০৩:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জীবননগরের ধোপাখালীতে রাস্তা নিয়ে বিরোধ, স্বজনদের হয়রানির অভিযোগ

  • জীবননগর অফিস
  • প্রকাশের সময় : ০৩:০৪:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
  • ৫২৮ Views
Ada. Munna Telecom1

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের ধোপাখালী মাঠপাড়া গ্রামে নিজের জমিতে গাছ লাগিয়ে স্বজনদের জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নেওয়ার চেষ্টা এবং দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অভিযোগের মাধ্যমে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে পারভিন খাতুনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করেছেন বলেও জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধোপাখালী মাঠপাড়া গ্রামের বাসিন্দা পারভিন খাতুন দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে আছেন। বিষয়টি নিয়ে তার স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।

পারভিন খাতুনের চাচাতো ভাসুর ওহিদুল ইসলাম (শান্তি) এবং ননদের জামাই লাটু মিয়া অভিযোগ করে বলেন, পারভিন খাতুনের স্বামী আনারুল কবির তাদের চাচাতো ভাই ও চাচাতো শ্যালক ছিলেন। পারিবারিক বিভিন্ন বিরোধ ও অশান্তির কারণে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। তাদের দাবি, প্রায় সাত বছর আগে আনারুল কবির ফেসবুকে একটি আবেগঘন পোস্ট দিয়ে আত্মহত্যা করেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, “আমি নীরবে চলে গেলাম”।

তারা আরও অভিযোগ করেন, আনারুল কবির জীবিত থাকাকালেই পারভিন খাতুন রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় তার ছোট দেবর আমিনুর রহমান গ্রাম ছেড়ে জীবননগর শহরে চলে যেতে বাধ্য হন। রাস্তার সুবিধার জন্য তারা নিজ নিজ জমি থেকে তিন ফুট করে জায়গা ছেড়ে রেখেছেন বলেও জানান।

অভিযোগকারীদের দাবি, পারভিন খাতুন নিজের রাস্তার জন্য নির্ধারিত জায়গা দখল করে সেখানে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। পরবর্তীতে আরও কিছু জমি ক্রয় করে সেই জমিতে গাছ লাগান। বর্তমানে নিজের জমিতে লাগানো গাছ অপসারণ না করে অন্যের জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

ওহিদুল ইসলাম ও লাটু মিয়া বলেন, “প্রথমে তিনি নিজের রাস্তার জায়গা দখলমুক্ত করুন এবং সেখানে লাগানো গাছ সরিয়ে নিন। এরপর আমরা যে রাস্তার জন্য জমি ছেড়ে রেখেছি, সেটি ব্যবহার করা যেতে পারে।”

তাদের অভিযোগ, বাড়ি ও কৃষিজমি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পারভিন খাতুন প্রায়ই আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করে আসছেন। ইতোমধ্যে তাদের ও আশপাশের কয়েকজনের বিরুদ্ধে ১০ থেকে ১২টি অভিযোগ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

তারা আরও জানান, অভিযোগের পর বিচার-সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অধিকাংশ সময় পারভিন খাতুন সেখানে উপস্থিত হন না। সর্বশেষ তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে অভিযোগ দিলে বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তির পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে আদালতের আশ্রয় না নিয়ে তিনি বিভিন্নভাবে হয়রানি অব্যাহত রেখেছেন বলে অভিযোগ তাদের।

অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, গত ৫ আগস্টের পর পারভিন খাতুন সেনাবাহিনীর কাছেও অভিযোগ করেছিলেন। তদন্তে গিয়ে সেনাবাহিনীর সদস্যরা তার অভিযোগের যথার্থতা পাননি এবং তাকেই দায়ী করেছেন বলে তারা দাবি করেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে পারভিন খাতুন বলেন, “বাড়ির সামনের জমিও আমার। গ্রামের লোকজন সবাই তাদের পক্ষ নিয়ে কথা বলছে। কিন্তু আমি সঠিক অবস্থানে আছি।”

এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনো স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

