১২:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

হলফনামা বিশ্লেষণ : জীবননগরের হাফিজুরের ব্যাংকে জমা বেড়েছে ৫২৩ গুণ টাকা

তিনি কাপ- পিরিচ প্রতীক নিয়ে এ নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। শিক্ষাজীবনে তিনি উচ্চ মাধ্যমিক পাশ। তাঁর বার্ষিক আয় ৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা।

অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৪৬ লাখ ৭১ হাজার ৫০৯ টাকা। ২০১৯ সালে পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি যখন অংশগ্রহণ করেন, তাঁর বার্ষিক আয় ছিল ৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পদ ছিল ২৮ লাখ ৫৭ হাজার টাকা।

এছাড়া ওই সময় তাঁর স্ত্রীর কোনো অস্থাবর সম্পদ না থাকলেও বর্তমানে তাঁর স্ত্রী ৭ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৯ টাকা সম্পদের মালিক। পঞ্চম ও ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তাঁর দেয়া হলফনামায় এসব তথ্য পাওয়া যায়।

চলতি নির্বাচনে হলফনায় হাফিজুর রহমান তাঁর বার্ষিক আয়ের উৎস হিসেবে উল্লেখ করেছেন, বাড়ি/দোকান ভাড়া বাবদ ৩০ হাজার টাকা, ব্যবসা থেকে আয় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ও উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে সম্মানী ভাতা থেকে আয় ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা। তবে তাঁর স্ত্রীর কোনো আয় নেই।

হাফিজুর রহমানের অস্থাবর সম্পদ হিসেবে রয়েছে- নগদ ২ লাখ টাকা, ব্যাংকে ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে গচ্ছিত ১২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৩৩ টাকা, ইলেকট্রনিক সামগ্রী ৪০ হাজার টাকা, আসবাবপত্র ২৫ হাজার টাকা ও বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ ৩১ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৬ টাকা। এছাড়া তাঁর স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদ হিসেবে রয়েছে- নগদ ১ লাখ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে গচ্ছিত ৩ লাখ ৪০ হাজার ৭৬৩ টাকা ও ব্যবসায় বিনিয়োগ ৩ লাখ ৫৯ হাজার ২৩৬ টাকা। তবে পৈত্রিক একটি বাড়ি ছাড়া স্থাবর সম্পদ হিসেবে তাঁর কিছুই নেই বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন হাফিজুর রহমান। এসব সম্পদের বিপরীতে তিনি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি জীবননগর শাখায় ঋণগ্রস্ত রয়েছেন ৪৩ লাখ ৯৩ হাজার ৪৯০ টাকার।

২০১৯ সালের পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ওই সময় হাফিজুর রহমানের বার্ষিক আয় ছিল ৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ২৮ লাখ ৫৭ হাজার টাকা।

স্থাবর সম্পদ হিসেবে শুধু পৈত্রিক একটি বাড়ি। আর স্ত্রীর নামে কোনো স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ নেই। ২০১৯ সালে তাঁর বার্ষিক আয়ের উৎস হিসেবে হলফনামায় উল্লেখ করেন, বাড়ি/দোকান ভাড়া হিসেবে ৫১ হাজার টাকা, ব্যবসা থেকে আয় ২ লাখ টাকা ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে সম্মানী ভাতা ৩ লাখ ২৪ হাজার টাকা।

অস্থাবর সম্পদ ছিল নগদ ১ লাখ ৮৯ হাজার ৬৪০ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে গচ্ছিত ২ হাজার ৩৬০ টাকা, ইলেকট্রনিক সামগ্রী ৪০ হাজার টাকা, আসবাবপত্র ২৫ হাজার টাকা ও ব্যবসায় বিনিয়োগ ২৬ লাখ টাকা। এই দুই নির্বাচনের

হলফনামা তুলনামূলক পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০১৯ সালে হাফিজুর রহমানের ব্যাংকে জমা ছিল ২ হাজার ৩৬০ টাকা। আর বর্তমানে জমা আছে ১২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৩৩ টাকা। সে হিসেবে এই পাঁচ বছরে তাঁর ব্যাংকে জমা বেড়েছে ৫২৩ গুণ টাকা। আর পাঁচ বছর আগে তাঁর স্ত্রীর কোনো স্থাবর- অস্থাবর সম্পদ না থাকলেও বর্তমানে তাঁর স্ত্রী প্রায় ৮ লাখ টাকা সম্পদের মালিক।

এএইচ

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গাসহ সারাদেশে ২২৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

