১২:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আলমডাঙ্গায় কৌশলে বাড়িতে ডেকে পেঁয়াজু বিক্রেতাকে হত্যা, নেপথ্যে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় উপজেলার ওসমানপুরে চয়েন আলী (৪০) নামে এক চপ-পেঁয়াজু বিক্রেতাকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। হত্যার পর অনেকটা চলচ্চিত্রের দৃশ্যের মতো ভ্যানযোগে তাঁর মরদেহ আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (হারদী হাসপাতাল) পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার ওসমানপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত চয়েন আলী হারদী গ্রামের সাজ্জাদ হোসেনের ছেলে। তিনি পেশায় চপ-পেঁয়াজু বিক্রেতা ছিলেন।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, পাশের ওসমানপুর গ্রামের এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে চয়েন আলীর পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে তাকে ডেকে নিয়ে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্তরা সপরিবারে বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপন করেছেন।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওসমানপুর গ্রামের হাবিবুর রহমানের মেয়ে লাবনী খাতুনের সঙ্গে চয়েন আলীর পরকীয়া সম্পর্ক ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। লাবনীর স্বামী হেলাল হোসেন মালয়েশিয়া থেকে কয়েকদিন আগে দেশে ফেরেন। দেশে ফিরে তিনি কথিত পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর ক্ষুব্ধ হয়ে মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে কৌশলে চয়েন আলীকে ওসমানপুরে নিজের বাড়িতে ডেকে নেন বলে অভিযোগ।

নিহতের পরিবারের দাবি, সেখানে নেওয়ার পর চয়েন আলীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হেলাল হোসেন মোবাইল ফোনে চয়েন আলীর ছেলে ফারুক হোসেনকে বলেন, তার বাবার কাছে তিনি টাকা পান। চয়েন তার কাছে আটক আছেন জানিয়ে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্প নিয়ে সেখানে যেতে বলা হয়।

ফারুক হোসেন বলেন, আমরা স্ট্যাম্প নিয়ে ওসমানপুরে গেলে তারা জানায়, চয়েন মারা গেছে। পরে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে সিনেমার কায়দায় একটি ভ্যানযোগে লাশ আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়ে দিয়ে আত্মগোপনে চলে যায় তারা। আমার বাবার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমি বাবা হত্যার বিচার চাই।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, প্রবাসী হেলাল হোসেনের স্ত্রী লাবনী খাতুনের সঙ্গে চয়েন আলীর পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়টি হেলাল দেশে ফেরার পর জানতে পারেন। এরপর টাকার লেনদেনের কথা বলে চয়েন আলীকে কৌশলে বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয় বলে তারা শুনেছেন। ঘটনার পর হেলাল ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন বলেও জানান তারা।

ওসমানপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) নবাব আলী রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, স্বামী বিদেশে থাকার সুযোগে নিহত চয়েন আলীর সঙ্গে লাবনী খাতুনের পরকীয়া সম্পর্কের কথা শোনা যাচ্ছে। তাদের মধ্যে টাকার লেনদেনও ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এসব বিষয় মিলিয়ে হেলালের বাড়িতে কৌশলে চয়েন আলীকে ডেকে নেওয়া হয়। পরে তাকে নির্যাতন করে মরদেহ হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়ে অভিযুক্তরা সপরিবারে পালিয়ে যায় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তাদের আটকের জন্য অভিযান চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।

আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে মুঠোফোনে জানান, হাসপাতালে আনার সময় চয়েন আলীর গলা, পিঠ ও থুতনির নিচে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে এগুলো ধারালো অস্ত্রের আঘাত নয়; অন্য কোনো কিছুর আঘাত হতে পারে। প্রকৃত কারণ ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদনে জানা যাবে। হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল বলে জানান ওই চিকিৎসক।

এএইচ

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

আলমডাঙ্গায় কৌশলে বাড়িতে ডেকে পেঁয়াজু বিক্রেতাকে হত্যা, নেপথ্যে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া

