১০:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জীবননগরে ৮২ লাখ টাকায় কেনা ভবন-জমি নিয়ে জটিলতা, প্রতারণার অভিযোগে আদালতে মামলা

  • জীবননগর অফিস
  • প্রকাশের সময় : ০৩:১৫:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
  • ৬৫৬ Views

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়িয়া ইউনিয়নের সাহাপুর বাজারে দুইতলা ভবনসহ একটি মূল্যবান জমি বিক্রিকে কেন্দ্র করে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জমির ক্রেতা মো. ওমর ফারুক আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। মামলার প্রধান অভিযুক্ত ফারুক হোসেন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী।

মামলার বাদী মো. ওমর ফারুক, পিতা মৃত মঙ্গল আলী খান, জীবননগর উপজেলার নিধিকুণ্ড গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জানান, ২০২২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি সাহাপুর বাজারে অবস্থিত দুইতলা ভবনসহ ৫ দশমিক ৬৫ শতক জমি মৃত রবিউল মেম্বারের ছেলে ফারুক হোসেনের কাছ থেকে ৮২ লাখ টাকায় ক্রয় করেন।

বাদীর দাবি, সম্পত্তিটির মূল দলিল ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর রূপালী ব্যাংক শাখায় বন্ধক রেখে ফারুক হোসেন ২৫ লাখ টাকার সিসি ঋণ নিয়েছিলেন। সময়ের ব্যবধানে সুদ-আসলে ঋণের পরিমাণ প্রায় ৩৫ লাখ টাকায় পৌঁছায়। পরে তিনি নিজ ব্যাংক হিসাব থেকে ওই ঋণ পরিশোধ করেন। ঋণ পরিশোধের পর ব্যাংক কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে জীবননগর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে আইনানুগভাবে তার নামে সম্পত্তির রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হয়।

ওমর ফারুক অভিযোগ করেন, রেজিস্ট্রির পর তিনি জানতে পারেন যে একই সম্পত্তি এর আগেই ফারুক হোসেন কথিতভাবে তার স্ত্রী আফরোজা খাতুনের নামে হেবা দলিল করে দিয়েছেন। বিষয়টি সামনে আসার পর জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়।

তিনি আরও জানান, সম্পত্তির দখল নিতে গেলে বিভিন্ন আইনি বাধার সম্মুখীন হতে হয় তাকে। পরে জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান খোকন খানের উদ্যোগে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকের পর তিনি জমির দখল বুঝে পান বলে দাবি করেন।

অভিযোগকারী আরও বলেন, পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে স্থানীয় একটি পত্রিকায় মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি আদালতেও তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আত্মপক্ষ সমর্থন ও আইনি প্রতিকার চেয়ে তিনি ফারুক হোসেনসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। ওই মামলায় ফারুক হোসেন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন বলে জানান তিনি।

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, তারা জানেন যে ওমর ফারুক উক্ত সম্পত্তি ক্রয় করেছেন। তবে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আফরোজা খাতুনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে তার ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। ফলে অভিযোগের সত্যতা ও মালিকানা সংক্রান্ত বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করছে।

স্থানীয়ভাবে আলোচিত এ ঘটনায় এখন আদালতের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট পক্ষ ও এলাকাবাসী।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় মাদক সেবন করে পুলিশের সামনেই মাতলামি, বাগানপাড়ার টোটনকে ২ মাসের কারাদণ্ড

জীবননগরে ৮২ লাখ টাকায় কেনা ভবন-জমি নিয়ে জটিলতা, প্রতারণার অভিযোগে আদালতে মামলা

প্রকাশের সময় : ০৩:১৫:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়িয়া ইউনিয়নের সাহাপুর বাজারে দুইতলা ভবনসহ একটি মূল্যবান জমি বিক্রিকে কেন্দ্র করে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জমির ক্রেতা মো. ওমর ফারুক আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। মামলার প্রধান অভিযুক্ত ফারুক হোসেন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী।

মামলার বাদী মো. ওমর ফারুক, পিতা মৃত মঙ্গল আলী খান, জীবননগর উপজেলার নিধিকুণ্ড গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জানান, ২০২২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি সাহাপুর বাজারে অবস্থিত দুইতলা ভবনসহ ৫ দশমিক ৬৫ শতক জমি মৃত রবিউল মেম্বারের ছেলে ফারুক হোসেনের কাছ থেকে ৮২ লাখ টাকায় ক্রয় করেন।

বাদীর দাবি, সম্পত্তিটির মূল দলিল ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর রূপালী ব্যাংক শাখায় বন্ধক রেখে ফারুক হোসেন ২৫ লাখ টাকার সিসি ঋণ নিয়েছিলেন। সময়ের ব্যবধানে সুদ-আসলে ঋণের পরিমাণ প্রায় ৩৫ লাখ টাকায় পৌঁছায়। পরে তিনি নিজ ব্যাংক হিসাব থেকে ওই ঋণ পরিশোধ করেন। ঋণ পরিশোধের পর ব্যাংক কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে জীবননগর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে আইনানুগভাবে তার নামে সম্পত্তির রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হয়।

ওমর ফারুক অভিযোগ করেন, রেজিস্ট্রির পর তিনি জানতে পারেন যে একই সম্পত্তি এর আগেই ফারুক হোসেন কথিতভাবে তার স্ত্রী আফরোজা খাতুনের নামে হেবা দলিল করে দিয়েছেন। বিষয়টি সামনে আসার পর জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়।

তিনি আরও জানান, সম্পত্তির দখল নিতে গেলে বিভিন্ন আইনি বাধার সম্মুখীন হতে হয় তাকে। পরে জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান খোকন খানের উদ্যোগে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকের পর তিনি জমির দখল বুঝে পান বলে দাবি করেন।

অভিযোগকারী আরও বলেন, পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে স্থানীয় একটি পত্রিকায় মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি আদালতেও তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আত্মপক্ষ সমর্থন ও আইনি প্রতিকার চেয়ে তিনি ফারুক হোসেনসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। ওই মামলায় ফারুক হোসেন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন বলে জানান তিনি।

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, তারা জানেন যে ওমর ফারুক উক্ত সম্পত্তি ক্রয় করেছেন। তবে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আফরোজা খাতুনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে তার ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। ফলে অভিযোগের সত্যতা ও মালিকানা সংক্রান্ত বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করছে।

স্থানীয়ভাবে আলোচিত এ ঘটনায় এখন আদালতের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট পক্ষ ও এলাকাবাসী।