হলফনামা বিশ্লেষণ : জীবননগরের হাফিজুরের ব্যাংকে জমা বেড়েছে ৫২৩ গুণ টাকা

প্রকাশের সময় : ০৯:৪১:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৪

তিনি কাপ- পিরিচ প্রতীক নিয়ে এ নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। শিক্ষাজীবনে তিনি উচ্চ মাধ্যমিক পাশ। তাঁর বার্ষিক আয় ৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা।

অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৪৬ লাখ ৭১ হাজার ৫০৯ টাকা। ২০১৯ সালে পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি যখন অংশগ্রহণ করেন, তাঁর বার্ষিক আয় ছিল ৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পদ ছিল ২৮ লাখ ৫৭ হাজার টাকা।

এছাড়া ওই সময় তাঁর স্ত্রীর কোনো অস্থাবর সম্পদ না থাকলেও বর্তমানে তাঁর স্ত্রী ৭ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৯ টাকা সম্পদের মালিক। পঞ্চম ও ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তাঁর দেয়া হলফনামায় এসব তথ্য পাওয়া যায়।

চলতি নির্বাচনে হলফনায় হাফিজুর রহমান তাঁর বার্ষিক আয়ের উৎস হিসেবে উল্লেখ করেছেন, বাড়ি/দোকান ভাড়া বাবদ ৩০ হাজার টাকা, ব্যবসা থেকে আয় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ও উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে সম্মানী ভাতা থেকে আয় ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা। তবে তাঁর স্ত্রীর কোনো আয় নেই।

হাফিজুর রহমানের অস্থাবর সম্পদ হিসেবে রয়েছে- নগদ ২ লাখ টাকা, ব্যাংকে ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে গচ্ছিত ১২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৩৩ টাকা, ইলেকট্রনিক সামগ্রী ৪০ হাজার টাকা, আসবাবপত্র ২৫ হাজার টাকা ও বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ ৩১ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৬ টাকা। এছাড়া তাঁর স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদ হিসেবে রয়েছে- নগদ ১ লাখ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে গচ্ছিত ৩ লাখ ৪০ হাজার ৭৬৩ টাকা ও ব্যবসায় বিনিয়োগ ৩ লাখ ৫৯ হাজার ২৩৬ টাকা। তবে পৈত্রিক একটি বাড়ি ছাড়া স্থাবর সম্পদ হিসেবে তাঁর কিছুই নেই বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন হাফিজুর রহমান। এসব সম্পদের বিপরীতে তিনি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি জীবননগর শাখায় ঋণগ্রস্ত রয়েছেন ৪৩ লাখ ৯৩ হাজার ৪৯০ টাকার।

২০১৯ সালের পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ওই সময় হাফিজুর রহমানের বার্ষিক আয় ছিল ৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ২৮ লাখ ৫৭ হাজার টাকা।

স্থাবর সম্পদ হিসেবে শুধু পৈত্রিক একটি বাড়ি। আর স্ত্রীর নামে কোনো স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ নেই। ২০১৯ সালে তাঁর বার্ষিক আয়ের উৎস হিসেবে হলফনামায় উল্লেখ করেন, বাড়ি/দোকান ভাড়া হিসেবে ৫১ হাজার টাকা, ব্যবসা থেকে আয় ২ লাখ টাকা ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে সম্মানী ভাতা ৩ লাখ ২৪ হাজার টাকা।

অস্থাবর সম্পদ ছিল নগদ ১ লাখ ৮৯ হাজার ৬৪০ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে গচ্ছিত ২ হাজার ৩৬০ টাকা, ইলেকট্রনিক সামগ্রী ৪০ হাজার টাকা, আসবাবপত্র ২৫ হাজার টাকা ও ব্যবসায় বিনিয়োগ ২৬ লাখ টাকা। এই দুই নির্বাচনের

হলফনামা তুলনামূলক পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০১৯ সালে হাফিজুর রহমানের ব্যাংকে জমা ছিল ২ হাজার ৩৬০ টাকা। আর বর্তমানে জমা আছে ১২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৩৩ টাকা। সে হিসেবে এই পাঁচ বছরে তাঁর ব্যাংকে জমা বেড়েছে ৫২৩ গুণ টাকা। আর পাঁচ বছর আগে তাঁর স্ত্রীর কোনো স্থাবর- অস্থাবর সম্পদ না থাকলেও বর্তমানে তাঁর স্ত্রী প্রায় ৮ লাখ টাকা সম্পদের মালিক।

এএইচ