আলমডাঙ্গায় কৌশলে বাড়িতে ডেকে পেঁয়াজু বিক্রেতাকে হত্যা, নেপথ্যে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া

প্রকাশের সময় : ০৭:৪৫:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় উপজেলার ওসমানপুরে চয়েন আলী (৪০) নামে এক চপ-পেঁয়াজু বিক্রেতাকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। হত্যার পর অনেকটা চলচ্চিত্রের দৃশ্যের মতো ভ্যানযোগে তাঁর মরদেহ আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (হারদী হাসপাতাল) পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার ওসমানপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত চয়েন আলী হারদী গ্রামের সাজ্জাদ হোসেনের ছেলে। তিনি পেশায় চপ-পেঁয়াজু বিক্রেতা ছিলেন।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, পাশের ওসমানপুর গ্রামের এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে চয়েন আলীর পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে তাকে ডেকে নিয়ে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্তরা সপরিবারে বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপন করেছেন।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওসমানপুর গ্রামের হাবিবুর রহমানের মেয়ে লাবনী খাতুনের সঙ্গে চয়েন আলীর পরকীয়া সম্পর্ক ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। লাবনীর স্বামী হেলাল হোসেন মালয়েশিয়া থেকে কয়েকদিন আগে দেশে ফেরেন। দেশে ফিরে তিনি কথিত পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর ক্ষুব্ধ হয়ে মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে কৌশলে চয়েন আলীকে ওসমানপুরে নিজের বাড়িতে ডেকে নেন বলে অভিযোগ।

নিহতের পরিবারের দাবি, সেখানে নেওয়ার পর চয়েন আলীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হেলাল হোসেন মোবাইল ফোনে চয়েন আলীর ছেলে ফারুক হোসেনকে বলেন, তার বাবার কাছে তিনি টাকা পান। চয়েন তার কাছে আটক আছেন জানিয়ে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্প নিয়ে সেখানে যেতে বলা হয়।

ফারুক হোসেন বলেন, আমরা স্ট্যাম্প নিয়ে ওসমানপুরে গেলে তারা জানায়, চয়েন মারা গেছে। পরে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে সিনেমার কায়দায় একটি ভ্যানযোগে লাশ আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়ে দিয়ে আত্মগোপনে চলে যায় তারা। আমার বাবার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমি বাবা হত্যার বিচার চাই।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, প্রবাসী হেলাল হোসেনের স্ত্রী লাবনী খাতুনের সঙ্গে চয়েন আলীর পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়টি হেলাল দেশে ফেরার পর জানতে পারেন। এরপর টাকার লেনদেনের কথা বলে চয়েন আলীকে কৌশলে বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয় বলে তারা শুনেছেন। ঘটনার পর হেলাল ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন বলেও জানান তারা।

ওসমানপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) নবাব আলী রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, স্বামী বিদেশে থাকার সুযোগে নিহত চয়েন আলীর সঙ্গে লাবনী খাতুনের পরকীয়া সম্পর্কের কথা শোনা যাচ্ছে। তাদের মধ্যে টাকার লেনদেনও ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এসব বিষয় মিলিয়ে হেলালের বাড়িতে কৌশলে চয়েন আলীকে ডেকে নেওয়া হয়। পরে তাকে নির্যাতন করে মরদেহ হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়ে অভিযুক্তরা সপরিবারে পালিয়ে যায় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তাদের আটকের জন্য অভিযান চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।

আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে মুঠোফোনে জানান, হাসপাতালে আনার সময় চয়েন আলীর গলা, পিঠ ও থুতনির নিচে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে এগুলো ধারালো অস্ত্রের আঘাত নয়; অন্য কোনো কিছুর আঘাত হতে পারে। প্রকৃত কারণ ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদনে জানা যাবে। হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল বলে জানান ওই চিকিৎসক।

এএইচ