আলমডাঙ্গায় জাল দলিলে ৭০ শতক জমি হাতছাড়া : ন্যায়বিচারের আশায় ৯০ বছরের বিধবা সন্ধ্যা রানী

জীবননগরের ধোপাখালীতে রাস্তা নিয়ে বিরোধ, স্বজনদের হয়রানির অভিযোগ

প্রকাশের সময় : ০৩:০৪:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের ধোপাখালী মাঠপাড়া গ্রামে নিজের জমিতে গাছ লাগিয়ে স্বজনদের জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নেওয়ার চেষ্টা এবং দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অভিযোগের মাধ্যমে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে পারভিন খাতুনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করেছেন বলেও জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধোপাখালী মাঠপাড়া গ্রামের বাসিন্দা পারভিন খাতুন দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে আছেন। বিষয়টি নিয়ে তার স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।

পারভিন খাতুনের চাচাতো ভাসুর ওহিদুল ইসলাম (শান্তি) এবং ননদের জামাই লাটু মিয়া অভিযোগ করে বলেন, পারভিন খাতুনের স্বামী আনারুল কবির তাদের চাচাতো ভাই ও চাচাতো শ্যালক ছিলেন। পারিবারিক বিভিন্ন বিরোধ ও অশান্তির কারণে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। তাদের দাবি, প্রায় সাত বছর আগে আনারুল কবির ফেসবুকে একটি আবেগঘন পোস্ট দিয়ে আত্মহত্যা করেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, “আমি নীরবে চলে গেলাম”।

তারা আরও অভিযোগ করেন, আনারুল কবির জীবিত থাকাকালেই পারভিন খাতুন রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় তার ছোট দেবর আমিনুর রহমান গ্রাম ছেড়ে জীবননগর শহরে চলে যেতে বাধ্য হন। রাস্তার সুবিধার জন্য তারা নিজ নিজ জমি থেকে তিন ফুট করে জায়গা ছেড়ে রেখেছেন বলেও জানান।

অভিযোগকারীদের দাবি, পারভিন খাতুন নিজের রাস্তার জন্য নির্ধারিত জায়গা দখল করে সেখানে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। পরবর্তীতে আরও কিছু জমি ক্রয় করে সেই জমিতে গাছ লাগান। বর্তমানে নিজের জমিতে লাগানো গাছ অপসারণ না করে অন্যের জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

ওহিদুল ইসলাম ও লাটু মিয়া বলেন, “প্রথমে তিনি নিজের রাস্তার জায়গা দখলমুক্ত করুন এবং সেখানে লাগানো গাছ সরিয়ে নিন। এরপর আমরা যে রাস্তার জন্য জমি ছেড়ে রেখেছি, সেটি ব্যবহার করা যেতে পারে।”

তাদের অভিযোগ, বাড়ি ও কৃষিজমি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পারভিন খাতুন প্রায়ই আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করে আসছেন। ইতোমধ্যে তাদের ও আশপাশের কয়েকজনের বিরুদ্ধে ১০ থেকে ১২টি অভিযোগ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

তারা আরও জানান, অভিযোগের পর বিচার-সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অধিকাংশ সময় পারভিন খাতুন সেখানে উপস্থিত হন না। সর্বশেষ তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে অভিযোগ দিলে বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তির পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে আদালতের আশ্রয় না নিয়ে তিনি বিভিন্নভাবে হয়রানি অব্যাহত রেখেছেন বলে অভিযোগ তাদের।

অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, গত ৫ আগস্টের পর পারভিন খাতুন সেনাবাহিনীর কাছেও অভিযোগ করেছিলেন। তদন্তে গিয়ে সেনাবাহিনীর সদস্যরা তার অভিযোগের যথার্থতা পাননি এবং তাকেই দায়ী করেছেন বলে তারা দাবি করেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে পারভিন খাতুন বলেন, “বাড়ির সামনের জমিও আমার। গ্রামের লোকজন সবাই তাদের পক্ষ নিয়ে কথা বলছে। কিন্তু আমি সঠিক অবস্থানে আছি।”

এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনো স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।