১১:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যমজ কন্যাসন্তান জন্মের পর স্ত্রীকে তালাকে র অভিযোগ, বিচার চাইলেন স্বামীর বিরুদ্ধে

Ada. Munna Telecom1

ঝিনাইদহের মহেশপুরে যমজ কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ার পর যৌতুকের চাপ ও নির্যাতনের শিকার হয়ে তালাকপ্রাপ্ত হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন রীনা খাতুন (২২) নামের এক তরুণী। স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন কন্যাসন্তান জন্ম নেওয়ার বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালায় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

রীনা খাতুন উপজেলার কাজীরবেড় ইউনিয়নের পুরাতন কোলা গ্রামের প্রয়াত পীর বক্সের মেয়ে। সম্প্রতি তিনি মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়ে ঘটনার বিচার দাবি করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পাশের নতুন কোলা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে রাকিবুল ইসলামের সঙ্গে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রীনার বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর তিনি অন্তঃসত্ত্বা হন। পরে চিকিৎসকের মাধ্যমে জানতে পারেন, তার গর্ভে যমজ সন্তান রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সন্তান দুটির লিঙ্গ কন্যা হবে জানতে পারার পর থেকেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের আচরণ বদলে যায় এবং শুরু হয় নানা ধরনের মানসিক নির্যাতন।

একপর্যায়ে পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠলে রীনা বাবার বাড়িতে চলে আসেন। পরে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি দুটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। বর্তমানে শিশু দুটির বয়স প্রায় ছয় মাস। অভিযোগ অনুযায়ী, জন্মের পর থেকে একবারের জন্যও স্বামী বা তার পরিবারের কেউ শিশুদের খোঁজখবর নেয়নি।

রীনা খাতুন অভিযোগ করেন, কন্যাসন্তান জন্ম নেওয়াকে কেন্দ্র করে তাকে বিভিন্নভাবে অপমান করা হতো এবং যৌতুকের জন্য চাপ দেওয়া হতো। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার মীমাংসার চেষ্টা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। গ্রামের মাতবরদের উদ্যোগও ব্যর্থ হয়। পরে থানা-পুলিশের দ্বারস্থ হলেও কোনো প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেন তিনি। সর্বশেষ কয়েকদিন আগে ডাক বিভাগের মাধ্যমে তার কাছে তালাকনামা পাঠানো হয়।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে রীনা বলেন, “কন্যাসন্তান হওয়ায় আমার কী দোষ? সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে, সেটা তো আমার হাতে নেই। শুধু মেয়ে সন্তান হয়েছে বলে আমাকে নির্যাতন করা হয়েছে, যৌতুকের জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে। শেষে তালাকও দেওয়া হয়েছে। এখন দুই শিশুকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি।”

তিনি আরও বলেন, দুই শিশুর বুকের দুধের সংকুলান না হওয়ায় প্রতি মাসে প্রায় ১২ হাজার টাকার খাবার কিনতে হচ্ছে। বাবা বেঁচে নেই। আমার বিধবা মায়ের পক্ষে এই খরচ বহন করা খুবই কষ্টকর। আমাকে না দেখুক, অন্তত নিজের সন্তানদের দায়িত্ব তো নেওয়া উচিত।

এ বিষয়ে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, বিষয়টি তার নজরে এসেছে। টিকাদান কর্মসূচির সময় ওই নারীর সঙ্গে কথা বলে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছিল। পরে তিনি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

ইউএনও জানান, আগামী বুধবার এ বিষয়ে শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। উভয় পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল কন্যাসন্তান জন্মের মতো বিষয়কে কেন্দ্র করে কোনো নারীর প্রতি বৈষম্য ও নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

আলমডাঙ্গায় জাল দলিলে ৭০ শতক জমি হাতছাড়া : ন্যায়বিচারের আশায় ৯০ বছরের বিধবা সন্ধ্যা রানী

যমজ কন্যাসন্তান জন্মের পর স্ত্রীকে তালাকে র অভিযোগ, বিচার চাইলেন স্বামীর বিরুদ্ধে

প্রকাশের সময় : ০৬:৫২:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

ঝিনাইদহের মহেশপুরে যমজ কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ার পর যৌতুকের চাপ ও নির্যাতনের শিকার হয়ে তালাকপ্রাপ্ত হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন রীনা খাতুন (২২) নামের এক তরুণী। স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন কন্যাসন্তান জন্ম নেওয়ার বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালায় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

রীনা খাতুন উপজেলার কাজীরবেড় ইউনিয়নের পুরাতন কোলা গ্রামের প্রয়াত পীর বক্সের মেয়ে। সম্প্রতি তিনি মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়ে ঘটনার বিচার দাবি করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পাশের নতুন কোলা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে রাকিবুল ইসলামের সঙ্গে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রীনার বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর তিনি অন্তঃসত্ত্বা হন। পরে চিকিৎসকের মাধ্যমে জানতে পারেন, তার গর্ভে যমজ সন্তান রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সন্তান দুটির লিঙ্গ কন্যা হবে জানতে পারার পর থেকেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের আচরণ বদলে যায় এবং শুরু হয় নানা ধরনের মানসিক নির্যাতন।

একপর্যায়ে পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠলে রীনা বাবার বাড়িতে চলে আসেন। পরে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি দুটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। বর্তমানে শিশু দুটির বয়স প্রায় ছয় মাস। অভিযোগ অনুযায়ী, জন্মের পর থেকে একবারের জন্যও স্বামী বা তার পরিবারের কেউ শিশুদের খোঁজখবর নেয়নি।

রীনা খাতুন অভিযোগ করেন, কন্যাসন্তান জন্ম নেওয়াকে কেন্দ্র করে তাকে বিভিন্নভাবে অপমান করা হতো এবং যৌতুকের জন্য চাপ দেওয়া হতো। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার মীমাংসার চেষ্টা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। গ্রামের মাতবরদের উদ্যোগও ব্যর্থ হয়। পরে থানা-পুলিশের দ্বারস্থ হলেও কোনো প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেন তিনি। সর্বশেষ কয়েকদিন আগে ডাক বিভাগের মাধ্যমে তার কাছে তালাকনামা পাঠানো হয়।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে রীনা বলেন, “কন্যাসন্তান হওয়ায় আমার কী দোষ? সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে, সেটা তো আমার হাতে নেই। শুধু মেয়ে সন্তান হয়েছে বলে আমাকে নির্যাতন করা হয়েছে, যৌতুকের জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে। শেষে তালাকও দেওয়া হয়েছে। এখন দুই শিশুকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি।”

তিনি আরও বলেন, দুই শিশুর বুকের দুধের সংকুলান না হওয়ায় প্রতি মাসে প্রায় ১২ হাজার টাকার খাবার কিনতে হচ্ছে। বাবা বেঁচে নেই। আমার বিধবা মায়ের পক্ষে এই খরচ বহন করা খুবই কষ্টকর। আমাকে না দেখুক, অন্তত নিজের সন্তানদের দায়িত্ব তো নেওয়া উচিত।

এ বিষয়ে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, বিষয়টি তার নজরে এসেছে। টিকাদান কর্মসূচির সময় ওই নারীর সঙ্গে কথা বলে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছিল। পরে তিনি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

ইউএনও জানান, আগামী বুধবার এ বিষয়ে শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। উভয় পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল কন্যাসন্তান জন্মের মতো বিষয়কে কেন্দ্র করে কোনো নারীর প্রতি বৈষম্য ও নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।