজারের হাসান চত্বরের চারপাশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে এলাকার সৌন্দর্যবর্ধনের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়।
সভায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। হাসপাতালের এসির তারসহ বিভিন্ন মালামাল চুরি যাওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসে। এ ধরনের ঘটনা রোধে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আরও সতর্ক থাকার পাশাপাশি নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা চুয়াডাঙ্গা পৌর পানি শোধনাগার চালুর বিষয়টিও সভায় গুরুত্ব পায়। সংশ্লিষ্টরা জানান, পানি শোধনাগারটি চালু করতে হলে পৌরসভাকে মাসে প্রায় সাড়ে ৬ লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হবে। এ ধরনের বিভিন্ন জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পটি চালু করা সম্ভব হয়নি।
পৌর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টিও সভায় গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। পৌর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য স্যানিটারি ল্যান্ডফিল এখনো পুরোপুরি চালু না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন সংশ্লিষ্টরা।
সভায় ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার বলেন, জেলার উন্নয়ন কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে সব সরকারি দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সড়কের পাশে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
কৃষি খাতে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে কৃষকরা চাহিদা অনুযায়ী সার পাচ্ছেন না। এ ক্ষেত্রে কোনো অসাধু ব্যবসায়ী অবৈধভাবে সার মজুদ করছে কি না, তা নজরদারির মধ্যে রাখতে হবে। বর্তমানে আমবাগানগুলোতে সার প্রয়োগ করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি সার বিতরণে কোনো ধরনের বৈষম্য না করার নির্দেশনা দেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ড্রেনেজ ব্যবস্থার সমস্যার বিষয়টিও সভায় তুলে ধরা হয়।
ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক বলেন, হাসপাতালের ড্রেনগুলো প্রায়ই অপরিচ্ছন্ন থাকে। পৌরসভার ড্রেনের তুলনায় হাসপাতালের ড্রেনগুলো নিচু হওয়ায় সেখানে ময়লা জমে থাকার প্রবণতা দেখা যায়। এ সমস্যা সমাধানে গণপূর্ত বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জামাল আল নাসের, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনুর আক্তার, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন, জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহিনুর ইসলাম, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাহাবুদ্দিন, বিআরটিএর সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) লিটন বিশ্বাস, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান, জেলা মার্কেটিং কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনিসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা।
এএইচ
নিজস্ব প্রতিবেদক 
























